আরব বসন্তের ভুলে যাওয়া নায়ক

আরব বসন্তের ঢেউ তখন মিসরকে আন্দোলিত করছে। ক্ষমতায় থাকতে মরণকামড় বসাচ্ছেন মিসরের তিন দশকের স্বৈরশাসক হোসনি মোবারক। রাজধানী কায়রোর তাহরির স্কয়ার বারুদের মতো ফুটছিল। তখন ঐতিহাসিক তাহরির স্কয়ারে বিশ্ববাসীর নজর কাড়ছিলেন এক তরুণ, যার নাম আলা আবদ আল-ফাত্তাহ। আরব বসন্তের ‘মিসর অধ্যায়ে’ আলার মতো আরও তরুণরা বুক চিতিয়ে লড়েছেন। অধিকারকর্মী ও লেখক আলা আবদ আল-ফাত্তাহ কিন্তু এখনো কারাবন্দিই রয়েছেন।

২০১১ সালের জানুয়ারি মাসে হোসনি মোবারকের প্রশাসন কায়রোজুড়ে নজিরবিহীন দমন-পীড়ন শুরু করে। আলা তখন উত্তপ্ত কায়রোর প্রতিবাদমুখর যুবক, যিনি তখন একাধারে লিখছেন, স্লোগান দিচ্ছেন, আবার সহযোদ্ধাদের উদ্বুদ্ধ করছেন। সেই সময় তৎকালীন মার্কিন পরাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিন্টন তাহরির স্কয়ারের আন্দোলনকর্মীদের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। এক যুগ আগে কায়রোতে দাঁড়িয়ে আলা একটি অবিস্মরণীয় মন্তব্য করেছিলেন, যা অক্ষরে অক্ষরে ফলে গেছে। হিলারির আসা নিয়ে তিনি তখন বলেছিলেন, ‘তারা আমাদের শিগগিরই ভুলে যাবে।’ সত্যিই তাই হয়েছে। আলাকে বাকি বিশ্ব ভুলে গেছে। মার্কিন প্রশাসনের অন্যতম অংশীদার এখন মিসরের সিসি প্রশাসন।

আলা এমনই সোচ্চার কণ্ঠস্বর, যিনি গণতান্ত্রিক মিসর প্রতিষ্ঠা, মতপ্রকাশ ও মানবাধিকারের দাবি তুলে হোসনি মোবারক, আরব বসন্ত-পরবর্তী মুসলিম ব্রাদারহুড শাসক মোহাম্মদ মুরসি, সামরিক প্রশাসন এবং এখনকার সিসিসবার রোষানলে পড়েছেন। ২০০৬ সালের ৭ মে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার দাবি তুলে গ্রেপ্তার হন তিনি। মোবারকের পতনের পর ক্ষমতায় আসা সেনা-প্রভাবিত কাউন্সিলের বিরুদ্ধে তিনি আওয়াজ তুলে গ্রেপ্তার হন ২০১১ সালের অক্টোবরে। ২০১১ সালের ডিসেম্বরে তিনি মুক্তি পেলেও তার ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। আবারও ২০১৪ সালে গ্রেপ্তার এবং কয়েক মাস পর মুক্তি লাভ করেন। ২০১৯ সালে আবারও গ্রেপ্তার। ২০২১ সালে ভুয়া সংবাদ ছড়ানোর দায়ে পাঁচ বছর কারাদন্ডাদেশ দেওয়া হয় তাকে। মাঝে তিনি তার মায়ের সূত্রে ব্রিটিশ নাগরিকত্ব অর্জন করেন। ২০২২ সালের শেষদিকে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক তার পরিবারকে আশ্বস্ত করেছিলেন, আলার মুক্তির বিষয়টি মিসরের কাছে তুলবে লন্ডন, যা এখনো আড়ালেই রয়ে গেছে।