কোরআন মাজিদের সুরা আল আসরে ইরশাদ হয়েছে, ‘সময়ের কসম, মানুষ ক্ষতির মধ্যে নিমজ্জিত। তারা ছাড়া যারা ইমান এনেছে, সৎকাজ করেছে, একে অন্যকে হক কাজে ধৈর্যের উপদেশ দেয়।’ আল্লাহতায়ালা সময়ের কসম করে সময় ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব বাড়িয়ে দিয়েছেন। সময় মানে বিগত ও বর্তমান কাল হতে পারে। চলতি বা বর্তমান কাল কোনো দীর্ঘ সময়ের নাম নয়। বর্তমান কাল প্রতি মুহূর্তে বিগত হচ্ছে এবং অতীতে পরিণত হচ্ছে। আবার ভবিষ্যতের ভাণ্ডার থেকে প্রতিটি মুহূর্ত বের হয়ে এসে বর্তমানে পরিণত হচ্ছে এবং বর্তমান থেকে অতীতের না ফেরার অতল গহ্বরে চিরদিনের জন্য হারিয়ে যাচ্ছে। এখানে সময়ের কসম দ্বারা এই দুই ধরনের সময়ই অন্তর্ভুক্ত। অতীত কালের কসম মানে মানুষের ইতিহাস সাক্ষ্য দিচ্ছে যে, যারা সময়ের সঠিক ব্যবস্থাপনা করেছে আর যারা করেনি তাদের কার কী পরিণাম হয়েছে। আর বর্তমান কালের কসম খাওয়ার অর্থ হলো- এ কথাটি ভালোভাবে বুঝে নেওয়া যে, বর্তমান যে সময়টি অতিবাহিত হচ্ছে সেটি এমন একটি সময় যা প্রত্যেক ব্যক্তি ও জাতিকে কাজ করার জন্য দেওয়া হয়েছে। যারা এ সীমিত সময়ের সদ্ব্যবহার করবে কেবল তারাই সফলকাম হবে, পক্ষান্তরে অবহেলায় বিনষ্টকারীরা উভয় জগতে ক্ষতির সম্মুখীন হবে।
সুতরাং সময়কে সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সঠিক কাজে ব্যয় করে অধিক ফায়দা আহরণের চেষ্টা করতে হবে। বিশেষ করে নিষ্ফল বা নিরর্থক চাহিদাগুলো ছাঁটাই করে ফেলতে হবে জীবন থেকে।
কোরআন মাজিদ বলছে, ‘সেই মুমিনরা সফলকাম হয়েছে, যারা বাজে কাজ থেকে বিরত থেকেছে।’ -সুরা মুমিনুন : ১ ও ৩
এখানে ফালাহ মানে সাফল্য ও সমৃদ্ধি। এটি ক্ষতি, ঘাটতি, লোকসান ও ব্যর্থতার বিপরীত অর্থবোধক শব্দ। বাজে কাজ মানে এমন প্রত্যেকটি কথা ও কাজ যা অপ্রয়োজনীয়, অর্থহীন ও যাতে কোনো ফল লাভও হয় না, পরিণামে কল্যাণকর নয়, আসলে যার কোনো প্রয়োজন নেই এবং যেগুলোর উদ্দেশ্যও ভালো নয়। যারা মুমিন তারা এগুলো থেকে বিরত থাকে, সেদিকে তারা দৃষ্টি ফেরায় না, সে ব্যাপারে কোনো কৌতূহল প্রকাশ করে না, এ ধরনের কাজে তার মহামূল্যবান সীমিত সময় ব্যয় করে না।
সুরা ফুরকানে এ ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হলে বলা হয়েছে, ‘যখন তারা এমন কোনো জায়গা দিয়ে পথ চলে যেখানে বাজে কথা ও কাজের মহড়া চলে, তখন তারা ভদ্রভাবে জায়গা অতিক্রম করে চলে যায়।’ সংক্ষিপ্ত বাক্যটিতে প্রকৃত মুমিনের পরিচয় ধরে তোলা হয়েছে। অর্থাৎ মুমিন এমন ব্যক্তি যিনি সময় ব্যবস্থাপনায় বাজে কথা ও কাজকে প্রশ্রয় দেন না। অর্থাৎ অনর্থক বাজে কথা ও কাজে সময় ব্যয় মুমিনের কাজ নয়। দায়িত্বানুভূতির ব্যাপারে সদা জাগ্রত থাকেন। যে জিনিসটিকে জীবন, বয়স, সময় ইত্যাদি বিভিন্ন নামে অভিহিত করা হয় সেটি আসলে একটি মাপাজোখা মেয়াদ। এই মাপাজোখা সময় বাজে কথা ও কাজ পরিণামে যার কোনো কল্যাণকর কিছুই নেই, সেখানে সময় ব্যয় করা মানে নিজেকে ধ্বংস করা। মুমিনের অবসর সময় বলতে কিছু নেই; বরং একটু অবসর সময় যদি চলে আসেও তাতেও আল্লাহ কাজ দিয়ে দিচ্ছেন। ‘কাজেই যখনই অবসর পাও, ইবাদতের কঠোর শ্রমে লেগে যাও এবং নিজের রবের প্রতি মনোযোগ নিবদ্ধ করো।’ -সুরা আলামনাশরাহ : ৭-৮