নিত্যদিনের অনুষঙ্গ হিসেবে প্রয়োজনীয়তার পাশাপাশি ফ্যাশনেও ব্যাগের কদর কম নয়। ক্লাস, ক্যাম্পাস, অফিস কিংবা হুট করে কোথাও বেড়াতে বেরোনো এবং শপিং সব ক্ষেত্রেই ব্যাগ অপরিহার্য। ফ্যাশনের হাওয়া বদল শুধু পোশাকে বা সাজসজ্জায় নয়, ব্যাগের ডিজাইনেও আবর্তিত হয়। ফ্যাশনে ফিরে এসেছে বড়সড় ব্যাগগুলো। বড় ব্যাগ এখন দারুণ ট্রেন্ডি। ক্রেতাদের পছন্দের প্রায়োরিটি অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের বড় ব্যাগ এবং তার খুঁটিনাটি চলুন দেখে নেওয়া যাক। লিখেছেন তানজিলা তাহরিন
ক্যানভাস টোট ব্যাগ
যে টোট ব্যাগগুলো ভীষণ জনপ্রিয় হয়েছে সেই তালিকায় ওপরের দিকে রয়েছে ক্যানভাস টোট ব্যাগ। কাপড়, জুট বা ডেনিমের তৈরি হওয়ায় এই টোট ব্যাগগুলোকে ধরা হয় জেন্ডার নিউট্রাল হিসেবে। ফলে নারী-পুরুষ উভয়ের নির্ভরতার জায়গা নিচ্ছে এই টোট ব্যাগ। এই ব্যাগগুলোর শৈল্পিক আবেদনও কম নয়। পাটের বা কাপড়ের ক্যানভাস ব্যাগে রঙতুলির আঁচড় বা সুই-সুতার কাজ ব্যাগগুলোকে দারুণ ফ্যাশনেবল করে তুলছে। এ ছাড়া ক্যারি করা সহজ হওয়ায় এই ধরনের ব্যাগের চাহিদা বাড়ছে। শাড়ি, কামিজ বা জিনস কুর্তি যে কোনো পোশাকের সঙ্গেই এই ব্যাগগুলো দারুণ মানানসই। মানিয়ে যায় ফতুয়া বা পাঞ্জাবির সঙ্গেও। প্রথম দিকে ছোট হাতলের টোট ব্যাগের প্রচলন থাকলেও হালের ফ্যাশনে মাঝারি হাতল যুক্ত হয়েছে টোট ব্যাগে। ফলে চাইলে ঘাড়েও ঝোলানো যায় সহজেই। এই ব্যাগগুলোর মূল উপকরণ সাধারণত ক্যানভাস কাপড়, ডেনিম বা জিনস। এর ওপর করা হয় বিভিন্ন ধরনের নকশা বা কারুকাজ। আড়ং, পটের বিবি, যাত্রাসহ বিভিন্ন ফ্যাশন হাউজগুলোতেও পাওয়া যাচ্ছে এ ধরনের ডিজাইনার টোট ব্যাগ। এ ছাড়া অনলাইন পেজগুলোতেও রয়েছে এর প্রাচুর্য। শিক্ষার্থী, কর্মজীবী নারী বা নতুন মা সবার কাছেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এই ব্যাগগুলো। ভেতরে অনেক খানি জায়গা থাকায় বই-খাতা, লাঞ্চ বক্স, মেকআপ, পানির বোতল প্রায় সবই এটে যায়। দামটাও বেশ হাতের নাগালে থাকায় অনেকের কাছেই পছন্দের হয়ে উঠেছে ক্যানভাস টোট ব্যাগ।
লেদার টোট ব্যাগ
