গাজা যুদ্ধের সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা এখন বাস্তবে রূপ নিয়েছে। গাজায় ইসরায়েলের অব্যাহত আগ্রাসনের মধ্যে লেবানন থেকে হিজবুল্লাহর ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে এক ইসরায়েলি সেনা ও তার মা নিহত হয়েছেন। আবার ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা মার্কিন যুদ্ধজাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। অবশ্য হুতি হামলা রুখে দেওয়ার দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যে গতকাল সোমবার এডেন বন্দরের কাছে আরেকটি জাহাজে হামলার খবর পাওয়া যায়।
গতকাল আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, দক্ষিণ লেবানন থেকে নিক্ষেপ করা ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ইসরায়েলি সেনা ও তার মা নিহত হন। গত রবিবার সকালে ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলীয় গ্রাম কেফার ইউভালে এ ঘটনা ঘটে। এতে নিহত নারীর নাম মিরা আয়লন (৭৬)। আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি এবং পরে মারা যান। তবে তার ছেলেকে আগেই মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। বলা হচ্ছে, হিজবুল্লাহ এই হামলা চালিয়েছে।
ওই ঘটনার পর ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী জানায়, লেবানন থেকে ইসরায়েলে প্রবেশের সময় চার সশস্ত্র ব্যক্তিকে হত্যা করা হয়েছে। ওইসব ব্যক্তি ভারী অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত ছিলেন।
আবার লোহিত সাগরের দক্ষিণে মোতায়েন করা অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি যুদ্ধজাহাজে হামলা চালায় হুতি বিদ্রোহীরা। হামলায় ব্যবহৃত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করে দেওয়ার দাবি করেছে ওয়াশিংটন। গত রবিবার মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, মার্কিন ডেস্ট্রয়ার ইউএসএস লাবুনের দিকে আসা ক্ষেপণাস্ত্রটি যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমানগুলো ইয়েমেনের হুদায়দাহ উপকূলের কাছাকাছি এলাকায় ভূপাতিত করে।
ওই বিবৃতির পর হুতিদের মুখপাত্র মোহাম্মদ আবুল সালাম বলেন, মার্কিন বিমানগুলো ইয়েমেনের আকাশসীমা ও উপকূলীয় এলাকার কাছ দিয়ে উড়তে দেখা গেছে। এ ঘটনা ‘ইয়েমেনের জাতীয় সার্বভৌমত্বের নির্লজ্জ লঙ্ঘন’ বলে মনে করেন তিনি। তবে দুই কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে একই ঘটনার বর্ণনা করা হয়েছে কি না তা নিশ্চিত নয়।
গতকাল ইসরায়েলের উত্তরের শহর রানানায় গাড়িচাপা দেওয়ার ঘটনায় এক নারী নিহত হন এবং এতে আহত হয় আরও ১৮ জনের মতো। এ সময় দুই ফিলিস্তিনি ওই গাড়ি চালাচ্ছিলেন। ইসরায়েলি পুলিশ ওই দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ এ ঘটনাকে সন্ত্রাসী আক্রমণ হিসেবে অভিহিত করেছে। ওই দুজন পশ্চিমতীরের হেবরন শহরে একই পরিবারের সদস্য।