স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, ‘স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় একটি বিশাল মন্ত্রণালয়। বাইরের লোকরা বোঝেনা, সাংবাদিকরাও বোঝে না। দেশের লোকরাও বোঝে না, যে এটা কত বড় মন্ত্রণালয়। এটা চাল-ডাল কেনাবেচা না। এটা রড-সিমেন্টের বিষয় না।’
আজ সোমবার (২৫ ডিসেম্বর) সকালে মানিকগঞ্জে করোনাভাইরাস বিষয়ক ১০০টির অধিক গবেষণাপত্র সংবলিত সংকলনের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এটা মানুষের জীবন নিয়ে কাজ করে। কত ধরনের সমস্যা, কত ধরণের বিষয়, কত ধরনের অসুখ-বিসুখ, কত ধরণের চাহিদা। এই জিনিসটা বাইরে থেকে লোক বুঝতে পারে না। এত বড় জনবল, সাড়ে তিন লাখ লোক। ১০টি মন্ত্রণালয় মিলেও সাড়ে তিন লাখ লোক নাই। সবাই শিক্ষিত, সবাই সেরা ছাত্র। তাদেরকে নিয়ে কাজ করা একদিকে আনন্দের, আবার চ্যালেঞ্জিংয়ের।’
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, 'করোনা মহামারিকালে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার পাশাপাশি চিকিৎসকগণ বৈজ্ঞানিক গবেষণাকর্মও সম্পন্ন করেছেন। চিকিৎসা সেবার পাশাপাশি এই গবেষণার কাজে যারা নিজেদের আত্মনিয়োগ করেছেন তারা প্রশংসার দাবিদার।'
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, 'কোভিড নিয়ন্ত্রনে বাংলাদেশ এশিয়ার মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করেছে এবং বিশ্বে হয়েছে পঞ্চম। এটা কোনো ম্যাজিক নয়। সকলে কাজ করেছি। পরিশ্রম করেছি। কোভিডের কথা উঠলেই অনেক স্মৃতি মনে পড়ে। তখনকার সময় না বুঝে ডাক্তারদের সমালোচনা, নার্সদের সমোলোচনা, আমাদের সমালোচনা করা হয়েছে। সমোলোচনার অন্ত ছিল না। আমাদের স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয় যে সেবাটা দিয়েছে, বহু দেশের স্বাস্থ্যবিভাগ তা দিতে পারে নাই। বড় বড় রাষ্ট্রও দিতে পারে নাই। আমেরিকা ফেল করেছে। ট্রাম্প সেজন্য বিদায় নিয়েছে। আমারিকায় ১২ লাখ, ভারতে ৭-৮ লাখ, ব্রাজিলে প্রায় ১০ লাখ লোক মারা গেছে। ইউরোপের ছোট ছোট রাষ্ট্রের জনসংখ্যা কম। সেসব রাষ্ট্রেরও গড়ে তিন লাখ লোক মারা গেছে। আমাদের দেশে অল্প কিছু লোক মারা গেছে। অনেক রাষ্টে্র ভ্যাকসিন আনার আগেই বাংলাদে তার জনগনকে ৩৬ কোটি ভ্যাকসিন দিতে সক্ষম হয়েছে। এতকিছুর পরেও আমরা প্রশংসা পাই না। কারণ বাঙালিরা প্রশংসা করতে জানে না। অবশ্য পরে প্রশংসা পেয়েছি দেশে-বিদেশে সবখানেই।'
তিনি বলেন, '৮-১০ দিন পর নির্বাচন। আমরা প্রচার প্রচারণায় ব্যাস্ত। তারপরও আমরা কাজ করে যাচ্ছি। গতকালও ঢাকায় গিয়েছিলাম। তিনটি মিটিং করেছি। সামনে যে এমবিবিএস, বিডিএস ভর্তি পরীক্ষা রয়েছে। এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি। পরীক্ষার সিডিউল করে দিয়েছি। অন্য গুরুত্বপূর্ণ কাজ ছিল। সেগুলিও করেছি।’
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন গবেষণা সংকলনটির সম্পাদক এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. বায়জীদ খুরশীদ রিয়াজ, অন্যান্য গবেষকগন ও স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের চিকিৎসকবৃন্দ।