লেদার বা সিনথেটিকের টোট ব্যাগগুলো বর্তমানে কর্মজীবী মেয়েদের অন্যতম পছন্দ। দেখতে ফ্যাশনেবল হওয়ার পাশাপাশি ব্যাগগুলোর কোয়ালিটিও বেশ ভালো। টেকসই ও মজবুত হওয়ায় অফিসে ল্যাপটপসহ প্রয়োজনীয় সব কিছু ক্যারি করা যায়। ভেতরে বেশ কিছু চেম্বার থাকায় বিভিন্ন জিনিস গুছিয়েও রাখা যায়। ইউনিভার্সিটিতে যেতে বা কাজের ক্ষেত্রে কোথাও যাওয়ার জন্যও এই ব্যাগগুলো উপযুক্ত। এই ব্যাগগুলো সাধারণত কালো, ন্যুড বা বাদামি রঙেরই বেশি হয়ে থাকে। এগুলো দারুণভাবে মানিয়ে যায় ফরমাল পোশাকের সঙ্গে। অফিসের জন্য উপযোগী হওয়ায় অনেকে এই ব্যাগগুলোকে ওয়ার্ক টোট ব্যাগও বলে থাকেন।
প্রিন্টেড বা কালারফুল টোট
বিভিন্ন নকশার প্রিন্ট করা টোট ব্যাগগুলোও এখন বেশ ইন ট্রেন্ড। প্রিন্ট হিসেবে দেখা যাচ্ছে ফ্লোরাল, লেপার্ড, বিভিন্ন লেটার ও জ্যামিতিক মোটিফ। এ ছাড়া হাতলের সঙ্গে ছোট স্কার্ফ বা বো বাঁধা টোট ব্যাগগুলোও পছন্দের তালিকায় রয়েছে। পুঁতির মালা বা চেইন ব্যাগগুলোতে যোগ করেছে ফেস্টিভ লুক। পার্টি, হ্যাং আউট বা যে কোনো অনুষ্ঠানের জন্যও পারফেক্ট এই টোট ব্যাগগুলো।
ঝোলা বা ক্লাউড ব্যাগ
বিভিন্ন ম্যাটেরিয়ালের ঝোলা সদৃশ ব্যাগ ব্যবহার করতে দেখা যাচ্ছে অনেককেই। এগুলো সাধারণত কাপড়ের তৈরি হয়। তবে ম্যাটেরিয়ালের বৈচিত্র্যও রয়েছে। কখনো নরম ক্লাউড কাপড়, কখনো ডেনিম আবার জুট দিয়েও তৈরি হয় ঝোলা ব্যাগ। অ্যাস্থেটিক ধরনের হওয়ায় এর জনপ্রিয়তা এখন বেশ তুঙ্গে। ঢিলা জিনস ও শার্ট বা স্কার্টের সঙ্গে পারফেক্ট কম্বিনেশন এই ঝোলা ব্যাগগুলো। এ ছাড়া পাট ও মোটা কাপড়ের তৈরি ঝোলা ব্যাগগুলো মানিয়ে যায় শাড়ির সঙ্গে। ফ্যাশনপ্রেমীর পছন্দের তালিকায় এখন যুক্ত হয়েছে এই ঝোলা ব্যাগ।
ক্রচেট টোট ব্যাগ
কাপড় বা লেদারের পাশাপাশি সুতার বুননে তৈরি ক্রচেট ব্যাগও চলছে নতুন করে। এ ধরনের ব্যাগগুলো বিচে ঘুরতে গেলে বিচ গাউনের সঙ্গে দারুণ মানানসই। ক্রচেট ব্যাগের রয়েছে রকমফের। কখনো মোটা নাইলন সুতার আবার কখনো জুটের সুতায় বোনা হয় এ ব্যাগগুলো। রঙিন বা নিউট্রাল দুই ধরনেরই হয়। সাধারণত প্যাস্টেল শেইডের ক্রচেট ব্যাগুগুলো এখন বেশি দেখা যাচ্ছে। ডিজাইনে চলছে ফ্লোরাল মোটিফ বা জ্যামিতিক প্যাটার্ন। সঙ্গে ছোট বা মাঝারি হাতল। অনেকে এর সঙ্গে ম্যাচিং করে বড় হ্যাট পরেন। সব মিলিয়ে ব্যাগগুলো হয়ে ওঠে দারুণ আর্টিস্টিক।