ভোটগ্রহণের সাত দিন আগে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন বরিশাল-২ ও বরিশাল-৫ আসনের জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী মো. ইকবাল হোসেন তাপস এবং রগুনা-১ আসনের মো. খলিলুর রহমান। গতকাল রবিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বরিশাল কলেজসংলগ্ন রজনিগন্ধা ক্লাবে এক কর্মিসভা শেষে তারা এই ঘোষণা দেন। তারা বলছেন, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট না হওয়ার শঙ্কা ও নির্বাচন কমিশনকে সরকার নিয়ন্ত্রণ করায় তারা নির্বাচন থেকে সরে গেলেন।
বরিশাল-২ আসনে নির্বাচন করছেন ১৪ দলের শরিক ও বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির প্রার্থী রাশেদ খান মেনন, অন্যদিকে বরিশাল-৫ আসনে রয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী জাহিদ ফারুক।
নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়ে মো. ইকবাল হোসেন তাপস গণমাধ্যমকে বলেন, ‘জাতির ক্রান্তিলগ্নে যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, তার দিকে বাংলাদেশ তথা সারা বিশ্বে সব মানুষ তাকিয়ে আছে। কিন্তু সরকারের যে ভোট চুরির, ডাকাতি, ছিনতাইয়ের ইতিহাস আছে। সেই ইতিহাস থেকে কতটুকু বেরিয়ে আসতে পারবে?
এই প্রার্থী আরও বলেন, ‘সবকিছু মিলিয়ে আমার কাছে মনে হচ্ছে আবারও আগামী সাত জানুয়ারি প্রহসনের একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। যেই নির্বাচনের সাধারণ মানুষের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। এখানে আছে একটি দল এবং সেই দলের লেজুড়ভিত্তিক কিছু মানুষ। তারাই এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে যাচ্ছে। তাই সার্বিক দিক বিবেচনা করে বরিশাল ও উজিরপুরের আমাদের দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে আমার মনে হয়েছে এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করাই উত্তম। তাই আজকে আমার কর্মী ও সাংবাদিকদের সামনে বলতে চাই, ৭ জানুয়ারি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘দলের চেয়ারম্যান পরিস্থিতির শিকার। তিনি বাধ্য হয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। নির্বাচনের আরও বেশ কয়েক দিন বাকি আছে। শেষ পর্যন্ত জাতীয় পার্টি নির্বাচনে থাকবে কি না, তা নিয়েও সংশয় রয়েছে।’
নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়ে বরগুনা-১ আসনের লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী মো. খলিলুর রহমান বলেন, ‘আমরা নির্বাচনী মাঠে থাকতাম কিন্তু। নাটকের মতো কিছু লোক স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচন শুরু করেছে। তার মধ্যে এত বড় একটি দলকে মাত্র ২৬টি সিট দিয়ে নির্বাচন হতে পারে না। এর মধ্যে অনেক প্রার্থীর পোস্টারে লিখেছেন জাতীয় পার্টি মনোনীত ও সমর্থিত আওয়ামী লীগ। কিন্তু আমরা কার? তারা এমন লিখল; তাহলে আমি কার? আবার কেউ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনারও ছবি লাগিয়েছে।’
নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার নির্দিষ্ট কারণ জানতে চাইলে এই প্রার্থী বলেন, ‘আমার এলাকা সম্পর্কে আমি জানি, সেখানে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে; সেটি আমি বিশ্বাস করি না। তাই আমি নির্বাচন থেকে সরে যাচ্ছি। আমার ভালো লাগছে না। আমার বিশ্বাস হচ্ছে না। আমি নির্বাচন করব না।’
সভায় সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা ও বরিশাল মহানগর জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক অধ্যাপক মহসিন উল ইসলাম হাবুল।