দেশে করোনা সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত রয়েছে। বাড়তে বাড়তে গত ২৪ ঘণ্টায় (গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পযন্ত) পরীক্ষা অনুপাতে করোনা শনাক্তের হার ৪ দশমিক ৫৩ শতাংশে পৌঁছেছে। এ সময় রোগী শনাক্ত হয় ২১ জন। গত পাঁচ মাসের মধ্যে শনাক্তের এই হার সর্বোচ্চ। এর আগে এর চেয়ে বেশি শনাক্তের হার ছিল গত বছরের ৩০ জুলাই, ৪ দশমিক ৭৩ শতাংশ।
গত ১৫ দিন ধরেই করোনা সংক্রমণ বাড়ছে। সর্বশেষ গত বছরের ২০ ডিসেম্বর শনাক্তের হার ছিল শূন্য দশমিক ৬৬ শতাংশ। সেদিন রোগী শনাক্ত হয়েছিল পাঁচজন। এরপর দিন ২১ ডিসেম্বর শনাক্তের হার বেড়ে ১ দশমিক ৩৫ শতাংশ হয় ও সেদিন রোগী শনাক্ত হয় আটজন। এরপর থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত আর কখনোই শনাক্তের হার ১ শতাংশের নিচে নামেনি। উল্টো বাড়তে বাড়তে তা এখন সাড়ে ৪ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে ও রোগী ২১ জনে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে করোনার ওমিক্রন ধরনের নতুন উপধরন জেএন.১ দেখা দেওয়ায় এবং বাংলাদেশেও সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় কভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি দেশে নতুন করে সতর্কতা জারি করেছে। কমিটি মাস্ক পরার নির্দেশনা দেওয়াসহ প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছে।
গত মঙ্গলবার কমিটি এক বিবৃতিতে জরুরি অবস্থার জন্য পর্যাপ্ত পরীক্ষার ব্যবস্থা ও চিকিৎসাকেন্দ্র প্রস্তুত রাখার পরামর্শ দেয়। এ ছাড়া বিদেশ থেকে আসা যাত্রীদের স্ক্রিনিংয়ের সুপারিশও করেছে কমিটি। পাশাপাশি বিভিন্ন স্বাস্থ্য সংক্রান্ত জটিলতার কারণে উচ্চঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের কভিড-১৯ ভ্যাকসিনের চতুর্থ ডোজ নেওয়ার পরামর্শও দিয়েছে।
সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশে এখনো করোনার নতুন উপধরন জেএন.১ শনাক্ত হয়নি। গত কয়েক দিনে সংক্রমণের হার হঠাৎ বাড়লেও চলতি মাসের মধ্যে তা কমে যেতে পারে। তবে ফেব্রুয়ারি-মার্চের দিকে তা আবার বাড়তে পারে।
এ ব্যাপারে আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. তাহমিনা শিরিন বলেন, আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি ও সতর্ক আছি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি ও দেশের প্রবেশপথগুলোতে নজরদারি বাড়িয়েছি। মানুষকে স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে।
ডেঙ্গু রোগী ৩০০ ছুঁইছুঁই : গত চার দিন ধরে দেশে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ১০০ নিচেই রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ৭৫ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে ঢাকায় ভর্তি হয়েছে ২৭ জন ও ঢাকার বাইরে ৪৮ জন। এ নিয়ে এ বছরের গত চার দিনে মোট রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ২৯০ জন। তাদের মধ্যে ঢাকায় রোগীর সংখ্যা ৯৮ জন ও ঢাকার বাইরে ১৯২ জন।
গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ঢাকায় একজন মারা গেছে। এর ফলে গত তিন দিন ধরে ঢাকার বাইরে কোনো মৃত্যু নেই। এর আগে বছরের প্রথম দিন ছিল ডেঙ্গুতে মৃত্যুশূন্য। এ নিয়ে এ বছরের গত চার দিনে তিনজন ডেঙ্গুতে মারা গেল। এই তিনজনই নারী।