গাজায় আরও মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর সুযোগ করে দিতে ইসরায়েল এবং ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের মধ্যে একটি চুক্তি হয়েছে। কাতার ও ফ্রান্সের মধ্যস্থতায় হওয়া এই চুক্তি মোতাবেক হামাসের হাতে বন্দি থাকা ইসরায়েলি জিম্মিদের ওষুধ সরবরাহ করা হবে। এর বিনিময়ে গাজায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ করতে দেবে ইসরায়েল। তবে এই চুক্তি যে যুদ্ধক্ষেত্রে কোনো পরিবর্তন আনছে, তা বলাই যায়; কারণ ২৪ ঘণ্টায় ১৬৩ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে তেল আবিব।
তিন মাসের বেশি সময় ধরে চলা সংঘাতে গাজা উপত্যকায় কার্যত দুর্ভিক্ষের অবস্থা বিরাজ করছে। ঠিক এ সময় সেখানে আরও ত্রাণ সহায়তা পৌঁছানোর অনুমোদন দেওয়া হলো। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল আনসারি সমঝোতা হওয়ার কথা জানান।
চুক্তি অনুযায়ী, গতকাল বুধবার কাতারের রাজধানী দোহা থেকে ত্রাণবাহী বিমানগুলো মিসরে যাবে। পরে সেখান থেকে রাফাহ সীমান্ত ক্রসিং পার হয়ে গাজায় প্রবেশ করবে। উপত্যকার সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে এসব ত্রাণ বিতরণ করা হবে। এ সময়ের মধ্যে ইসরায়েলি জিম্মিদের কাছেও ওষুধ বিতরণ করা হবে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, ইসরায়েলের দেওয়া তালিকা মোতাবেক ফ্রান্স থেকে ওষুধ কেনা হয়েছে। পরে সেগুলো কাতার থেকে মিসরে নেওয়া হবে এবং এরপর ইসরায়েলি জিম্মিদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। রেড ক্রিসেন্ট ওষুধ বিতরণের কাজটি তদারকি করবে।
গাজার হামাসনিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ১৬৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলের হামলায় ২৪ হাজার ৪৪৮ জন নিহত হয়েছে।
আবার ইয়েমেনের শিয়া মতাবলম্বী হুতি বিদ্রোহীদের হাতে ইরানের অস্ত্রের চালান যাচ্ছে বলে দাবি করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। এবার গতকাল জানা গেল, ওই অভিযানে যাওয়া মার্কিন নেভি সিলসের দুই কমান্ডো নিখোঁজ হয়েছেন।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) গত মঙ্গলবার জানায়, গত বৃহস্পতিবার রাতে সোমালিয়া উপকূলের কাছে আরব সাগরের আন্তর্জাতিক জলসীমায় অভিযানটি চালায় নেভি সিলস। অভিযানটি গত বৃহস্পতিবার চালানো হলেও দুই কমান্ডোর নিখোঁজের তথ্য এখন জানানো হলো। ‘নেভি সিলস’ মার্কিন নৌবাহিনীর বিশেষ অভিযান পরিচালনাকারী দল।