সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে নির্বাচনী বিরোধে দুপক্ষের সংঘর্ষে নারী-পুরুষসহ শতাধিক আহত হয়েছে। গতকাল বুধবার দুপুরে দোয়ারাবাজার উপজেলা সদরে এ ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষে ৩০ জনেরও বেশি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। যাদের বেশিরভাগই পুলিশের রাবার বুলেটে আহত হয়েছেন। পুলিশ সংঘর্ষ থামাতে ১০ রাউন্ড টিয়ার শেল ও ১০৪ রাউন্ড শর্টগানের গুলি ছোড়ে। এই সংঘাতে জড়িত নয়জনকে আটক করা হয়েছে।
জানা গেছে, দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণের দিন গত ৭ জানুয়ারি দোয়ারাবাজার উপজেলা সদরের পাশের গ্রাম পূর্ব মাছিমপুর ও পশ্চিম মাছিমপুরবাসীর নৌকা ও ঈগল সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এর জেরে গত দুদিন উপজেলা সদরে দুপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। মঙ্গলবার রাতে পূর্ব মাছিমপুরের আমরু মিয়ার ছেলে ঈগল মার্কার সমর্থক শামীম আহমদের সঙ্গে পাশের নৈনগাঁও গ্রামের নৌকার সমর্থক আবুল মিয়ার কথা-কাটাকাটি হয়। এর জেরে আবুল মিয়ার সমর্থকরা শামীম আহমদের পূর্ব মাছিমপুরের বাড়িতে ইটপাটকেল ছোড়ে। পুলিশ রাতেই পরিস্থিতি শান্ত করে দুপক্ষকে সরিয়ে দেয়। সকালে আবুল মিয়া দোয়ারাবাজারের বাসভবনে এলে শামীম আহমদের লোকজন হামলা করে। এ খবর নৈনগাঁও গ্রামে পৌঁছালে আবুল মিয়ার পক্ষের নৈনগাঁও গ্রামবাসী দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে উপজেলা সদরে এসে সংঘর্ষে জড়ায়। এতে উভয় পক্ষের শতাধিক মানুষ আহত হয়েছে। এদের মধ্যে নারীও রয়েছে। সংঘর্ষের সময় ভিডিওচিত্র ধারণ করতে গিয়ে দোয়ারাবাজার উপজেলা প্রেস ক্লাবের ক্রীড়া সম্পাদক মাসুদ রানা সোহাগ পুলিশের মারধরের শিকার হন। আহতদের মধ্যে গুরুতরদের সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে চিকিৎসার জন্য। আর বাকিরা দোয়ারাবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন।
ফের সংঘর্ষের আশঙ্কায় ওই দুই গ্রামে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
দোয়ারাবাজার থানার ওসি বদরুল হাসান দেশ রূপান্তরকে জানান, সংঘর্ষ থামাতে পুলিশ ১০ রাউন্ড টিয়ার শেল ও শর্টগানের ১০৪ রাউন্ড গুলি ছুড়ে। এ ছাড়া সংঘর্ষে জড়িত নয়জনকে আটক করা হয়েছে।
এদিকে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার জঙ্গল ইউনিয়নে এক ব্যবসায়ীকে হাতুড়িপেটা করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, নির্বাচনে ঈগল প্রতীকের সমর্থন করায় তাকে পেটানো হয়। আহত রমেন্দ্রনাথ ম-ল (৫৩) বালিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন আছেন। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।
চিকিৎসাধীন রমেন্দ্রনাথ মন্ডল বলেন, ‘আমার দোকানে বসে প্রতিদিন সাবেক চেয়ারম্যান নৃপেন্দ্রনাথ মন্ডল পেপার পড়েন। তিনি ঈগল মার্কার নির্বাচন করেছিলেন। আমার দোকানে বসে পেপার পড়ায় আমাকে মারধর করা হয়। হিল্লোল বসুর নেতৃত্বে ১০ থেকে ১২ জন এই হামলায় অংশগ্রহণ করে। হামলাকারীরা আমার দোকানে প্রবেশ করে হাতুড়ি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে পিটিয়ে জখম করে। দোকান ভাঙচুর করে।’