কয়েক দশকের মধ্যে তীব্র ‘এল নিনো’র সতর্কতা

আপডেট : ০৪ জুন ২০২৬, ০১:২৯ এএম

বিশ্বজুড়ে আগামী মাসগুলোতে তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও চরম আবহাওয়ার ঝুঁকি বাড়াতে পারে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ। গত মঙ্গলবার বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) এই পূর্বাভাস দিয়ে বিশ্ববাসীকে সতর্ক করেছে এবং উদ্ভূত পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। মূলত ওশেনিয়া অঞ্চলের আবহাওয়ার বিশেষ রূপ ‘এল নিনো’র প্রভাবে প্রশান্ত মহাসাগরের জলবায়ুর এই পরিবর্তনের আশঙ্কা বেড়েছে। সাধারণত মধ্য ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার প্রক্রিয়াকে ‘এল নিনো’ বলা হয়। সংস্থাটি জানিয়েছে, প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণ পানি এল নিনোর বিকাশে জ্বালানি জোগাচ্ছে। আগামী জুন থেকে আগস্ট মাসের মধ্যে এল নিনো সক্রিয় হওয়ার শঙ্কা ৮০ শতাংশ। এর প্রভাবে জুন থেকে অগাস্ট পর্যন্ত বিশ্বের বেশিরভাগ অংশে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রা থাকার সম্ভাবনা ৮০ শতাংশ। আর আগামী নভেম্বরের মধ্যে তা আরও শক্তি সঞ্চয় করে প্রায় ৯০ শতাংশে পোঁছতে পারে।

তবে সংস্থাটি এও বলেছে যে, ‘এল নিনো’ কতটা শক্তিশালী হবে তা নিয়ে বিভিন্ন মডেলে ভিন্নতা থাকায় কিছুটা অনিশ্চয়তা আছে। তবে এর তীব্রতা মোকাবিলার প্রস্তুতি নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন কর্মকর্তারা। ডব্লিউএমও-র মহাসচিব সেলেস্তে সাউলো বলেন, আমাদের একটি সম্ভাব্য শক্তিশালী এল নিনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত হতে হবে। এটি খরা ও ভারী বৃষ্টিপাতের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেবে। সঙ্গে স্থলভাগ ও মহাসাগর, উভয় ক্ষেত্রেই দাবদাহের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়বে। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এক ভিডিওবার্তায় বলেন, বিজ্ঞান স্পষ্ট আগামী মাসগুলোতে ৯০ শতাংশ নিশ্চিত বার্তা নিয়ে এল নিনো আমাদের দোরগোড়ায় কড়া নাড়ছে। বিশ্ববাসীকে এটিকে একটি জরুরি জলবায়ু সতর্কতা হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। কয়েকটি দেশের আবহাওয়া সংস্থার বেশ কয়েকটি পূর্বাভাসে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, এটি ইতিহাসের অন্যতম শক্তিশালী এল নিনোতে পরিণত হতে পারে, যাকে সম্ভাব্য ‘সুপার’ এল নিনো বলা হচ্ছে।

এল নিনো একটি প্রাকৃতিক আবহাওয়াগত প্রক্রিয়া, যা সাধারণত প্রতি দুই থেকে সাত বছর পরপর ফিরে আসে; এর স্থায়িত্ব হয় প্রায় ৯ থেকে ১২ মাস। এর প্রভাবে বিশ্বজুড়ে বাতাস, বায়ুচাপ এবং বৃষ্টিপাতের ধরনে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। ডব্লিউএমওর তথ্যমতে, এল নিনোর প্রভাবে দক্ষিণ আমেরিকার দক্ষিণাঞ্চল, যুক্তরাষ্ট্রের কিছু অংশ, হর্ন অব আফ্রিকার অন্তর্ভুক্ত অঞ্চল এবং মধ্য এশিয়ায় বৃষ্টিপাত বাড়তে পারে। এর বিপরীতে অস্ট্রেলিয়া, ইন্দোনেশিয়া, মধ্য আমেরিকা এবং দক্ষিণ এশিয়ার কিছু অংশে তীব্র খরা দেখা দিতে পারে। এ ছাড়া মধ্য ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে শক্তিশালী হ্যারিকেন বা ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হতে পারে। জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, এবারের এল নিনো মাঝারি থেকে তীব্র রূপ নিতে পারে। এর প্রভাব হবে আরও সুদূরপ্রসারী এবং অত্যন্ত দ্রুত গতিতে তা সীমান্ত পেরিয়ে ছড়িয়ে পড়বে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত