বাংলা দ্বিতীয় পত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সারাংশ বা সারমর্ম। অনেকেই সারাংশ/সারমর্ম কীভাবে লিখবে বুঝতে না পেরে মুখস্থ করে। কিন্তু নিয়ম জানা থাকলে অল্পসময়েই সারাংশ/সারমর্ম লেখা যায়। এতে সময় সাশ্রয় হয়। ফলে অন্য বিষয় যেমন ভাব-সম্প্রসারণ বা রচনা লিখন যেগুলোতে বেশি সময় লাগে সেগুলোতে মনোযোগ দেওয়া যায়। সারাংশ বা সারমর্ম লেখার নিয়ম জানাচ্ছেন মোহাম্মদপুর কমার্শিয়াল ইনস্টিটিউট সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সেলিনা সিমি।
আকারে বড় গদ্যের সংক্ষিপ্ত প্রকাশকে সারাংশ এবং একটি পদ্যের মূলভাবকে সারমর্ম বলা হয়। প্রবন্ধ-কবিতা ছোট-বড় আকারে থাকতে পারে। কোনো কিছু বোঝাতে গিয়ে নানা প্রসঙ্গ আসতে পারে, বাক্যের সংখ্যাও বাড়তে পারে। প্রবন্ধ বা কবিতা যত বড়ই হোক, এর মূল ভাব সংক্ষিপ্তই হয়ে থাকে। সারাংশ বা সারমর্মে সেটিই লিখতে বলা হয়। সহজ ও সাবলীল ভাষায় প্রবন্ধ বা কবিতার অন্তর্নিহিত ভাব লেখাই হলো সারাংশ বা সারমর্ম লিখন।
বারবার পড়ে হৃদয়ঙ্গম করো
প্রদত্ত প্রবন্ধ বা কবিতার অংশটুকু কয়েকবার পড়ো। কী বুঝানো হয়েছে বুঝতে চেষ্টা করো। ভালোভাবে পড়লেই মূল বিষয়বস্তু বোঝা যাবে। যদি মূল ভাব একাধিক বলে মনে হয় তাহলে আসল মূলভাব বোঝার সহজ উপায় হলো রচনার বাক্যগুলোর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ লাইনগুলো শনাক্ত করা। মূলভাবটি কোন অংশে বর্ণিত হয়েছে তা চিহ্নিত করো। এরপর বাক্যগুলোর সঙ্গে কোন ভাবটি বেশি কাছাকাছি তা যাচাই করো। আগে মূল ভাব বুঝতে হবে, এরপর সাজিয়ে সংক্ষেপে লিখতে হবে। সারমর্ম বা সারাংশ লেখার সময় অনুচ্ছেদের কথা বা বাক্য পরিহার করো।
দরকারি-অদরকারি অংশ
কোন বাক্যগুলো দরকারি, কোনগুলো অদরকারি সেগুলো আলাদা করো। তাহলে লেখার কাজটা সহজ হবে। মূল রচনার যে অংশটা প্রশ্নে থাকবে, সেখানে উল্লিখিত উদ্ধৃতি, বর্ণনা, সংলাপ, উদাহরণ, উপমা এগুলো মূল ভাবকে বোধগম্য করতে সাহায্য করলেও মূল ভাব বা সারাংশ/সারমর্ম লেখার ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয়, এগুলো পরিহার করো।
বাক্য বা শব্দ সংখ্যা
সারমর্ম কিংবা সারাংশ বড় করে লেখার সুযোগ নেই। আর লেখার গ-ি অবশ্যই রচনার মূল ভাবের মধ্যেই সীমিত রাখতে হবে। এখানে নিজের ইচ্ছামতো কোনো মন্তব্য বা মতামত লেখা যাবে না। নির্দিষ্ট করে বলা না হলেও পরীক্ষক আশা করেন সারাংশ/সারমর্ম তিন-চারটি স্বাভাবিক (চার-পাঁচ শব্দ বিশিষ্ট বাক্য) বাক্যের মধ্যেই সমাপ্ত হবে।