কোনো জেলায় ছয় দিন, কোনো জেলায় পাঁচ দিন, কোনো কোনো জেলায় চার দিনও সূর্যের দেখা নেই। তাপমাত্রাও কমছে। ফলে শীতে মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। বাড়ছে ঠান্ডাজনিত নানা রোগ।
আগের দিনের মতো গতকাল রবিবারও দিনাজপুরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে। শনিবার ছিল ৮ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর গতকাল আরও কমে হয়েছে ৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দ্বিতীয় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল পঞ্চগড়ে ৮ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অনেক জেলায় তাপমাত্রা ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে এসেছে। ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
শনিবার আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছিল রংপুর বিভাগসহ ১৩ জেলায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ (৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস) বয়ে যাচ্ছে। গতকাল কিছু কিছু জায়গায় প্রশমিত হলেও রাজশাহী, দিনাজপুর, পঞ্চগড় ও চুয়াডাঙ্গা জেলায় মৃদ্যু শৈত্যপ্রবাহ ছিল।
দিনাজপুর আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়া সহকারী কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান বলেন, শৈত্যপ্রবাহ আরও কয়েক দিন স্থায়ী হতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আজ সোমবার সারা দেশে রাত ও দিনের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে। দেশের অনেক জায়গায় ঠান্ডা পরিস্থিতি বিরাজ করতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা থাকতে পারে। কোথাও কোথাও দুপুর পর্যন্ত কুয়াশা থাকতে পারে।
দিনাজপুর ও পঞ্চগড়ের জনপদ ঘন কুয়াশায় আবৃত ভোর থেকেই। বৃষ্টির মতো ঝরছে কুয়াশা। একদিকে প্রচ- শীত, আরেকদিকে ঘন কুয়াশা।
বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ ও চাষিরা। শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষদের মিলছে না প্রয়োজনীয় গরম কাপড়। রাস্তায় চলা ভবঘুরে মানুষরাও পড়েছে শীত দুর্ভোগে। শীতের কারণে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে নিউমোনিয়া, অ্যাজমা, হাঁপানি, শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়াসহ শীতজনিত রোগ।
গতকাল জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার ভজনপুর ইউনিয়নে তালহা নামের এক শিশুর ডায়রিয়ায় মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
ঈশ্বরদী আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়া পর্যবেক্ষক মো. নাজমুল হাসান জানান, গতকাল ঈশ্বরদীতে ১০ দশমিক শূন্য ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, আগামী বৃহস্পতি, শুক্র ও শনিবার গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আর মাসের শেষে একটি শৈত্যপ্রবাহ হতে পারে।
হাড়কাঁপানো শীতে ঘরে ঘরে লেগে আছে সর্দি, কাশিসহ ঠান্ডাজনিত রোগবালাই; বিশেষ করে ছোট্ট শিশুদের রোগের প্রকোপ বেশি। ঘন কুয়াশার কারণে ঈশ্বরদী থেকে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যানবাহন চলাচলে বিঘœ ঘটছে। সূর্যের দেখা না মেলায় কিছু কিছু ফসলেরও ক্ষতি হচ্ছে। কনকনে শীতে খেটে খাওয়া মানুষরাও বেকার হয়ে পড়েছে। পথশিশু ও ছিন্নমূল মানুষদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
গাইবান্ধায় তীব্র শীত ছাড়াও দুই সপ্তাহ ধরে ঘন কুয়াশায় ঢাকা পড়েছে জনপদ। ঘন কুয়াশায় সূর্যের দেখা নেই ছয় দিন ধরে। দিনের বেলায়ও ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলছে হেড লাইট জ¦ালিয়ে। গাইবান্ধা সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সর্দি, কাশি, জ¦র ও অ্যাজমায় আক্রান্ত শিশু ও বয়স্ক রোগীরা বেশি আসছে। শীতে সব থেকে বেশি দুর্ভোগে পড়েছে তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্র নদীবেষ্টিত চরাঞ্চলের মানুষ ও গবাদিপশু।
রংপুর আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. মোস্তাফিজুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, গাইবান্ধায় প্রতিদিনই তাপমাত্রা কমছে। এমন পরিস্থিতি আরও দুদিন থাকতে পারে। মঙ্গলবার থেকে মেঘের আনাগোনা শুরু হতে পারে।
খুলনা আঞ্চলিক আবহাওয়া অফিসের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ আমিরুল আজাদ জানান, গতকাল খুলনায় তাপমাত্রা ছিল ১২ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগের দিন শনিবারের তাপমাত্রাও ছিল একই রকম; যা এ বছরে খুলনায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। চুয়াডাঙ্গায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে সর্বনিম্ন ৯ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
রিকশাচালক আলমাস জোয়ার্দার বলেন, ‘শীতে অবস্থা কাহিল। সারা দিন সূর্যের মুখ দেখাই যাচ্ছে না। কিন্তু পেট তো বাঁচাতে হবে।’
খুলনা শিশু হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ইমতিয়াজ আহমেদ জানান, শিশুরা ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। হাসপাতালে অসুস্থ শিশুদের চাপ বেড়েছে। গতকাল বহির্বিভাগে ৬৫০-৭০০ রোগীর চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ভর্তি আছে আড়াইশর বেশি শিশু।
কুমিল্লায় পাঁচ দিন ধরে দেখা মিলছে না সূর্যের। অধিকাংশ সময়ই আকাশ থাকছে মেঘাচ্ছন্ন।
আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, গতকাল কুমিল্লায় সর্বনিম্ন ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে। আগামী তিন দিন এই অবস্থা থাকবে। ১৭-১৮ জানুয়ারি বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
নাঙ্গলকোট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুদিন বহির্বিভাগে রোগী বেড়েছে। প্রতিদিন ৬০০-৭০০ রোগী আসছে। বেশির ভাগই শিশু ও বয়বৃদ্ধ। শীতজনিত রোগে আক্রান্ত ২৩৫ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডাক্তার দেবদাস দেব দেশ রূপান্তরকে বলেন, তীব্র শীতে শিশু ও বৃদ্ধ মানুষের সমস্যা। অসুস্থ হলে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে নিয়ে আসতে হবে।