দেশে আগামী ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষা ৯ ফেব্রুয়ারি এবং বিডিএস বা ডেন্টাল ৮ মার্চ সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হবে। এ বছর ভর্তি ফি বাড়ানো হয়নি। পাস নম্বর আগের মতোই ৪০ থাকছে। তবে দ্বিতীয়বার পরীক্ষা দিলে এবার আগেরবারের চেয়ে দুই নম্বর বেশি, অর্থাৎ ১০ নম্বর কাটা যাবে।
গতকাল রবিবার দুপুরে সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ভর্তি পরীক্ষা-সংক্রান্ত সভা শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক এই দুই পরীক্ষার বিস্তারিত তথ্য জানান।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বিগত ১০ বছরে এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতি হয়নি। এ বছরের পরীক্ষায়ও যাতে কোনো ধরনের অনিয়ম, অবহেলা না হয় সে বিষয়ে সব ধরনের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পরীক্ষায় অংশ নিতে ১১-২৩ জানুয়ারি পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করা যাবে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, পরীক্ষার এক মাস আগে থেকে অর্থাৎ আগামী বছরের ৯ জানুয়ারি থেকে ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সব ধরনের মেডিকেল কোচিং সেন্টার বন্ধ থাকবে। এ বছর এমবিবিএস পরীক্ষায় পাস নম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে ৪০।
এ বছর এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষার জন্য বিদেশি শিক্ষার্থীরা ৪ জানুয়ারি থেকে এবং দেশি শিক্ষার্থীরা ১০ জানুয়ারি থেকে আবেদন করতে পারবেন। আবেদনের শেষ সময় ২৩ জানুয়ারি। ভর্তির জন্য ফি জমা নেওয়া শুরু করা হবে ২৪ জানুয়ারি থেকে এবং রোল বা আসন বরাদ্দ করা হবে ২৬ জানুয়ারি থেকে। পরীক্ষার প্রবেশপত্র বিতরণ করা হবে ৫ জানুয়ারি থেকে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, এ বছর সরকারি ও বেসরকারি মিলে আসন ১১ হাজার ৭২৮টি। এর মধ্যে সরকারি মেডিকেল কলেজে আসন ৫ হাজার ৩৮০টি, যা গত বছরের চেয়ে ১ হাজার ৩০টি বেশি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজের আসন ৬ হাজার ৩৪৮টি। এ ছাড়া আর্মি মেডিকেল কলেজের আরও ৩৭৫টি আসন রয়েছে। সেখানেও একই দিন পরীক্ষা হবে।
এ সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, পরীক্ষা পদ্ধতি অনেক উন্নত করা হয়েছে। এখন ডিজিটাল পদ্ধতিতে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করা হয়। যেখানে প্রশ্ন প্রস্তুত করা হয়, বিশেষ কয়েকজনের মধ্যে সেটা সীমাবদ্ধ থাকে। এমনভাবে করা হয়, ওখানে কেউ ঢুকতেও পারেন না আর যারা প্রশ্ন তৈরি করেন তারাও ওখান থেকে বের হন না; প্রশ্ন বণ্টন হয়ে যাওয়ার পর তারা বের হতে পারেন।’
তিনি আরও বলেন, একজনের করা প্রশ্ন আরেকজন প্রশ্নকারী জানতে পারেন না। ডিজিটাল পদ্ধতিতে প্রশ্ন বিভিন্ন জায়গায় পাঠানো হয়। কেউ যদি প্রশ্ন আগে খোলার বা নেওয়ার চেষ্টা করে, তাহলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর অফিসের ট্র্যাকিং সিস্টেমে তা ধরা পড়বে। কোচিং সেন্টারগুলোও বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে মোবাইল ফোন নিতে দেওয়া হয় না। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকদের কাছেও মোবাইল ফোন থাকে না।
জাহিদ মালেক বলেন, গতবার দেড় লাখ পরীক্ষার্থী আবেদন করেছিলেন। এ বছর আশা করি আরও বেশি আবেদন করবেন। সেজন্য সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
এ সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, এখন আর ভর্তির ক্ষেত্রে বেসরকারি কলেজের অনিয়ম করার সুযোগ নেই। কারণ মেধার ভিত্তিতে উত্তীর্ণদের তালিকা করা হয় ও ভর্তি নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বিষয়টি কঠোরভাবে তদারকি করে। বেসরকারি মেডিকেল কলেজ এখন অনেক মানসম্মত হয়েছে। যেগুলোর ঘাটতি থাকে, সেগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। ইতিমধ্যে প্রায় পাঁচ-ছয়টি মেডিকেল কলেজ বন্ধ হয়ে গেছে।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব জাহাঙ্গীর আলম, স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের সচিব আজিজুর রহমান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. টিটো মিয়া, প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ অ্যাসোসিয়েশন সভাপতি মুবিন খান, বাংলাদেশ মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিলের প্রতিনিধি অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ শহীদুল্লা, সিলেট ওসমানী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এনায়েত হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।