ইসিতে মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান

ভোট দিতে বাধ্য করা আচরণবিধির লঙ্ঘন

নির্বাচনে ভোটারদের ভোট দিতে বাধা দেওয়া মানবাধিকারের লঙ্ঘন ও ভোট দিতে বাধ্য করা আচরণবিধি লঙ্ঘন বলে মন্তব্য করেছেন মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন আহমেদ। গতকাল বৃহস্পতিবার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

এ সময় সাংবাদিকরা জানতে চান, ভোট দিতে কাউকে বাধ্য করা হলে সেটিও মানবাধিকারের লঙ্ঘন হবে কি না? এমন প্রশ্নের জবাবে কামাল উদ্দিন বলেন, কাউকে ভোট দিতে বাধ্য করা হলে, এটি প্রমাণিত হলে, সেটি হবে আচরণবিধির লঙ্ঘন। সেটা অবশ্যই নির্বাচন কমিশন দেখবে।

ভোট দিতে বাধ্য করা কেন মানবাধিকার লঙ্ঘন হবে না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কেউ ভোট দিতে না চাইলে, তাকে জোর করে নিয়ে গেলে, সে দিকটায়ও আমরা নজর রাখছি।’

মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান বলেন, ‘বিশ্বের কোনো কোনো দেশ আছে, যেখানে ভোট দেওয়া বাধ্যতামূলক, যেমন নিউজিল্যান্ড। কিন্তু আমাদের দেশে সে ধরনের নিয়ম নেই, সে কারণে আমি বলব, কেউ যদি ভোট না দিতে যান, তাহলে সেটা তার ইচ্ছা। কিন্তু কেউ যদি দিতে চান, তাকে বাধা দেওয়াও অনুচিত, এটা কিন্তু আইনের বরখেলাপ এবং এটা মানবাধিকার লঙ্ঘন।’

বিএনপিসহ ১৭টি দল নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না। তাহলে এটা কি নিরপেক্ষ নির্বাচন হতে পারে? এমন প্রশ্নের জবাবে কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘সাংবিধানিক দায়িত্বের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। কেউ যদি নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করেন, সে ক্ষেত্রে তিনি তার অধিকার ক্ষুণœ করলেন। কিন্তু এতে নিরপেক্ষতার ক্ষেত্রে কোনো সংঘাত সৃষ্টি করে না। কারও ইচ্ছা হলো নির্বাচন করলেন না। এটা না-ই করতে পারেন। তবে তাদের আহ্বান জানানো একান্তই উচিত।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপিকে আহ্বান জানানো হয়েছে বলে আমরা জানি, কিন্তু নির্বাচনে না এলে তা কী করা যাবে?’

মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান বলেন, ‘বৈঠকে আমরা মূলত নির্বাচন-পূর্বকালীন সময়ের আচরণ এবং কার্যক্রম, নির্বাচন সময়কার আচরণ এবং নির্বাচন-পরবর্তীকালের আচরণ বিষয় নিয়ে আমরা বিস্তারিত আলোচনা করেছি। আমরা অনেক সময় দেখেছি নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গ করেন অনেক প্রার্থী এবং কর্মীরা বিভিন্ন রকম উত্তেজনা সৃষ্টি করেন, মানুষের আস্থা অর্জন ব্যাহত হয়। এ ধরনের বিষয় যাতে না হয়, সেটা আমরা স্মরণ করিয়ে দিয়েছি। ওনাদের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে আমরা একমত হয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘নির্বাচনকালে অনেক সময় অনেক ধরনের উত্তেজনা সৃষ্টি করা হয়। বিশেষ করে যারা সংখ্যালঘু ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্য অথবা প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, তাদের ক্ষেত্রে অনেক ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হয়। সেগুলো যাতে না হয় এবং প্রত্যেক প্রার্থী ও ভোটাররা যাতে নিজের ভোট নিজে দিতে পারেন, সে বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য আমরা বলেছি।’