চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীর বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন ও সাংবাদিককে মারধর-নাজেহালের অপরাধে আদালতে মামলা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বাঁশখালী উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. হারুন মোল্লা বাদী হয়ে মামলাটি করেন। এদিকে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে নৌকার প্রচারণায় অংশ নেওয়ায় ৮ প্রিসাইডিং কর্মকর্তাসহ ১২ জনকে গতকাল কারণ দর্শানোর চিঠি দিয়েছে নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটি। এছাড়া সাভারে দুই প্রার্থীসহ ৭ জনকে শোকজ করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল দেব-এর আদালতে বাঁশখালী উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার দায়ের করা মামলার ব্যাপারে চট্টগ্রাম জেলা পিপি অ্যাডভোকেট শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী বলেন, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন এবং সাংবাদিকদের নাজেহালের অপরাধে নির্বাচনী আচরণবিধি আইনের ৮(খ) ধারায় মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীর নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ২০ থেকে ৩০ জনকে আসামি করে আদালতে মামলার আবেদন করা হয়। আদালত ফৌজদারি কার্যবিধি ২০০ ধারায় বাদী মো. হারুন মোল্লার জবানবন্দি গ্রহণ করে ও রিটার্নিং অপরাধ আমলে নিয়ে আসামির বিরুদ্ধে সমন জারি করে। আগামী ৩ জানুয়ারির মধ্যে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
এদিকে মামলার ব্যাপারে মামলার বাদী বাঁশখালী উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. হারুন মোল্লা বলেন, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে মামলা করা হয়েছে। মামলায় একজনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত ২০-৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এদিকে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে কারণ দর্শানোর চিঠি পাওয়া ৮ প্রিসাইডিং অফিসার হলেন দুপ্তারা সেন্ট্রাল করোনেশন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গিয়াস উদ্দিন সরকার, রোকন উদ্দিন মোল্লা গার্লস ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক মইনুল হোসেন মানিক, গোপালদী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাদেকুর রহমান কামাল, জাঙ্গালিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহেদুল হক, জাহানারা বেগম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফজলুল হক এবং উজান গোপিন্দী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনোয়ারুজ্জামান খাঁন। সহকারী প্রিসাইডিং অফিসাররা হলেন গাজীপুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লোকমান হোসেন, প্যানেলভুক্ত পোলিং অফিসার উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের স্বাস্থ্য সহকারী কর্মকর্তা লুৎফুন্নাহার। বাকি ৪ জন আওয়ামী লীগ নেতা হলেন খাগকান্দা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আরিফুল ইসলাম, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাজেদুল হক রুবেল, যুবলীগের সভাপতি মাহবুবুল আলম, উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহিদা মোশারফ।
এর আগে সোমবার বিকেলে উপজেলার খাগকান্দা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে নৌকার প্রার্থীর পক্ষে এই নির্বাচনী উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, দেশের বিভিন্ন ডিজিটাল মাধ্যম ও গণমাধ্যমের সচিত্র প্রতিবেদন সূত্রে গোচরীভূত হয়েছে যে, বিভিন্ন সময় নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনের আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী নজরুল ইসলাম ওরফে বাবুর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণ করেছেন। আপনি বর্তমান প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে প্যানেলভুক্ত রয়েছেন এবং ইতিমধ্যে প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে আপনার ট্রেনিং সম্পন্ন হয়েছে। এরূপ পর্যায়ে আপনার নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণ নির্বাচন সংশ্লিষ্ট আইনের চরম লঙ্ঘন।
আপনার উপযুক্ত কর্মকা-ের জন্য আপনার বিরুদ্ধে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট আইনভঙ্গের দায়ে বিধি মোতাবেক পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য নির্বাচন কমিশন বরাবরে কেন সুপারিশ করা হবে না সে মর্মে আগামী ২৭ ডিসেম্বর দুপুর ১২টায় নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালত ভবনের ২০৫ নম্বর কক্ষে অবস্থিত কার্যালয়ে সশরীরে উপস্থিত হয়ে কারণ দর্শানোর জন্য আপনাকে নির্দেশ প্রদান করা হলো।
অন্যদিকে ঢাকা-১৯ আসনে আচরণবিধি লঙ্ঘন করায় আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী, স্বতন্ত্র প্রার্থী, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যানসহ ৭ জনকে কারণ দর্শানোর নোটিস (শোকজ) দিয়েছে নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটি। গত রবিবার ঢাকা-১৯ (সাভার-আশুলিয়া) আসনের নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটির চেয়ারম্যান ও সিনিয়র সহকারী জজ জাকির হোসেন স্বাক্ষরিত এসব নোটিস পৃথকভাবে ৭ জনকেই দেওয়া হয়েছে।
কারণ দর্শানোর নোটিসপ্রাপ্তরা হলেন আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান, স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ইয়াসমিন চৌধুরী সুমি, পাথালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. পারভেজ দেওয়ান। এছাড়া অন্যরা হলেন রকি, মো. সাইদ ও টিপু।
এদিকে গাজীপুরের শ্রীপুরে স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা, পথসভায় ভাঙচুরসহ আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে নৌকার সমর্থক এক ইউপি চেয়ারম্যানসহ আটজনকে কারণ দর্শানোর জন্য নির্দেশ দিয়েছেন গাজীপুর-৩ আসনের নির্বাচন অনুসন্ধান কমিটির প্রধান জাকির হোসাইন। গতকাল এসব নোটিস জারি করে চিঠি ইস্যু করা হয়েছে।
প্রতিবেদন তৈরিতে সহযোগিতা করেছেন বাঁশখালী (চট্টগ্রাম), আড়াইহাজার (নারায়ণগঞ্জ), শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি ও সাভার প্রতিনিধি