যোগদানের আগেই ব্রিকস জোট ছাড়ল আর্জেন্টিনা

বিকাশমান পাঁচ অর্থনীতির দেশের জোট ব্রিকস-এর সদস্যপদের প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে আর্জেন্টিনা। জোটটিতে যোগদানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে গত শুক্রবার চিঠি পাঠিয়েছেন দেশটির নতুন প্রেসিডেন্ট হাভিয়ার মিলেই। আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। ডানপন্থি প্রেসিডেন্ট হাভিয়ার মিলেইয়ের দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য দায়ানা মোন্দিনো অবশ্য এক মাস আগেই এমন ঘোষণা দিয়েছিলেন। আর হাভিয়ার মিলেই ভোটের আগেই ব্রিকসে যোগ দেওয়ার বিরোধিতা করেন। তিনি নির্বাচনী প্রচারণাতেই বলেছিলেন, আমাদের ভূ-রাজনৈতিক সঙ্গী যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। আমরা কমিউনিস্টদের সঙ্গে মিত্রতা করতে যাচ্ছি না।

গতকাল এক প্রতিবেদনে এএফপি জানিয়েছে, হাভিয়ার মিলেই স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বলা হয়, ব্রিকসের সদস্য হওয়ার জন্য এখন উপযুক্ত সময় নয়। বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্রনীতি আগের সরকারের থেকে অনেক আলাদা। পূর্ববর্তী সরকারের অনেক সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা করা হবে। ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকা নিয়ে ব্রিকস জোট গঠিত। গত আগস্টে জোটটিতে আরও ছয় দেশকে সদস্য করার ঘোষণা দেওয়া হয়। মূলত, পশ্চিমা নেতৃত্বাধীন বৈশ্বিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য জোটটি গঠিত। ওই সময় বলা হয়েছিল আর্জেন্টিনা, ইথিওপিয়া, ইরান, সৌদি আরব, মিসর ও সংযুক্ত আরব আমিরাত ব্রিকসে যোগ দিচ্ছে। ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে তারা জোটের সদস্য হবে। তবে নতুন সরকার সেই পথ বন্ধ করে দিল। নির্বাচনের আগে এক সাক্ষাৎকারে মিলেই আর্জেন্টিনার স্থবির অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে দেশের মুদ্রা ব্যবস্থায় মার্কিন ডলার চালুর প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন। তাই অনুমেয় ছিল তারা ক্ষমতায় এলে ব্রিকস জোটে থাকবে না ম্যারাডোনা-মেসির দেশটি। দুই সপ্তাহ আগে এক সাক্ষাৎকারে মোন্দিনো জানান, ব্রিকসে বাণিজ্যিক স্বার্থের চেয়ে রাজনৈতিক স্বার্থই বেশি। তাছাড়া এর সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে এমনিতেই আর্জেন্টিনার বাণিজ্য সম্পর্ক রয়েছে।  

অবশ্য দেশটির সদ্য সাবেক প্রেসিডেন্ট আলবার্তো ফেরনান্দেজ অবশ্য ব্রিকসে যোগ দেওয়ার ব্যাপারে বেশ আগ্রহী ছিলেন।