১৯৭১ সালে পঞ্চম লোকসভা নির্বাচনে উত্তরপ্রদেশের রায়বেরেলি কেন্দ্র থেকে নির্বাচিত হন ইন্দিরা গান্ধী। তার মতো প্রভাবশালী ও বিশ^খ্যাত রাজনীতিকের জীবনে বড় এক প্রশ্নচিহ্ন এঁকে দিয়েছিলেন। ১৯৭১ সালের ইন্দিরার জয়লাভের ফল বাতিল করে তাকে ছয় বছরের জন্য অযোগ্য ঘোষণা করে এলাহাবাদ হাইকোর্ট। ১৯৭৫ সালের ১২ জুন এলাহাবাদ হাইকোর্টের বিচারক জগমোহনলাল সিনহা ঘোষণা করেন, পঞ্চম লোকসভা নির্বাচনে সংযুক্ত সমাজতান্ত্রিক দলের (এসএসপি) প্রার্থী রাজ নারায়ণের বিরুদ্ধে ইন্দিরার জয়লাভের ফল বাতিল এবং ইন্দিরা ছয় বছরের সরকারি পদগ্রহণের অযোগ্য।
আদালতে রাজ নারায়ণ অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনকালে ইন্দিরা গান্ধী রায়বেরেলিতে যাকে কেন্দ্র করে নির্বাচনী প্রচারকাজ করেছেন, সেই ব্যক্তি একজন সরকারি কর্মকর্তা। রাষ্ট্রযন্ত্রকে নির্বাচনী কাজে ব্যবহার করার অভিযোগে দায়ী করা হয় ইন্দিরাকে। স্বাধীনতা-পরবর্তীকালে কংগ্রেসের ৩০ বছরের শাসনামলকে জোর ধাক্কা দিয়ে প্রচারের আলো কাড়েন রাজ নারায়ণ। আবার বিচারক জগমোহনলালও সাহসী ব্যক্তিত্বের তকমা কুড়ান। পৃথিবীর বৃহত্তম গণতন্ত্রের দেশ ভারতে আজও আলোচিত হয় সেই রায়।
ইন্দিরা গান্ধী রায়ের পর চলে যান আপিল আদালত ও সুপ্রিম কোর্টে। কিন্তু আপিল আদালতের রায়ের অপেক্ষা না করে ১৯৭৫ সালের ২৫ জুন প্রেসিডেন্ট ফখরুদ্দিন আলি আহমেদকে দিয়ে দেশব্যাপী জরুরি অবস্থা জারি করান ইন্দিরা, যা বলবৎ ছিল ১৯৭৭ সালের ২১ মার্চ পর্যন্ত। এ সময় মোররাজি দেশাই, চৌধুরি চরণ সিং, অটল বিহারি বাজপেয়িসহ বাঘা বাঘা রাজনীতিকদের গ্রেপ্তার করা হয়। সংবাদমাধ্যম ব্যাপক চাপের মুখে পড়ে। অবশেষে ১৯৭৬ সালে সুপ্রিম কোর্ট এলাহাবাদ হাইকোর্টের আদেশ নাকচ করে দেয়, যা ইন্দিরাকে বেশ স্বস্তি দেয়।