পাবনার ঈশ্বরদীতে ছাত্রলীগ ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, গুলিবর্ষণ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে ঈশ্বরদী পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পিয়ারপুর এলাকায় নৌকার প্রচারণার সময় বিএনপি নেতাকর্মীরা ভোট বর্জনের লিফলেট বিলি করতে থাকেন। এ-সময় উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এদিকে গতকাল লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় নির্বাচনবিরোধী লিফলেট বিতরণের সময় পুলিশ লাঠিচার্জ করেছে বলে অভিযোগ তুলেছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা।
ঈশ্বরদী পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি ও স্থানীয় বাসিন্দা আবীর হাসান শৈশব জানান, সকালে পিয়ারপুর এলাকায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা নৌকা মার্কার প্রচারণা চালাচ্ছিল। এ-সময় বিএনপির লোকজন ওই এলাকায় ভোটবিরোধী লিফলেট বিতরণ করছিল। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের হাতাহাতি ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হলে বিএনপির লোকজন পালিয়ে যায়। পরে বিএনপির নেতাকর্মীরা ‘প্রস্তুতি’ নিয়ে পিয়ারপুরে ছাত্রলীগ অফিসে হামলা চালান। এ-সময় তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে কয়েক রাউন্ড গুলিবর্ষণ এবং তিনটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়।
স্থানীয় দোকানিরা জানান, ঘটনার সময় কয়েক রাউন্ড গুলিবর্ষণ ও ৩টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। তবে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে বিএনপির দায়িত্বশীল একাধিক নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাদের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
ঈশ্বরদী থানার ওসি (তদন্ত) মনিরুল ইসলাম বলেন, পিয়ারপুর এলাকায় বিএনপির লোকজন ভোটবিরোধী লিফলেট বিতরণ করছিল। এ-সময় ছাত্রলীগ নৌকা মার্কার প্রচারণা চালাচ্ছিল। একপর্যায়ে উভয়ের মধ্যে ধাওয়া ও পাল্টা ধাওয়া, গুলিবর্ষণ এবং ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা প্রতিরোধে পুলিশ ব্যাপক তৎপর রয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের হবে।
ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। যুবলীগ ও ছাত্রলীগের উদ্যোগে ওই এলাকায় দফায় দফায় মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এদিকে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় দইখাওয়া মোড় থেকে গতকাল দুপুরে বিএনপি একটি মিছিল বের করে শহর প্রদিক্ষণ শেষে উপজেলা পরিষদ গেটে সমাবেশে মিলিত হয়। সেখানে পুলিশ অতর্কিতভাবে বিএনপিকর্মীদের ওপর লাঠিচার্জ করে। বিএনপি সূত্র জানায়, বিএনপির কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে উপজেলার দইখাওয়া মোড় থেকে সাবেক এমপিপুত্র বিএনপি নেতা সাহেদুজ্জামান কোয়েলের নেতৃত্বে একটি নির্বাচনবিরোধী বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। এ সময় তারা দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার আহবান জানিয়ে লিফলেট বিতরণ করেন। পরে উপজেলা শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদিক্ষণ শেষে উপজেলা পরিষদ গেটের সামনে এক সমাবেশে মিলিত হন। বিএনপি নেতা সাহেদুজ্জামান কোয়েল বক্তব্য শুরু করলে পুলিশ অতর্কিতভাবে লাঠিচার্জ শুরু করে।
বিএনপি নেতা সাহেদুজ্জামান কোয়েল বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণভাবে মিছিল ও সমাবেশ করছিলাম। এ সময় ক্ষমতাসীন দলের পেটোয়া বাহিনী পুলিশ আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে আমাদের ৬-৭ জন নেতাকর্মী আহত হন। শুধু তাই নয়, বাড়িতে ঢুকেও পুলিশ হামলা চালিয়েছে।
হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, তারা রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে জানমালের ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি সৃষ্টি করছিল। যাতে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বিঘিœত না হয় সেটি বিবেচনা করেই আমরা তাদের ছত্রভঙ্গ করেছি।
লিফলেট বিতরণ কালে ২ বিএনপি নেতা আটক : দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট বর্জনের লিফলেট বিতরণের সময় জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকসহ ২ বিএনপি নেতাকে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ফুলবাড়ী পৌর শহরের টিটির মোড়ে লিফলেট বিতরণকালে তাদের আটক করে পুলিশ।
আটককৃতরা হলেন দিনাজপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ফুলবাড়ী পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহাদৎ আলী সাহাজুল (৫০) ও ফুলবাড়ী পৌর যুবদলের আহব্বায়ক শফিকুল ইসলাম জুয়েল (৪৫)।
ফুলবাড়ী থানার ওসি মোস্তাফিজার রহমান বলেন, ধৃত বিএনপি নেতা শাহাদাৎ আলী সাহাজুল নাশকতা মামলার এজাহার ভুক্ত আসামি ও শফিকুল ইসলাম জুয়েল সন্দেহভাজন আসামি যা প্রাথমিক তদন্তে সংশ্লিষ্টরা পাওয়া গেছে। ভোট বর্জনের লিফলেট বিতরণের সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।