মস্কোর বিরুদ্ধে আইটি সেনারাও লড়ছে

ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় যেসব এলাকা রাশিয়া দখল করেছে, সেই সব জায়গায় গত অক্টোবর মাসের শেষ দিকে হ্যাকাররা ইন্টারনেট পরিষেবা বিচ্ছিন্ন করে দেয়। কিছু জায়গায় ইন্টারনেট সংযোগ ফিরিয়ে আনতে কয়েক দিন পর্যন্ত সময় লেগে যায়। ওই সময় এই সাইবার আক্রমণের দায় স্বীকার করে নেয় ইউক্রেনের তথ্যপ্রযুক্তির খাতের সক্রিয় স্বেচ্ছাসেবী হ্যাকাররা যারা ‘আইটি সেনা’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

সাইবার দুনিয়ায় ইউক্রেনের পক্ষ নিয়ে রাশিয়ার বিরুদ্ধে আক্রমণ চালানোর ঘটনা অনেক। স্বেচ্ছাসেবী আইটি সেনারাই এসব হামলার কাজ করছে। এসব কাজের প্রকৃতি পুরোপুরি গোপন যার বেশিরভাগই অবৈধ। এসব কাজে ভূমিকা রাখা গোষ্ঠীগুলোর কাজ পরিপূর্ণরূপে মূল্যায়ন করার সুযোগও নেই। কিন্তু সাইবার দুনিয়ার গবেষকরা বলছেন, গত বছর ফেব্রুয়ারি মাসে রুশ আগ্রাসন শুরুর পর থেকে সাইবার দুনিয়ায় ইউক্রেনের লড়াই ভালোভাবেই যুদ্ধকে প্রভাবিত করেছে।

সুইজারল্যান্ডের ইটিএইচ জুরিখের নিরাপত্তা অধ্যয়ন কেন্দ্রের ‘সাইবারডিফেন্স’ প্রকল্পের প্রধান স্টিফান সোয়েস্যান্টো বলেন, ‘সাইবার হামলার লক্ষ্য হচ্ছে রাষ্ট্র হিসেবে রাশিয়ার অবস্থানকে অবমূল্যায়ন করা এবং রাশিয়া যে তার পরিষেবা প্রতিষ্ঠানগুলো রক্ষা করতে পারে না তা দেখানো। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে গেলে, এসব কাজের একটি প্রভাব রয়েছে, বিশেষ করে সেই প্রভাব রাশিয়ার মানুষের মানসিকতার ওপর পড়ছে।’

ইউক্রেনের ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট এবং টেলিগ্রাম চ্যানেলের মাধ্যমে আইটি সেনাদের কর্মকা- সমন্বয় করে। সেই সূত্রে জানা যায়, আইটি সেনারা চলতি বছর অপেক্ষাকৃত কমসংখ্যক প্রতিষ্ঠানের ওপর নজর দিয়ে বেশি মাত্রায় ক্ষতিসাধনের কৌশল নিয়েছে; বিশেষ করে তাদের দৃষ্টি হচ্ছে, রাশিয়ার আর্থিক ও অবকাঠামো খাতের বড় বড় ক্ষেত্রে নজর দেওয়া যা শেষ পর্যন্ত সামরিক বাহিনীরও ক্ষতির কারণ হতে পারে। 

আইটি সেনাদের একটি সূত্র জানায়, চলতি বছর ১৩০টি সাইবার আক্রমণের ঘটনা জনসমক্ষে প্রকাশ করা রয়েছে। সেনারা ৪০০টির বেশি রুশপন্থি লক্ষ্যবস্তুতে হানা দিয়েছে। এ ছাড়া বহু আক্রমণ রয়েছে, যা কৌশলগত নানা কারণে সামনে আনা হচ্ছে না।