পাকিস্তানের বৃহত্তম প্রদেশ বালুচিস্তানে যখন গতকাল বুধবার সর্বাত্মক ধর্মঘট পালিত হচ্ছিল, তখন পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্ট গুম হওয়া বালুচদের তথ্য সরবরাহের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে। হত্যা-গুম ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে বালুচদের ‘ইয়াকজেহতি কমিটির’ মাসব্যাপী লংমার্চ শেষে গতকাল প্রদেশজুড়ে ধর্মঘট হয়। গতকাল গাদ্দানি, নহস্কি, খুজদার, তুরবাতসহ প্রদেশের বিভিন্ন শহরের জনজীবন ছিল স্থবির।
পাকিস্তানের বালুচিস্তান, ইরানের সিস্তান-বালুচিস্তান প্রদেশ ও আফগানিস্তানের হেলমান্দ প্রদেশের অংশবিশেষ নৃতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য ও ভাষার দিক থেকে ‘বৃহত্তর বালুচিস্তান’ বলে স্বীকৃত। বালুচদের মধ্যে সুন্নি ইসলামই প্রধান ধর্মমত। পাকিস্তানের পাশাপাশি ইরানি অংশেও আত্মনিয়ন্ত্রণ ও সার্বভৌমত্বের দাবিতে সশস্ত্র আন্দোলন রয়েছে। পাকিস্তানে সত্তরের দশক থেকে বালুচ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের সশস্ত্র ধারা শক্তিশালী হতে থাকে। আবার নানা ভাগে বিভক্ত নিয়মতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলও রয়েছে। এর মধ্যে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের নেতা আখতার মেঙ্গাল বেশ প্রসিদ্ধ।
পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী ও নিরাপত্তা বাহিনীর বিভিন্ন অভিযানে নিহত ব্যক্তিদের নারী স্বজনদের ডাকা লংমার্চ গত মাসে ভন্ডুল করে দেয় কেন্দ্রীয় সরকার। এরপর গতকাল বালুচিস্তানজুড়ে ডাকা ধর্মঘটে মানবাধিকার লঙ্ঘন, গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা বন্ধসহ বন্দিদের মুক্তি দাবি করে বালুচরা।
বালুচিস্তানে অনেকগুলো সশস্ত্র বিদ্রোহী সংগঠনের নাম শোনা যায়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো বালুচ পিপলস লিবারেশন ফ্রন্ট (বিপিএলএফ), বালুচিস্তান লিবারেশন ফ্রন্ট (বিএলএফ), বালুচিস্তান রিপাবলিকান আর্মি (বিআরএ), ইউনাইটেড বালুচ আর্মি (ইউবিএ) এবং আরও বেশ কয়েকটি। এর মধ্যে বিআরএ এবং ইউবিএ গত বছর বালুচ ন্যাশনালিস্ট আার্মি (বিএনএ) নামে তৎপরতা শুরু করে। কয়েকটি সংগঠন এক দশকের বেশি সময় ধরে সশস্ত্র অভিযানে নেই। মূলত পাকিস্তান সরকারের পাশাপাশি ইরানি প্রশাসনের দমন-পীড়নে এসব সংগঠনের অনেকেই অস্তিত্ব ধরে রাখতে পারেনি। চলতি শতকের শুরুর দিকে বালুচ সশস্ত্র আন্দোলনের গতি কিছুটা বাড়লেও এখন বেশ দুর্বল হয়ে পড়েছে তারা। এরপরও মাঝে মাঝেই ছোটখাটো আক্রমণ চালিয়ে তারা দায় স্বীকার করে।
তবে সাধারণ বালুচরা এখনো স্বাধীন ভূখন্ডের স্বপ্ন দেখে।