মিছিলে বোমা হামলায় মামলা আসামি ৭৭ জন

মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলায় ঈগল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী তাহমিনা বেগমের সমর্থকদের মিছিলে বোমা হামলার ঘটনায় মামলা হয়েছে। এতে উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা ফজলুর হক ব্যাপারীকে প্রধান আসামি করে ৫৭ জনের নাম উল্লেখ ও ১৫ থেকে ২০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার দুপুরে কালকিনি থানায় মামলাটি রেকর্ড করা হয়েছে।

কালকিনি থানার ওসি নাজমুল হাসান জানান, বোমা হামলার ঘটনায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক কাজী মোফাজ্জেল হোসেন বাদী হয়ে থানায় এজাহার দেন। পুলিশ অভিযোগ আমলে নিয়ে মামলাটি রেকর্ড করেছে। এতে ৫৭ জনকে এজাহারভুক্ত আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে। বাকি আসামিদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে। ওসি জানান, গ্রেপ্তার দুজন হলেন লক্ষ্মীপুর এলাকার খলিলুর তালুকদারের ছেলে এবাদুল ইসলাম (২৫) ও একই এলাকার জব্বার করিকরের ছেলে ইমরান হোসেন (২৬)।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী তাহমিনা বেগমের সমর্থকরা একটি মিছিল বের করেন। মিছিলটি লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের মৃধার মোড় থেকে হাবিবুর সরদারের বাড়ি পর্যন্ত গেলে নৌকার প্রার্থীর সমর্থক ফজলুর হক ব্যাপারীর লোকজন তাদের বাধা দেন। এ সময় ‘নৌকা নৌকা’ বলে মিছিলে অতর্কিত কয়েকটি হাতবোমা নিক্ষেপ করা হয়। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে পাঁচজন আটক করলেও দুজনকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে।

স্বতন্ত্র প্রার্থী তাহমিনা বেগম বলেন, ‘নৌকার প্রার্থী আবদুস সোবহান গোলাপ ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে আমাদের মিছিলে বোমা হামলা করিয়েছেন। এর আগেও ফজলুর হক ব্যাপারী এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করেছেন। ওই সন্ত্রাসীর (ফজলুর হক) নির্দেশনায় আবারও বোমা হামলা হলো। যারা বোমা হামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। নয়তো নির্বাচনে এই এলাকায় সহিংসতা কমবে না।

মামলার বাদী কাজী মোফাজ্জেল হোসেন বলেন, আমাদের মিছিলে পরিকল্পিতভাবে বোমা হামলা করা হয়েছে। হামলার মূল পরিকল্পনাকারী ফজলুর হক ব্যাপারীসহ ৫৭ জনকে আসামি করে এজাহার দিলেও পুলিশ মূল অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অনীহা দেখাচ্ছে।

অভিযোগের বিষয়ে ফজলুর হক বলেন, ঈগলের লোকজন আমাদের লক্ষ্য করে বোমা মারেন। এতে আমাদের লোকজন আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন। আমরাও থানায় লিখিত অভিযোগ দেব। তারা অপরাধ করে আমার দিকে দোষ দিচ্ছেন। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে নৌকার প্রচারণায় আছি।

ঈগল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী তাহমিনা বেগম কালকিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সংরক্ষিত নারী আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য। অন্যদিকে আবদুস সোবহান মিয়া আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার ও প্রকাশনাবিষয়ক সম্পাদক। তিনি একাদশ সংসদ নির্বাচনে মাদারীপুর-৩ আসনে প্রথমবার সংসদ সদস্য হন।