প্রত্যেক ব্যক্তির স্বীয় সাধ্যানুযায়ী গোনাহ ও অন্যায়-অত্যাচারকে রুখে দেওয়ার তাকিদ কোরআন-হাদিসে এসেছে। তাই জাতিকে জুলুম ও নিপীড়ন থেকে বাঁচাতে ভোট প্রদান আবশ্যক। কারণ এর দ্বারা অন্তত কিছুটা হলেও তুলনামূলক ভালো ব্যক্তিকে নির্বাচিত করে অপশক্তিকে রুখে দেওয়া সম্ভবপর হয়ে থাকে। জুলুম ও ইসলামবিদ্বেষী কাজ থেকে একেবারে হাত গুটিয়ে বসে থাকার ব্যাপারে হাদিসে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারিত হয়েছে। হজরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, যদি লোকেরা জালেম ব্যক্তিকে দেখেও তাকে বাধা না দেয়, তাহলে আল্লাহতায়ালা তাদের সবার ওপর আজাব নাজিল করে দিতে পারেন।’ -সুনানে আবু দাউদ : ৪৩৩৮
নিজের চোখের সামনে জালেম ও ইসলামবিদ্বেষী কেউ নির্বাচিত হয়ে এসে জুলুমের রাজত্ব মুসলমানদের ওপর চালালে, ইসলামের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে, যে ব্যক্তি নির্বিকার বসে থেকে, মজলুমের সহায়তা করে জালেমের প্রতি অনাস্থা প্রকাশ না করে থাকে, ওই ব্যক্তি কেয়ামতের দিন আল্লাহর দরবারে লাঞ্ছিত হবে।
হাদিসে ইরশাদ হচ্ছে, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তির সামনে কোনো মুমিনকে অপমান করা হয়, অথচ তাকে সহায়তা করার ক্ষমতা উক্ত ব্যক্তির থাকা সত্ত্বেও সে তাকে যদি সাহায্য না করে, তাহলে কেয়ামতের দিন আল্লাহ তাকে সবার সামনে লাঞ্ছিত করবেন।’ -মুসনাদে আহমাদ : ১৫৯৮৫
যেহেতু নির্বাচনকালে ভোটের দ্বারা দেশের নিয়ন্ত্রকদের জুলুম ও ইসলামবিদ্বেষী মানসিকতা রুখে দেওয়া অনেকাংশেই সম্ভব হয়। তাই এ পদ্ধতিকে ব্যবহার না করে বসে থাকা জায়েজ হবে না বলে ইসলামি স্কলাররা মত দিয়েছেন। তাই ভোট দিয়ে সাধ্যানুযায়ী বাতিল শক্তির প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করতে হবে।
অন্যদিকে কোরআন মাজিদে ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা সাক্ষ্য গোপন কোরো না। যে কেউ তা গোপন করবে, তার অন্তর পাপপূর্ণ হবে। তোমরা যা করো, আল্লাহ সে সম্পর্কে জ্ঞাত।’ -সুরা বাকারা : ২৮৩
হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তিকে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য ডাকা হয়, কিন্তু সে তা দেয় না, তাহলে সে যেন অন্যায়ের পক্ষে সাক্ষ্য দিল।’ -মুসনাদুশ শামিন : ১৯৪২
হজরত জায়েদ বিন খালেদ জুহানি (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘আমি কি তোমাদের বলব না যে, উত্তম সাক্ষ্য কে? ওই ব্যক্তি যে, চাওয়া ছাড়াই সাক্ষ্য দিয়ে দেয়।’ -সহিহ মুসলিম : ১৭১৯
যেহেতু ভোট একটি আমানত। এটাকে যথেচ্ছা প্রয়োগকারী আমানতের খেয়ানতকারী সাব্যস্ত হবে। তার জন্য রয়েছে আখেরাতে ভয়াল শাস্তি। কাউকে ভোট দেওয়া কোনো আবেগ বা দলীয় বিষয় নয়। বরং এটি একটি ধর্মীয় বিষয়ও। যাকে তাকে ভোট দেওয়া ইসলামসম্মত নয়। ইসলামবিদ্বেষী, দেশ ও ইসলামের জন্য ক্ষতিকর ব্যক্তিকে ভোট দেওয়া মারাত্মক গোনাহের কাজ। তাই বুঝেশুনে, চিন্তাভাবনা করে ভোট দিতে হবে। দলীয় আবেগ, ব্যক্তির প্রতাপ, আত্মীয় বা প্রতিবেশী হওয়া ভোট পাওয়ার যোগ্যতার অন্তর্ভুক্ত নয়। ভোট পাওয়ার যোগ্য ওই ব্যক্তিই হবেন, যিনি উক্ত পদে যোগ্য। দেশ ও ইসলামের পক্ষের শক্তি। যার দ্বারা দেশের সম্পদ লুণ্ঠিত হবে না। সমাজে বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়বে না। যার দ্বারা ইসলাম ও মুসলমানদের ক্ষতি সাধিত হবে না। এমন ব্যক্তিকে ভোট দেওয়া শরিয়তের দৃষ্টিকোণ থেকে আবশ্যক। আর অযোগ্য, ইসলামবিদ্বেষী, দেশদ্রোহী, লুটতরাজকারীকে ভোট দেওয়া শরিয়ত গর্হিত কাজ।