বন্ধুরাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের যে অংশীদারত্ব রয়েছে, তা নতুন নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে বিদেশি কূটনীতিক-পর্যবেক্ষক ও গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠান শেষে তিনি এই আশাবাদের কথা জানান।
ড. মোমেন বলেন, ‘সবার সঙ্গে বাংলাদেশের যে অংশীদারত্ব রয়েছে, এটা নতুন সরকারের সবার সঙ্গেও অব্যাহত থাকবে বলে আমি মনে করি। নতুন সরকারকে সবাই গ্রহণ করবে এবং সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।’
গতকাল দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে কূটনীতিক, সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের ব্রিফ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এদিন বিকেল সাড়ে ৩টায় ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে অংশ নেন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার হাস ও যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার সারাহ ক্যাথেরিন কুক। এ ছাড়া বিভিন্ন দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এএসএম মাকসুদ কামালসহ বিশিষ্টজন ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত ছিলেন। আগত অতিথিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য ছাড়াও রাশিয়া, চীন, জার্মানি, ফ্রান্স, জাপান, কানাডা, ভারত, সুইডেন, ফিলিস্তিন, সুইজারল্যান্ড, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাতিসংঘসহ বিদেশি মিশন এবং আন্তর্জাতিক সংস্থা মিলিয়ে প্রায় ৫০টি দেশের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
ড. মোমেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা খুব খুশি যে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ এবং সংঘাতহীন নির্বাচন করতে পেরেছি। জনগণ রায় দিয়েছে, এটাই যথেষ্ট। আমাদের আর কিছুর দরকার নেই। জনগণ রায় দিয়েছে, আলহামদুলিল্লাহ।’
দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্যের সমালোচনার বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এগুলো নিয়ে আমাদের চিন্তা নেই। জনগণ রায় দিয়েছে এবং অন্যান্য দেশ আমাদের সপক্ষে যারা এসেছে (আমন্ত্রিত বিদেশি পর্যবেক্ষক, বাংলাদেশে কর্মরত বিভিন্ন কূটনীতিক), তারা সবাই বলেছে, দেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হয়েছে। নির্বাচন কমিশনকে সবাই ধন্যবাদ দিয়েছে।’
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিদেশি কূটনীতিক, আমন্ত্রিত বিদেশি পর্যবেক্ষক, সাংবাদিক এবং দেশের বিশিষ্ট নাগরিক, পেশাজীবী ও গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য ব্রিফিংয়ের আয়োজন করেছিল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ওই ব্রিফিং পরিণত হয় কুশল বিনিময় অনুষ্ঠানে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বিদেশি মিশন এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিদের কাছে আমন্ত্রণে উল্লেখ করা হয়েছিল, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন নিয়ে তাদের ব্রিফ করবেন। কিন্তু বিকেলে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে বক্তৃতা দিতে গিয়ে আবদুল মোমেন বলেন, ‘আজকে কোনো ব্রিফিং হবে না। আজকের অনুষ্ঠানটি মূলত কুশল বিনিময়। আমাদের সহকর্মীরা আপনাদের সঙ্গে একটি নোট বিনিময় করবেন।’