বিদেশিদের সঙ্গে তলে তলে আপস হয়নি : মোমেন

আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে বিদেশিদের সঙ্গে তলে তলে কোনো আপস হয়নি বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন। তিনি বলেছেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বড় দেশের সঙ্গে আওয়ামী লীগের কোনো টানাপড়েন নেই। এ ছাড়া স্বতন্ত্রী প্রার্থীর আধিক্য নিয়ে হতে যাওয়া নির্বাচনে আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন থাকবে না বলেও মনে করেন তিনি।

গতকাল বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কয়েকজন সাংবাদিকের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।

নির্বাচন নিয়ে বড় দেশগুলোর টানাপড়েন কিংবা তলে তলে আপস হয়ে গেল কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ড. মোমেন বলেন, কোনো টানাপড়েন নেই। কারণ আমরা অবাধ ও সুষ্ঠু এবং সংঘাতহীন নির্বাচন করার বিষয়ে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। তলে তলে কিছুই হয়নি।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভারত, আমেরিকা ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন তারা আমাদের বন্ধু। তারা আমাদের উন্নয়ন সহযোগী। তাদের সঙ্গে আমাদের অনেক দিনের সম্পর্ক। আমেরিকার সঙ্গে আমাদের খুব ভালো সম্পর্ক। একাত্তরে আমেরিকা আমাদের বিপক্ষে থাকলেও যেদিন আমরা স্বাধীনতা পেলাম তারপর থেকে আমেরিকা আমাদের প্রতিনিয়ত সহযোগিতা করছে। সবসময় সমর্থন দিয়েছে। জাতিসংঘের সদস্যপদের জন্য ১৬টা প্রস্তাব এসেছে, ১৫টায় আমেরিকা আমাদের পক্ষে হ্যাঁ ভোট দিয়েছে।

তিনি বলেন, ভারত তো সবসময় আমাদের সহযোগিতা করে আসছে। এখনো সহযোগিতা করছে। তাদের সঙ্গে আমাদের সোনালি অধ্যায়। ইউরোপ আমাদের বড় বাজার। তারা যদি আমাদের অপছন্দ করত আমাদের জিনিস কিনত না। তারা (যুক্তরাষ্ট্র) লেবারের অবস্থা ভালো করতে চান, আমরা স্বাগত জানাই। তবে সেটা বাস্তব হতে হবে।

নির্বাচনে পশ্চিমা চাপ নিয়ে মোমেন বলেন, আমরা কখনো চাপ অনুভব করি না। আপনারা মিডিয়া আমাদের চাপ দিয়েছেন। আমাদের যে চাপ সেটা নিজেদের চাপ। আমরা নিজেরা চাপ অনুভব করি, যাতে একটা গ্রহণযোগ্য এবং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হয়। আমরা দুনিয়াকে দেখাতে চাই। অন্যদের তাগিদে না। অন্যরা আমাদের সাহায্যের জন্য এসেছে। আমেরিকা আমাদের সাহায্যের জন্য এসেছে।

মোমেন বলেন, আমেরিকা যেটা বলেছিল, যারা নির্বাচন প্রতিহিত করবে বা বর্জন করবে তাদের তারা ভিসানীতি প্রয়োগ করবে। আমি খুব খুশি হব, যদি তারা সত্যি সত্যি প্রয়োগ করে। তারা (বিএনপি) তো নির্বাচন বর্জন করছে। যাতে নির্বাচন না হয় তার জন্য প্রচার। আমেরিকা যে কমিটমেন্ট করে সেটা করলে ভালো।

নেতৃত্বের গাফিলতি এবং অপরিপক্বতার কারণে বিরোধী দল বিএনপি বিদেশিদের সমর্থন হারিয়েছে বলে মনে করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, আমাদের উল্টো দল, তাদের ওপর বিদেশি অনেকের বিশ্বাস হারিয়ে গেছে। আগে মনে করেছিল (বিদেশিরা) তারা বোধহয় খুব শক্তিশালী। কিন্তু ২৮ অক্টোবরের পর, আন্দোলনের পর দেখল এটা গণতান্ত্রিক দল না। গণতান্ত্রিক দল সন্ত্রাসী তৎপরতা করে না।

ভোটকেন্দ্রে ভোটার নিয়ে আসা বড় চ্যালেঞ্জ জানিয়ে মোমেন বলেন, আমাদের এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো, আমরা চাই অধিকসংখ্যক লোক যেন কেন্দ্রে এসে ভোট দেয়। উল্টো দল (বিএনপি) আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। কোনো আতঙ্কের কারণ নেই।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও সিলেট বিএনপির নেতাদের সঙ্গে ইইউ প্রতিনিধিদলের বৈঠক :

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচনী বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধিদল গতকাল সিলেটে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও সিলেট-১ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ড. এ কে আবদুল মোমেন এবং সিলেট বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে আলাদা বৈঠক করেছে। দুপুরে নগরীর একটি হোটেলে বিএনপি নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর সন্ধ্যায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসভবনে বৈঠকে মিলিত হয় ইইউ প্রতিনিধিদল। বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ইইউ প্রতিনিধিরা আসন্ন নির্বাচনসহ বিভিন্ন বিষয়ে দীর্ঘ সময় কথা বলেছেন। আমি তাদের জানিয়েছি বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার দেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এজন্য শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়েছে। অর্থাৎ অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হওয়ার জন্য যা যা প্রয়োজন সবই করেছে সরকার।’

এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘ইইউ প্রতিনিধিরা আমার প্রতিদ্বন্দ্বীদের ব্যাপারেও জানতে চেয়েছেন। আমি তাদের জানিয়েছি, এখানে দুজন প্রার্থী তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন। এর মধ্যে একজন আমার নিজ দলের স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন, তিনি স্বেচ্ছায় প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন। আরেকজন প্রার্থীও (জাপা মনোনীত প্রার্থী) স্বেচ্ছায় নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।’ এটাকে নিজের সৌভাগ্য হিসেবে আখ্যা দেন তিনি।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে ইইউ প্রতিনিধিদলে ছিলেন, রেবেকা কক্স ও শার্লোট সুয়েবেস। এর আগে দুপুর ১২টার দিকে সিলেট বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে তারা বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য খন্দকার আবদুল মুক্তাদির ও আরিফুল হক চৌধুরী, সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী অংশগ্রহণ করেন।