খুলনার কয়রা কপোতাক্ষ ডিগ্রি মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ অদৃশ আদিত্য ম-লের হাতে অবসরপ্রাপ্ত সহকারী অধ্যাপক দেবদুলাল তরফদারকে লাঞ্ছিত হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অবসর-ভাতা ও কল্যাণ ট্রাস্টের টাকা ছাড় করতে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ না দেওয়ায় সহকারী অধ্যাপককে ঘুসি মেরে ঠোঁট ফাটিয়ে দেন প্রতিষ্ঠানটির ওই অধ্যক্ষ। গত বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় উপজেলা সদরের কয়রা কপোতাক্ষ ডিগ্রি মহাবিদ্যালয় অধ্যক্ষের অফিস কক্ষে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী অবসরপ্রাপ্ত সহকারী অধ্যাপক দেবদুলাল তরফদার জানান, কয়রা কপোতাক্ষ ডিগ্রি মহাবিদ্যালয় থেকে তিনি সদ্য অবসরে যান। বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে অবসরজনিত কাগজে সই করার জন্য তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ অদৃশ আদিত্য ম-লের অফিস কক্ষে যান। পরে তিনি কাগজ ছাড় করতে অধ্যক্ষকে অনুরোধ করেন। এ সময় অধ্যক্ষ অধ্যাপক দেবদুলালের কাছে পঞ্চাশ হাজার টাকা দাবি করেন। এমন দাবির পরিপ্রেক্ষিতে অধ্যক্ষকে বলেছেন, আগে বিশ হাজার তো দিয়েছি স্যার, আমার ফাইলটি ছাড়িয়ে দেন। তখন আদিত্য ম-ল ক্ষিপ্ত হয়ে মুখে ঘুসি মেরে ফ্লোরে ফেলে দেন। এরপর কোটের কলার ধরে টেনে ফ্লোর থেকে তুলে আবার মারধর করেন। এ সময় কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীরা এসে অধ্যক্ষের হাত থেকে তাকে ছাড়িয়ে নেন।
এ ব্যাপারে কয়রা কপোতাক্ষ মহাবিদ্যালয় ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ অদৃশ আদিত্য ম-ল দেশ রূপান্তরকে বলেন, আসলে সহকারী অধ্যাপক দেবদুলাল তরফদার মানসিক বিকারগ্রস্ত মানুষ। তার কাছে কোনো ঘুষের টাকা চাওয়া হয়নি। মাত্র সাত দিন আগে দেবদুলাল কাগজ জমা দিয়েছেন। তিনি অন্য কলেজেও চাকরি করেছেন। সুতরাং কাগজ প্রস্তুত করতে কিছু সময় তো লাগে। কিন্তু তিনি সেই সময় দিতে চান না।’
লাঞ্ছিত করার বিষয়ে অধ্যক্ষ বলেন, দেবদুলাল তাকেই মারার চেষ্টা করেন। তিনি প্রতিরক্ষার জন্য দেবদুলালকে ধাক্কা দেন। এ সময় পাশে স্টিলের আলমারিতে আঘাত পেয়ে তিনি আহত হয়েছেন।