রাজধানীর তেজগাঁও-এর আলোকি কনভেনশন সেন্টারে চলছে ‘খাদি উৎসব-২০২৪’। ফ্যাশন ডিজাইন কাউন্সিল অব বাংলাদেশ (এফডিসিবি)-এর আয়োজনে ‘খাদি : দ্য ফিউচার ফ্যাব্রিক শো’ প্রতিপাদ্য নিয়ে ১৯ জানুয়ারি শুরু হওয়া দুদিনব্যাপী চলমান এই উৎসবের শেষ দিন আজ শনিবার। প্রথম দিনের মতো উৎসবের দ্বিতীয় দিনেও সকাল ১০টায় শুরু হয়ে রাত ১০টা পর্যন্ত চলবে খাদি উৎসব।
চলমান খাদি উৎসব-২০২৪ এর লক্ষ্য হলো ঐতিহ্যবাহী ও পরিবেশবান্ধব খাদি পোশাকের প্রসার নিশ্চিত করা এবং এর পাশাপাশি খাদি কাপড়ের বিভিন্ন পণ্যর বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জনসাধারণকে অবগত করা।
অনুষ্ঠানটির আয়োজকরা বলেন, খাদি উৎসব বাংলাদেশের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে তুলে ধরার একটি প্রয়াস। ঐতিহ্যবাহী বস্ত্র খাদি শুধুমাত্র পোশাক বা ফ্যাশনের অনুষঙ্গ হিসেবেই নয়, এর বাইরেও দৈনন্দিন জীবনে এর বহুমাত্রিক ব্যবহার ও টেকসইত্ব নির্ধারণে এই উৎসব- প্রদর্শনী বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যায়। এছাড়াও এই আয়োজন পরিবেশবান্ধব ফ্যাশনের ভবিষ্যৎ গঠনের সম্ভাবনা সৃষ্টি করবে বলে মনে করছেন তারা।
অনুষ্ঠানের দুদিনই থাকছে ফ্যাশন ফিউশন রানওয়ে শো-এর আয়োজন। এতে শীর্ষ ডিজাইনাররা তাদের খাদি অনুপ্রাণিত সংগ্রহ উপস্থাপন করবেন। উৎসবের প্রথম দিনে খাদি অনুপ্রাণিত সংগ্রহ উপস্থাপন করেন ডিজাইনার জাকিয়া ও মায়শা, আবির ও তাজবীর, ফাইজা আহমেদ, তেনজিং চাকমা, ইবালারিহুন, আফসানা ফেরদৌসী, ইমাম হাসান, সাদিয়া রশিদ চৌধুরী ও অভিষেক রায় প্রমুখ।
আজ দ্বিতীয় দিনে প্রদর্শিত হবে ডিজাইনার শৈবাল সাহা, চার্লি, মাহিন খান, শাহরুখ আমিন, কুহু, নওশীন খায়ের, সায়ন্তন সরকার, লিপি খন্দকার, চন্দনা দেওয়ানের সংগ্রহসমূহ।
উৎসবে আরও আছে শিল্প-বিশেষজ্ঞ প্যানেলের বিশেষ আলোচনা। এতে তারা বর্তমান ফ্যাশনের হাল-হকিকত, প্রভাবক, স্থায়িত্ব ও ফ্যাশন শিল্পের ভবিষ্যৎ গঠনে খাদির ভূমিকা সম্পর্কে আলোকপাত করেন।
বাংলাদেশ ফ্যাশন ডিজাইন কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট মাহিন খান অনুষ্ঠান সম্পর্কে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, ‘খাদি উৎসব-২০২৪’ আয়োজনের লক্ষ্য আমাদের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য উদযাপন এবং টেকসই ফ্যাশন শিল্পের প্রচার। খাদি তার গভীর আবেদনের সঙ্গে আমাদের ঐতিহ্যকেই কেবল প্রতিফলিত করে না, এটিকে ধারণও করে। ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রির ভবিষ্যৎ গঠনে প্রভূত সম্ভাবনাময় একটি খাত এটি। ফ্যাশন ডিজাইনের প্রতি সচেতন ও টেকসই দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলার জন্যই এই আয়োজন। এছাড়া একটি পরিবেশবান্ধব ভবিষ্যতের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা প্রকাশে এই আয়োজন সহায়ক হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’
এই আয়োজনের টাইটেল স্পন্সর ‘মায়া’, পাওয়ার্ড বাই বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ), কো-স্পন্সর এইচএসবিসি, বার্জার, রূপায়ণ গ্রুপ এবং বাই হিয়ার নাউ।