রকেট মার্কায় ভোট করছেন সরকারি চাকরিজীবী!

সরকারি চাকরির তথ্য গোপন করে সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ায় সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য সহকারী মোহাম্মদ সালাহউদ্দিনকে কারণ দর্শানোর নোটিস দিয়েছে সিভিল সার্জন কার্যালয়। পাশাপাশি গত রবিবার বিষয়টি চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে।

চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন ডা. মো. ইলিয়াছ চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে জানান, গত রবিবার তারা বিষয়টি রিটার্নিং কর্মকর্তাকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা ইসিকে জানিয়েছি সরকারি চাকরি থেকে পদত্যাগ না করেই মো. সালাহউদ্দিন নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন। তার নির্বাচনী প্রতীক রকেট।’

এর আগে ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও নির্বাচন কমিশন তার মনোনয়নপত্র বাতিল করলেও আদালতে আপিল করে প্রার্থিতা ফিরে পান সালাহউদ্দিন। তবে মনোনয়নপত্রে তিনি সরকারি চাকরির কথা উল্লেখ না করে ব্যবসাকে পেশা হিসেবে উল্লেখ করেন। সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কর্মকর্তা ডা. নুরউদ্দিন বলেন, সালাহউদ্দিন কর্মস্থল থেকে ছুটি না নিয়ে গত ১৮ নভেম্বর থেকে অফিসে অনুপস্থিত আছেন। কর্র্তৃপক্ষ তাকে এ পর্যন্ত তিনবার কারণ দর্শানোর চিঠি দিলেও তিনি কোনো উত্তর দেননি। চিঠিতে তার কাছে জানতে চাওয়া হয়, ‘কেন তিনি অনুমতি ছাড়া অফিসে অনুপস্থিত আছেন এবং কেন তিনি সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধি লঙ্ঘন করে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। কিন্তু তিনি এতে কোনো কর্ণপাত করেননি।’

চট্টগ্রাম-৪ আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা তোফায়েল ইসলাম জানান, রবিবার তিনি সিভিল সার্জনের চিঠি পেয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা যাচাই-বাছাই করে সালাহউদ্দিনের প্রার্থিতা বাতিল করেছিলাম। কিন্তু তিনি আদালতে আপিল করে প্রার্থিতা ফিরে পান। আমরা জানতাম না যে তিনি একজন সরকারি কর্মচারী। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী আমরা তাকে নির্বাচনী প্রতীক বরাদ্দ দিয়েছি। তাকে রকেট প্রতীক দেওয়া হয়েছে। সিভিল সার্জনের চিঠি পাওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি ইসিকে জানিয়েছি। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী আমরা পরবর্তী ব্যবস্থা নেব।’