ভারতের উত্তর-পূর্বের আসাম রাজ্যের স্বাধীনতাকামী সংগঠন ‘ইউনাইটেড লিবারেশন ফ্রন্ট অব অসম (উলফা)’ দেশের কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের সঙ্গে শান্তিচুক্তি করেছে। গতকাল শুক্রবার নয়াদিল্লিতে এই চুক্তি হয়। তবে এখনো আলোচনা ও শান্তি প্রক্রিয়ায় আসেনি পরেশ বড়ুয়া ও তার অনুসারীরা।
রাজধানী নয়াদিল্লিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, আসামের মুখ্যমন্ত্রী বিজেপি নেতা হিমন্ত বিশ^শর্মার উপস্থিতিতে উলফার নেতৃত্বের একাংশ চুক্তি করে। ১২ বছর ধরে শান্তি আলোচনার পর গতকাল অরবিন্দ রাজখোয়ার নেতৃত্বাধীন উপদল কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের সঙ্গে চুক্তি সই করল। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ
সশস্ত্র বিদ্রোহের অবসান হওয়ার আশা করা হচ্ছে।
চুক্তি সইয়ের পর অমিত শাহ বলেন, ‘আজ আসামের ভবিষ্যতের উজ্জ্বল দিনের কারণে বিষয়টি আমার জন্য আনন্দের। দীর্ঘ সময় আসাম, উত্তর-পূর্বাঞ্চল সহিংসতার মধ্যে ছিল এবং এরপর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ২০১৪ সালে দায়িত্ব নেন যার কারণে দিল্লি ও উত্তর-পূর্বের দূরত্ব কমিয়ে আনার চেষ্টা করা হয়।’
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘পুরো উত্তর-পূর্বের, বিশেষত আসামের শান্তির জন্য এটি একটি নতুন সূচনা। আমি উলফার নেতৃত্বকে আশ্বস্ত করতে চাই যে, আপনারা ভারত সরকারের ওপর যে আস্থা রেখেছেন, তার ওপর দাঁড়িয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দিক থেকে একটি কর্মসূচি নেওয়া হবে যা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সব চাহিদা পূরণ করবে আপনাদের চাওয়ার আগেই।’ তিনি জানান, চুক্তি অনুযায়ী, উলফার সদস্যরা অস্ত্র সমর্পণ করবেন, সহিংসতা ছাড়বেন, সংগঠনকে অকার্যকর করে দেবেন, ঘাঁটিগুলোকে খালি করবেন এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্যে যোগ দেবেন।
অরবিন্দ রাজখোয়ার নেতৃত্বে পাঁচ শতাধিক যোদ্ধা চুক্তিতে সম্মতি দেন। এতে সমর্থন রয়েছে উলফার আরেক নেতা অনুপ চেটিয়ার। রাজখোয়ার নেতৃত্বাধীন অংশ গতকাল চুক্তি করলেও পরেশ বড়ুয়ার নেতৃত্বাধীন উপদল উলফা (ইন্ডিপেন্ডেন্ট) এখনো সক্রিয়। তিনি আলোচনাকে নাকচ করে দিয়ে এখনো তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। ধারণা করা হয়, তিনি চীন-মিয়ানমার সীমান্তের পাশে রয়েছেন।
অসমীয় জাতীয়তাবাদী আদর্শকে সামনে রেখে ১৯৭৯ সালে প্রতিষ্ঠিত উলফা সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ডাক দিয়ে সশস্ত্র সংগ্রাম শুরু করে। ১৯৯০ সালে কেন্দ্রীয় সরকার সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।
২০১১ সালে সেপ্টেম্বরে সশস্ত্র আন্দোলনের পথ থেকে সরে এসে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেন রাজখোয়া। ২০১২ সালে পরেশ বড়ুয়া আলোচনার রাস্তার সমালোচনা করেন এবং এখন তিনি আলাদাভাবে সক্রিয় রয়েছেন। উলফার সশস্ত্র তৎপরতার সঙ্গে বাংলাদেশের ভূমি ব্যবহারের অভিযোগ ছিল দীর্ঘদিনের। উলফার শীর্ষ নেতাদের কয়েকজন বাংলাদেশ থেকে গ্রেপ্তারও হন। বাঙালিসহ অ-অসমীয় জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অসমীদের মনোভাবকে কাজে লাগিয়ে সার্বভৌমত্বের দাবি করে তারা। গতকাল হওয়া চুক্তিতে তাদের সেইসব দাবিনামার প্রভাব দেখা গেছে। সূত্র জানিয়েছে, আসামের আদি জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ অধিকার, নাগরিকত্ব তালিকা পুনর্মূল্যায়ন, সংরক্ষণ সুবিধা ছাড়াও আর্থিক বিশেষ কর্মসূচি ঘোষণা করার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে চুক্তিতে। বিশেষ করে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের মতো ইস্যু চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।