নির্বাচনে ভোট কারচুপির উৎসব হয়েছে : বিএনএম

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়নি বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন (বিএনএম)। দলটির দাবি, আওয়ামী লীগ এবং ক্ষমতাসীন এই দলটি থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়াদের সমর্থকরা নির্বাচনকে ভোট কারচুপির উৎসবে পরিণত করে। গতকাল বুধবার রাজধানীর গুলশানে দলীয় কার্যালয়ে নির্বাচন নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন বিএনএম মহাসচিব ড. শাহজাহান।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি লিখিত বক্তব্যে বলেন, ‘বিএনএম নির্বাচনের আগে সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের প্রতিশ্রুতিতে ভোটে অংশগ্রহণ করে। কিন্তু আমরা লক্ষ্য করি, নির্বাচনের দিন সকাল ১০টা থেকে ১১টার পর থেকেই আমাদের অধিকাংশ প্রার্থীর নির্বাচনী এলাকায় বিশেষ রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা ও তাদের ঘরানার প্রার্থীরা দাপট শুরু করে। নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্টদের সহায়তায় ব্যালট কেটে প্রিসাইডিং অফিসারদের বিশেষ কক্ষে নিজ নিজ বাক্স ভরতে শুরু করে, যা ক্রমেই ব্যাপক গতি সঞ্চার করে। একপর্যায়ে এটা তাদের জন্য ভোট কারচুপির উৎসবে পরিণত হয়।’

ড. শাহজাহান আরও বলেন, ‘ভোটারদের ভোটদানে তেমন একটা অংশগ্রহণ না থাকলেও গণনায় বিশেষ দলের দলীয় বা স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ব্যাপকভাবে এগিয়ে থাকাটাই ছিল স্বাভাবিক। যার ফলে যা হওয়ার তাই হয়েছে; অর্থাৎ কাজির গরু খোঁয়াড়ে না থাকলেও কেতাবে ঠিকই বিদ্যমান ছিল। সরকার ও একই দলের স্বতন্ত্র প্রার্থী আসন ভাগাভাগি করে ২৯৭টি আসন নিজেদের করে নিয়ে নেয়। যা বাস্তবতার সঙ্গে শুধু অসঙ্গতিপূর্ণই নয় বরং অকল্পনীয়ও বটে।’

এক প্রশ্নের জবাবে বিএনএমের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাহ মোহাম্মদ আবু জাফর বলেন, ‘জনগণ স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারেনি। স্থানীয় ক্যাডার ও প্রশাসনের সহায়তায় ভোটারদের ভয়ভীতি ও বাধা দেওয়া হয়েছে। আগামী দিনে এর ফল সুখকর হবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘ভোটার উপস্থিত না হওয়ার জন্য আওয়ামী লীগই দায়ী। নৌকায় ভোট দিতে এমন হুমকি-ধমকির জন্য জনগণ ভোটকেন্দ্রে আসেনি। নিরপেক্ষ ভূমিকা নেওয়ার জন্য আরও শক্ত ভূমিকা নিতে পারত সরকার, কিন্তু তারা নীরব থেকেছে। মানুষের মধ্যে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের আস্থা তৈরি করতে ব্যর্থ হয়েছে সরকার।’

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য জাফর ইকবাল সিদ্দিকী, ভাইস চেয়ারম্যান এবিএম ওয়ালিউর রহমান খান, এবিএম রফিকুল হক তালুকদার রাজা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।