শাসক হতে গিয়েই হার এমপি মন্ত্রীদের

মাদারীপুর-৩ আসনে নৌকার প্রার্থী আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপকে পরাজিত করে স্বতন্ত্র প্রার্থী কালকিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি তাহমিনা বেগম বিজয়ী হয়েছেন। এই স্বতন্ত্র প্রার্থী দেশ রূপান্তরকে বলেন, গোলাপকে সেবক হিসেবে দেখতে চেয়েছিলেন এলাকার সাধারণ মানুষ। তিনি সেবক হতে পারেননি। শাসক হয়েছেন, ফলে মানুষ বিকল্প খুঁজে নিয়েছেন। শুধু মাদারীপুর-৩ আসনেই পরাজিত হননি নৌকার প্রার্থীরা। গোলাপের মতোই আরও ৪০টি আসনে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে পরাজিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের নেতারা। 

হেরে যাওয়া আসনগুলোর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, হেরে যাওয়া প্রার্থীরা সেবক হতে পারেননি, হয়েছেন শাসক। তাই সাধারণ মানুষ সুযোগ পেয়ে শাসক হতে যাওয়া নেতাদের বিদায় করেছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নৌকা নিয়ে পরাজিত প্রায় সবার বিরুদ্ধেই একই অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকায় না যাওয়া, দলীয় নেতাকর্মীকে গুরুত্ব না দেওয়া, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জনমতের বিপক্ষে গিয়ে ব্যক্তিগত পছন্দকে গুরুত্ব দেওয়ার মতো অভিযোগ ছিল তাদের বিরুদ্ধে।

স্বতন্ত্র প্রার্থী তাহমিনা বলেন, কোথাও নৌকা পরাজিত হয়নি। পরাজিত হয়েছে ব্যক্তি। তা না হলে আমিও তো আওয়ামী লীগ করি, দলের পদে রয়েছি। নৌকার প্রতি বিক্ষুব্ধ হলে আমিও পরাজিত হতাম। প্রকৃত অর্থে মানুষ ব্যক্তির ওপর ক্ষুব্ধ বলেই পরিবর্তন চেয়েছে।

পিরোজপুর-২ আসনে নৌকা প্রতীক নিয়ে ভোট করেছেন ১৪-দলীয় জোটের শরিক জাতীয় পার্টির (জেপি) চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু। তিনি পরাজিত হয়েছেন। আসনটির মানুষ আওয়ামী লীগ নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী মহীউদ্দিন মহারাজকে বিজয়ী করেছেন। জেলা আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ এক নেতা দেশ রূপান্তরকে বলেন, মানুষ মূল্যায়ন পায়নি বলেই পরিবর্তন করেছে।  

কুষ্টিয়া-২ আসনে নৌকা নিয়ে নির্বাচন করেছেন জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু। সেখানেও স্বতন্ত্র প্রার্থীর কাছে হেরেছেন তিনি। কুষ্টিয়ার সাধারণ মানুষের দাবি, নৌকা নিয়ে এমপি হলেও নৌকার মানুষের সঙ্গে দূরত্ব রেখেছেন ইনু। ফলে মানুষ পরিবর্তন চেয়ে ভোট দিয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীকে।

হবিগঞ্জ-৪ আসনে নৌকার প্রার্থী ও বেসামরিক বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহাবুব আলী পরাজিত হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমনের কাছে। হবিগঞ্জের সাধারণ মানুষ দেশ রূপান্তরকে বলেন, বিমানমন্ত্রী থেকেছেন, ফলে আকাশেই ছিলেন তিনি। সাধারণ মানুষ সুযোগ পেয়েছে, এখন মাটিতে নামিয়েছেন। সুমন কোনো প্রত্যাশা নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়াননি। ফলে ব্যারিস্টার সুমনকে মানুষ পাশে রেখেছেন।

ঢাকা-১৯ আসনে দুর্যোগ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুল হক হেরেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. সাইফুল ইসলামের কাছে। গাজীপুর-৫ আসনে নৌকার প্রার্থী মেহের আফরোজ চুমকী হরেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা আখতারুজ্জামানের কাছে। নৌকার বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়ী হওয়ার কারণ একটাই এলাকার মানুষ তাদের কাছে পাননি। এলাকায় সময় দেননি। ফলে দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ পরিবর্তন চেয়েছেন।