দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী সংঘাত থামছেই না। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ও দলটি থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে হামলা, সংঘর্ষ চলছেই। চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় নৌকার পক্ষে কাজ করায় আরমানুল ইসলাম (২৯) নামে যুবলীগের এক কর্মীকে গুলি করেছিলেন প্রতিপক্ষ প্রার্থীর সমর্থকরা। এতে আরমানুলের একটি চোখ নষ্ট হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। অন্যদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনের সদ্য সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এবাদুল করিম বুলবুলের গাড়িবহরে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় নবীনগর উপজেলার সলিমগঞ্জ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে। আর শরীয়তপুরের নড়িয়ায় প্রতিপক্ষের সমর্থকদের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগে উঠেছে নৌকা ও ঈগল সমর্থকদের বিরুদ্ধে। গতকাল শনিবার ভোরে এ ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া নির্বাচনের ভোটগ্রহণ ও ফল ঘোষণার পর থেকেই ঢাকা-১৯ আসনেও প্রতিদিনই কোনো না কোনো সহিংসতা হচ্ছে।
সাতকানিয়ায় গুলিবিদ্ধ আরমানুল বর্তমানে ঢাকার জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ভারতের চেন্নাইয়ের শংকর নেত্রালয় হাসপাতালে নেওয়া হবে। পরিবারের সদস্যরা জানান, সাতকানিয়া সদর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের হোসেননগর গ্রামের বাসিন্দা আরমানুল।
নৌকার পক্ষে কাজ করায় ৭ জানুয়ারি রাতে বাড়িতে ঢুকে আরমানুলকে গুলি করেন চট্টগ্রাম-১৫ আসনে ঈগল প্রতীকের প্রার্থী ও নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য এম এ মোতালেবের কর্মীরা। এতে আরমানুলের চোখে ও মুখে ছররা গুলি লাগে। তাকে প্রথমে সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় সেখান থেকে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়। পরে ঢাকার জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যানের ওপর হামলার পর এবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনের সদ্য সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এবাদুল করিম বুলবুলের গাড়িবহরে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকেই নবীনগরে উত্তাপ ছড়াচ্ছে রাজনৈতিক সংঘাত। সাবেক এমপির গাড়িবহরে হামলার অভিযোগের তীর ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা সিটির সাবেক কাউন্সিলর ক্যাসিনোকাণ্ডে আলোচিত এ কে এম মমিনুল হক সাঈদের লোকজনের বিরুদ্ধে। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় নবীনগর উপজেলার সলিমগঞ্জ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে হামলার ওই ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন নবীনগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মনিরুজ্জামান।
তিনি বলেন, ‘শুক্রবার বিকেলে সাবেক এমপি এবাদুল করিম বুলবুলসহ আমরা সলিমগঞ্জ বাজারে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে বসলে স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিক নির্বাচনের দিন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান জাকির হোসেন সাদেকের ওপর হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে আমরা কিছু কথা বলে বেরিয়ে পড়ি। সন্ধ্যায় এমপির গাড়িবহর বাজার অতিক্রমের সময় কিছুটা যানজটের সৃষ্টি হলে মমিনুল হক সাঈদের লোকজন গাড়িবহরে হামলা করে। এ সময় বুলবুল সাহেবের গাড়িতে ঢিল পড়ে এবং তার ব্যক্তিগত সহকারী সাইফুর রহমান সোহেলসহ দুজন আহত হন। এ সময় সোহেলের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়।’
শরীয়তপুরের নড়িয়ায় প্রতিপক্ষের সমর্থকদের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগে উঠেছে নৌকা ও ঈগল সমর্থকদের বিরুদ্ধে। গতকাল ভোরে মোক্তারেরচর ইউনিয়নের নয়ন মাদবরকান্দি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে আটক করেছে পুলিশ। পরবর্তী সহিংসতার আশঙ্কায় এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
নির্বাচনের পর থেকেই ঢাকা-১৯ আসনেও সহিংসতা বেড়ে চলেছে। প্রায় প্রতিদিনই আসনটির কোনো না কোনো এলাকায় নৌকা এবং পরাজিত স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা চালাচ্ছেন ট্রাক প্রতীকে বিজয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের কর্মী-সমর্থকরা। এসব ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ করার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও মামলা নথিভুক্ত করছে না বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।