হাতে হ্যান্ডকাফ মুখে কাপড় বেঁধে নির্যাতন র‌্যাবের!

যশোরে অস্ত্র উদ্ধার অভিযানে গিয়ে এক রিকশাচালককে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে র‌্যাবের বিরুদ্ধে। গত রবিবার বিকেল ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত যশোর শহরে তার ভাড়া বাসায় নির্যাতনের এ ঘটনা ঘটে বলে দাবি ওই রিকশাচালকের। এরপর থেকে তিনি ও তার পরিবার আতঙ্কিত। গতকাল সোমবার যশোর প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে র‌্যাবের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ করেন রিকশাচালক ইউনুচ আলী (৩৫)।

তিনি যশোর শহরের চাঁচড়া রায়পাড়া সার গোডাউন এলাকার একটি বাড়িতে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ভাড়া থাকেন।

মাকে নিয়ে প্রেস ক্লাবে এসে ইউনুচ জামা খুলে নির্যাতনের চিহ্ন দেখান। তার শরীরে বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। পায়ে আঘাত করার কারণে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটতে দেখা যায়।

ইউনুচ আলী বলেন, ‘রবিবার রাতে ৩০ থেকে ৩৫ বছর বয়সী চারজন লোক আমার বাসায় এলেন। এসে জিজ্ঞাসা করলেন, “আপনার নাম কি ইউনুচ?” বললাম হ্যাঁ। এই বলেই তারা ঘরে ঢুকে বললেন, “আমরা র‌্যাবের লোক”। তারপর চারপাশ তাকিয়ে একজন আমাকে বললেন, “মালডা কই?” বুঝতে না পেরে আমি বললাম কি জিনিস স্যার? তখন তাদের মধ্যে একজন বলল, “বুঝবি! যখন হাত পা বেঁধে ঝুলাব” কিছু না পেয়ে আমাকে হাতে হ্যান্ডকাফ লাগালেন তারা। আমার মুখ বেঁধে ফেললেন। এরপর লাঠি দিয়ে তারা আমাকে বেধড়ক মারধর করেন। মুখ বাঁধার কারণে চিৎকার করতে পারিনি। আমার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন আছে। এ ঘটনায় আমি আতঙ্কিত।’

তবে নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করে র‌্যাব-৬ যশোরের কোম্পানি অধিনায়ক মেজর মোহাম্মদ সাকিব হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ইউনুচের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। আমাদের কাছে তথ্য ছিল ইউনুচের বাড়িতে অস্ত্র রাখা আছে। জিজ্ঞাসাবাদে অস্ত্র রাখার বিষয়টি ইউনুচ ও তার মা স্বীকার করেছেন। তবে অভিযানের আগেই অভিযুক্ত ব্যক্তি অস্ত্রটি নিয়ে গেছেন।’

ইউনুচের মা রাবেয়া বেগম বলেন, ‘আমরা অনেক গরিব মানুষ। আমার ছেলে রিকশা চালিয়ে সংসার চালায়। কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত না। কোনো মামলাও নেই। তারপরেও মিথ্যা অভিযোগে র‌্যাব আমার ছেলেকে নির্যাতন করেছে। ছেলেটা এখন অনেক অসুস্থ।’