১০ হাজারের বেশি ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সারা দেশে ৪২ হাজার ১৪৯টি কেন্দ্রের মধ্য ১০ হাজার ৩০০টি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) চিঠি দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। গতকাল মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বশীল সূত্রে বিষয়টি জানা গেছে। অবশ্য কমিশন বলছে, তাদের কাছে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র বলতে কিছু নেই। উল্লিখিত কেন্দ্রগুলোকে তারা গুরুত্বপূর্ণ বা অতি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করছে।

এদিকে আগে ২৯ ডিসেম্বর থেকে ৩০০ সংসদীয় আসনে সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত থাকলেও গতকাল জানানো হয়েছে আগামী ৩ থেকে ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত মাঠে থাকবে সশস্ত্র বাহিনী।

গতকাল এক প্রশ্নের জবাবে ইসির অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ বলেন, আমাদের কাছে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র বলতে কিছু নেই। আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বা অতি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র রয়েছে। অতি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে আনসার সদস্যের পাশাপাশি পুলিশের সংখ্যা বেশি থাকে। গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে সংখ্যাটা কম থাকে। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্বে সমস্যা হলে সেগুলো অতি গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, এবারের নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রগুলোতে ৬ লাখ ৮৭ হাজার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে। যার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দুই লাখ ১৫ হাজার সদস্য মোতায়েন থাকবে। সাধারণ ভোট কেন্দ্রে ৪ লাখ ৭২ হাজার সদস্য মোতায়েন থাকবে। মেট্রোপলিটন এলাকার বাইরে অস্ত্রধারী দুজন পুলিশ, অস্ত্রধারী একজন আনসার, অস্ত্র বা লাঠিধারী একজন আনসার, ১০ জন আনসার, লাঠি হাতে একজন বা দুজন গ্রামপুলিশ সদস্যসহ ১৫-১৬ জনের একটি দল সব সাধারণ ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা দেবে। তবে, প্রতি গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্রের ক্ষেত্রে (যেগুলো ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত) অস্ত্রসহ তিনজন পুলিশসহ ১৬-১৭ জনের একটি দল থাকবে।

ইসির অতিরিক্ত সচিব জানান, মেট্রোপলিটন এলাকার ভেতরের সব ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে ১৫ সদস্যের একটি নিরাপত্তা দল। যার মধ্যে অস্ত্রধারী তিনজন পুলিশ সদস্য, অস্ত্রধারী একজন আনসার, অস্ত্র বা লাঠিধারী আরেকজন আনসার এবং ১০ জন আনসার সদস্যের দল প্রতি ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। তবে, গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্র হলে ১৬ সদস্যের একটি নিরাপত্তা দল পাহারা দেবে এবং অস্ত্রধারী পুলিশ সদস্য সংখ্যা তিনজনের পরিবর্তে চারজন হবে।

৩ জানুয়ারি থেকে মাঠে নামবে সশস্ত্র বাহিনী

আগামী ৩ জানুয়ারি থেকে ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত ভোটের মাঠে দায়িত্ব পালন করবে সশস্ত্র বাহিনী। সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ থেকে পাঠানো এক চিঠি থেকে এ তথ্য জানা গেছে। চিঠিতে সশস্ত্র বাহিনীর প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসারের পক্ষে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হুসাইন মুহাম্মাদ মাসীহুর রাহমান স্বাক্ষর করেন।

ইসি জানায়, ৩০০ সংসদীয় আসনে আগামী ৩ থেকে ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত সশস্ত্র বাহিনী নিয়োগের জন্য আদেশ দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ। এ সংক্রান্ত চিঠিতে জানানো হয়, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশনের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা প্রদানের নিমিত্তে ইন এইড টু দ্য সিভিল পাওয়ারের আওতায় সমগ্র বাংলাদেশের ৩০০টি নির্বাচনী এলাকায় আগামী ৩ জানুয়ারি থেকে ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত (যাতায়াত সময়সীমা ছাড়া) সশস্ত্র বাহিনী নিয়োগের জন্য আদেশ প্রদান করা হলো।