৯৯তম দিনে গাজায় নিহত সাড়ে ২৩ হাজার ছাড়াল

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৩ হাজার ৭০৮ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে গত শুক্রবার রাত থেকে শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত নিহত হয়েছে ১২৩ জন। আগের ২৪ ঘণ্টায় একাধিক হামলায় আহত হয়েছে আরও ৩২১ জন। আজ রবিবার গাজায় ইসরায়েলি হামলার ১০০ দিন পূর্ণ হচ্ছে। ফিলিস্তিনি কর্র্তৃপক্ষের দাবি, গত ৭ অক্টোবর যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি হামলায় বহু ঘরবাড়ি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। এসব ধ্বংসস্তূপের মধ্যে এখনো হাজার হাজার মানুষ আটকা পড়া অবস্থা রয়েছে।

এদিকে গাজায় হামলা ও ফিলিস্তিনিদের গণহত্যা নিয়ে নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগের আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) দক্ষিণ আফ্রিকার করা মামলাকে ‘মারাত্মকভাবে বিকৃত’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে ইসরায়েল। গাজায় হামলার মূল লক্ষ্য হামাসকে নির্মূল, সাধারণ জনগণ নয় বলে জানিয়েছে দেশটি। গত শুক্রবার আন্তর্জাতিক আদালতে শুনানি শেষে আত্মপক্ষ সমর্থনের সময় এসব কথা জানায় দেশটি। আইসিজেতে করা দক্ষিণ আফ্রিকার মামলাটিকে ভিত্তিহীন বলে মন্তব্য করেছে যুক্তরাষ্ট্র এবং জার্মানি। তারাও আইসিজেতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আনা গণহত্যার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।

গতকাল আলজাজিরা এক প্রতিবেদনে বলেছে, গত ৯৯ দিনে গাজায় আহত হয়েছে ৬০ হাজারের বেশি। হতাহতদের অর্ধেকের বেশিই নারী ও শিশু। অন্যদিকে, হামাসের হামলায় এখন অবধি ১ হাজার ১৩৯ ইসরায়েলি নিহত হয়েছে। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ইসরায়েলি সেনা রয়েছে।

এদিকে গাজায় হামলা ও ফিলিস্তিনিদের গণহত্যা নিয়ে নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগের আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) দক্ষিণ আফ্রিকার করা মামলাকে ‘মারাত্মকভাবে বিকৃত’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে ইসরায়েল। গাজায় হামলার মূল লক্ষ্য হামাসকে নির্মূল, সাধারণ জনগণ নয় বলে জানিয়েছে দেশটি। গত শুক্রবার আন্তর্জাতিক আদালতে শুনানি শেষে আত্মপক্ষ সমর্থনের সময় এসব কথা জানায় দেশটি। মামলার শুনানি চলাকালে ইসরায়েলের পক্ষের আইনজীবী তাল বেকার বলেন, দুঃখজনকভাবে দক্ষিণ আফ্রিকা আদালতের সামনে ঘটনার বাস্তব ও ন্যায়সঙ্গত চিত্রকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করেছে। এ সময় তিনি গত বছরের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলার ভয়াবহতার কিছু ভিডিও ও ছবি উপস্থাপন করেন। বেকার বলেন, হামাস সদস্যরা মা-বাবার সামনে সন্তানদের নির্যাতন করেছেন, সন্তানদের সামনে মা-বাবাকে নির্যাতন করেছেন, মানুষ পোড়াচ্ছেন...পরিকল্পিতভাবে ধর্ষণ ও অঙ্গচ্ছেদ করেছেন।

এই আইনজীবীর দাবি, আত্মরক্ষার জন্যই ইসরায়েল পাল্টা হামলা চালিয়েছে। গাজা উপত্যকার ফিলিস্তিনি বাসিন্দারা এ হামলার লক্ষ্য ছিল না। শুনানিতে ইসরায়েলের আইনজীবীরা আরও বলেন, হামাসের সঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকার গভীর সম্পর্ক রয়েছে। গাজায় হামলা বন্ধের কোনো কারণই থাকতে পারে না। কারণ এর জন্য হামাস দায়ী।

আইসিজেতে করা দক্ষিণ আফ্রিকার মামলাটিকে ভিত্তিহীন বলে মন্তব্য করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার এমন মন্তব্য করেছেন। জার্মানিও আইসিজেতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আনা গণহত্যার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। জার্মান সরকারের মুখপাত্র স্টেফেন হেবেস্ট্রাইট এক বিবৃতিতে বলেন, ৭ অক্টোবর হামাস ইসরায়েলে অমানবিক হামলা চালানোর পরই ইসরায়েল আত্মরক্ষায় পদক্ষেপ নিয়েছে।

গাজায় গণহত্যা চালানোর অভিযোগ এনে গত ডিসেম্বরে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। আইনজীবী প্রিটোরিয়ার অভিযোগ, এর মধ্য দিয়ে ইসরায়েল জাতিসংঘের গণহত্যাবিষয়ক কনভেনশন লঙ্ঘন করছে। গত বৃহস্পতিবার শুনানির প্রথম দিনে নিজেদের অভিযোগের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন দক্ষিণ আফ্রিকার আইনজীবীরা। শুনানি শেষে সংবাদ সম্মেলনে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেওয়া রোনাল্ড লামোলা বলেন, ফিলিস্তিন ও গাজার বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্য থেকে কিছু ব্যক্তি যাই করুক না কেন ও ইসরায়েলি নাগরিকদের ওপর যত বড় হুমকিই থাক না কেন, গত বছরের ৭ অক্টোবরের পর থেকে ইসরায়েলি বাহিনী গাজায় যে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে তা মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়।