নির্বাচনের আগে প্রার্থী ঠিক করেন সর্বোচ্চ নেতা

১৯৭৯ সালে ইরানে ইসলামি বিপ্লব হওয়ার পর দেশটির শিয়া মতাবলম্বী নেতৃত্ব পরবর্তী রাজনৈতিক ক্ষমতাকাঠামোকে এমনভাবে সাজিয়েছেন যেখানে গণতন্ত্র, ভোটাধিকার কিংবা ক্ষমতাচর্চাকারীদের পরিধি ঠিক করে দেয় একটি সুর্নিদিষ্ট ধর্মীয় কাঠামো। আরও নির্দিষ্ট করে বললে, বস্তুত একজন ‘সর্বোচ্চ নেতার’ ওপরই ইরানের নির্বাচনী গণতন্ত্রের যাবতীয় কিছু নির্ভর করে।

ইরানের ইসলামি বিপ্লবে নেতৃত্ব দেন আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি এবং তিনি ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত সর্বোচ্চ ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত ছিলেন। তার মৃত্যুর পর সর্বোচ্চ ক্ষমতায় আসীন হন আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। দেশটির প্রেসিডেন্ট, আইনসভার সদস্য, বিচার বিভাগ থেকে শুরু করে রাষ্ট্রের নানা ক্ষমতাধর জায়গায় খোমেনির ছায়া থাকে। বলা যায়, তিনিই শেষ কথা বলেন।

ইরানে ছয়জন ইমাম ও ছয়জন আইন বিশেষজ্ঞের সমন্বয়ে গঠিত সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ‘গার্ডিয়ান কাউন্সিলে’ অর্ধেক সদস্য মনোনীত করেন খামেনি। সরকারি পদগ্রহণে কারা যোগ্য তা নির্ধারণ করে এই পর্ষদ। শিয়া ইসলামি মতের প্রতি বিশ^াস, বিপ্লবের প্রতি আস্থাসহ নানা মূলনীতির ওপর ব্যক্তির মনোভাব দেখেই এই পর্ষদ কাউকে মনোনীত করে। মোটাদাগে সর্বোচ্চ নেতার ইচ্ছার বাইরে যাওয়ার পরিস্থিতি এই পর্ষদ সংরক্ষণ করে না।

ইরানে সর্বোচ্চ নেতার পর দ্বিতীয় ক্ষমতাধর হচ্ছেন প্রেসিডেন্ট। একটি ‘অদ্ভুত’ নির্বাচনী গণতন্ত্রের মধ্য দিয়েই তাকে আসতে হয়। ভোটের মাঠে অবতীর্ণ হওয়ার আগে গোটা প্রক্রিয়াই খোমেনির ইচ্ছা-অনিচ্ছার ওপর নির্ভর করে; অর্থাৎ জনগণের ভোটের চেয়েও আধ্যাত্মিক নেতার মনোভাব এখানে অগ্রাধিকার পায়।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতার অবাধ ক্ষমতার আরও নজির রয়েছে, যা তাকে জনগণের ভোটের চেয়েও শক্তিশালী করে তুলেছে। তার প্রভাবাধীন গার্ডিয়ান কাউন্সিলের সুপারিশ মোতাবেক প্রেসিডেন্ট পদে প্রার্থী ঠিক হয়। এ ছাড়া দেশের আইনসভার প্রার্থীও হতে হয় তার মনোনয়নে। আইনসভায় যেসব বিল পাস হয় তা অনুমোদিত হতে হয় গার্ডিয়ান কাউন্সিলে। সর্বোচ্চ নেতা দেশের ৩৯ সদস্যবিশিষ্ট প্রশাসনিক কাঠামোও মনোনয়ন করেন।