৮ ফেব্রুয়ারি পবিত্র শবে মেরাজ

দেশের আকাশে শুক্রবার সন্ধ্যায় কোথাও রজব মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। ফলে জমাদিউস সানি মাস ৩০ দিন পূর্ণ হবে এবং আগামীকাল থেকে রজব মাস গণনা শুরু হবে। পবিত্র শবে মেরাজ পালিত হবে ৮ ফেব্রুয়ারি, বৃহস্পতিবার রাতে।

গতকাল শুক্রবার জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি এ তথ্য জানিয়েছে। বায়তুল মোকাররম সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় সভাপতিত্ব করেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. নায়েব আলী মন্ডল। সভায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) ড. মুহা. বশিরুল আলম, বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি রুহুল আমীনসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক, বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠানের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তাসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

পবিত্র শবে মেরাজের দিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকে। তবে সরকারি প্রতিষ্ঠানে ওই দিন ঐচ্ছিক ছুটি। ফারসি ‘শব’ অর্থ রাত এবং আরবি ‘মেরাজ’ অর্থ ঊর্ধ্বারোহণ।

 নবী কারিম (সা.)-এর নবুওয়তের একাদশ বছরে, হিজরতের তিন বছর আগে (৬২০ খ্রিস্টাব্দে) ২৬ রজব রাতে মিরাজ সংঘটিত হয়। তখন নবীজির বয়স ছিল ৫১ বছর।

এ রাতেই তিনি পবিত্র নগরী মক্কা থেকে ফেরেশতা হজরত জিবরাইল (আ.)-এর সঙ্গে সপ্তম আসমান পেরিয়ে মহান আল্লাহর সাক্ষাৎ লাভ করে আবার পৃথিবীতে ফিরে আসেন। তার এ সফরেই উম্মতে মোহাম্মদির জন্য প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত হয়।

নবী কারিম (সা.) এ রাতে প্রথমে কাবা শরিফ থেকে বোরাক নামের বাহনে করে পবিত্র বায়তুল মোকাদ্দাস মসজিদে যান। সেখানে অন্যান্য নবী-রাসুলের সঙ্গে দুই রাকাত নফল নামাজে ইমামতি করেন। এরপর ঊর্ধ্বলোকে সফর শুরু করেন। এ সময় তিনি নভোমণ্ডল, বেহেশত-দোজখ ও সৃষ্টির বিভিন্ন রহস্য প্রত্যক্ষ করেন এবং পূর্ববর্তী নবীদের সাক্ষাৎ লাভ করেন।

সপ্তম আসমান পেরিয়ে নবী কারিম (সা.) মহান আল্লাহর দিদার লাভ করেন। শবে মেরাজের মহিমান্বিত রাতে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, নফল নামাজ, জিকির-আসকার, দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করেন। বিভিন্ন মসজিদের আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়।