আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপি লাল কার্ড খেয়ে খেলা থেকে বাদ পড়েছে, কেন বাদ পড়েছে, ফাউল করে। তাদের আর রাজনীতির মাঠে খেলার সুযোগ নেই। বিএনপির মুখে গণতন্ত্রের কথা শুনলে ঘোড়াও হাসে। বিএনপি গণতন্ত্র করবে, এটা শুনলে ঘোড়াও ডিম পাড়ে। গতকাল শনিবার নোয়াখালীর কবিরহাট বাজারের বঙ্গবন্ধু চত্বরে এক পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন। উপজেলার সর্বস্তরের জনগণের ব্যানারে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি হলো একটি ভুয়া দল। বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিএনপি হলো পরগাছা। এ পরগাছাকে রাজনীতি থেকে অস্তিত্বহীন করতে হবে। এরা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ মানে না, এরা বাংলাদেশের স্বাধীনতা মানে না। এরা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছে, হত্যাকারী মোস্তাক-জিয়া জেলখানায় হত্যাকা- ঘটিয়েছে, আগস্ট মাসের ২১ তারিখে শেখ হাসিনাকে হত্যা করার জন্য গ্রেনেড হামলা করিয়েছে। তিনি বলেন, পল্টনের ময়দান, নয়াপল্টনের রাস্তা থেকে পালিয়ে গেল কারা? এক দফা গেল কোথায়? ৫৪ দল কোথায় গেল? ৩২ দফা কোথায় গেল? রাষ্ট্র মেরামতের ২৮ দফা কোথায় গেল?
সেতুমন্ত্রী বলেন, পল্টনে প্রকাশ্য দিবালোকে একজন পুলিশকে পিটিয়ে পিটিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে বিএনপি। এরা প্রধান বিচারপতির বাড়িতে হামলা করেছে, পুলিশের হাসপাতালে হামলা করেছে। এরা সেদিন একজন আনসারকে পিটিয়ে হত্যা করেছে। ওরা গাজীপুরে ট্রেনের গ্যাজলাইন থেকে কয়েকটি প্রাণ রক্তাক্ত করেছে। এরা সেদিন মায়ের বুকে শিশু ও আরও দুজনকে হত্যা করেছে। এরা কারা? এরা আগুন সন্ত্রাস। এরা কারা? এরা খুনীর দল। এরা কারা? এরা গণতন্ত্র হত্যাকারী দল। এরা কারা? এরা তারা, প্রহসনের নির্বাচন ১৫ ফেব্রুয়ারি, যারা ২০০৬ সালে ১ কোটি ২৩ লাখ ভুয়া ভোটার তৈরি করেছিল প্রহসনের নির্বাচন করতে। এরা তারা, মাগুরায় প্রহসনের নির্বাচন, ঢাকা-১০-এ জালিয়াতির নির্বাচন। এরা নাকি গণতন্ত্র দেবে।
কাদের বলেন, বাংলার জনগণ তাদের সঙ্গে অসহযোগ করবে। বিএনপি আজকে প্ল্যান করছে, খাজনা দেবে না, ট্যাক্স দেবে না।
তারেক রহমানকে ইঙ্গিত করে ওবায়দুল কাদের বলেন, আজকে লন্ডনে বসে, দ-িত আসামি তারেক রিমোট কন্ট্রোলে বিএনপি চালায়। তারেক মনে করেছে বঙ্গবন্ধুর ডাকে ’৭১ সালে অসহযোগ হয়েছে। আজ তারেকের কথায় অসহযোগ নেই। বাংলাদেশের জনগণ তারেকের সঙ্গে অসহযোগিতা করবে, অসহযোগ করবে। অসহযোগ করে বিএনপি নামক পরগাছাকে হটিয়ে দেবে।
তিনি এলাকার ভোটারদের উদ্দেশ্য করে বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব যদি বাঁচাতে চান, ক্ষমতার মঞ্চে আমরা শেখ হাসিনাকে আবারও চাই। গণতন্ত্রকে বাঁচাতে হলে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় থাকতে হবে। স্বাধীনতা ও উন্নয়ন বাঁচাতে হলে শেখ হাসিনার বিকল্প নেই। ক্ষমতার মঞ্চে শেখ হাসিনার বিকল্প নেই।
নিজ এলাকার বিভিন্ন উন্নয়নের বিষয়ে বলেন, এই কবিরহাট এক সময় অবহেলিত ছিল। এখানে গত ১৫ বছরে রাস্তাঘাট, বিদ্যুৎ, কালভার্ট, স্কুল, কলেজসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক উন্নয়ন করা হয়েছে। আগামী দিনে শেখ হাসিনার উন্নয়নকে রক্ষা করতে হলে, মুক্তিযুদ্ধকে বাঁচাতে হলে ৭ তারিখ ফাইনাল খেলায় জিততে হবে।
এর আগে সকালে ওবায়দুল কাদের নিজ নির্বাচনী এলাকা নোয়াখালী-৫ আসনের কোম্পানীগঞ্জের বসুরহাট, শান্তিরহাট, রংমালা বাজার, বাংলাবাজার, পেশকারহাট, নতুনবাজার টেকেরবাজারসহ আশপাশের কয়েকটি এলাকায় গণসংযোগ করেন।