হবিগঞ্জ-৪ (চুনারুঘাট ও মাধবপুর উপজেলা) আসনে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মাহবুব আলীকে রাস্তা দখল করে নির্বাচনী সমাবেশ করার অভিযোগে কারণ দর্শানোর নোটিস (শোকজ) দিয়েছে নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটি। গতকাল বুধবার তাকে এ নোটিস দেন এ সংসদীয় আসনের নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটির প্রধান ও জ্যেষ্ঠ সহকারী জজ সবুজ পাল।
নোটিসে বলা হয়, মঙ্গলবার (২ জানুয়ারি) বিকেলে চুনারুঘাট উপজেলা সদরের মধ্যবাজারে জনসাধারণের চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে নির্বাচনী সমাবেশ করেন নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মাহবুব আলী। এতে নির্বাচনী আচরণবিধির লঙ্ঘন হয়েছে। ৫ জানুয়ারির মধ্যে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য নোটিসে উল্লেখ করা হয়।
এদিকে নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী স্ত্রীর পক্ষে সরকারি গাড়ি ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি হামিদুল হক মিলনের বিরুদ্ধে। এ কারণে নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটি তাকে তলব করেছে। গতকাল বগুড়া-১ আসনের নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটির চেয়ারম্যান এবং যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ শাহনাজ পারভীন স্বাক্ষরিত নোটিসে বিষয়টি জানানো হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সশরীরে হাজির হয়ে আদালতে তাকে অভিযোগের লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে ওই নোটিসে।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি হামিদুল হক মিলন বগুড়া-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহাজাদী আলম লিপির স্বামী। লিপি এ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন চেয়ে না পেয়ে তবলা প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন।
নোটিসে বলা হয়, ‘গত ২ জানুয়ারি দৈনিক বগুড়া অনলাইন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়, আপনি হামিদুল হক মিলন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশে অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে কর্মরত আছেন। আপনি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহাজাদী আলম লিপির স্বামী। চাকরি থেকে এক মাসের ছুটি নিয়ে একজন সরকারি কর্মকর্তা হয়ে এলাকায় এসে স্ত্রী শাহাজাদী আলম লিপির পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন। এ ছাড়া আপনার প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে পুরো নির্বাচনী এলাকা বিপর্যস্ত করে রেখেছেন। সঙ্গে নির্বাচনী প্রচারণায় সরকারি গাড়ি ব্যবহার করছেন, যা আপনার পেশাগত সদাচরণের পাশাপাশি সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণবিধি-২০০৮ এর ১৪ (১) (২) নম্বর বিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।’
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে অতিরিক্ত ডিআইজি হামিদুল হক মিলন মোবাইল ফোনে বলেন, ‘নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটির চিঠি পেয়েছি। আগামীকাল (আজ) সেখানে গিয়ে ব্যাখ্যা দেব।’