বৃষ্টিতে কমল শীতের তীব্রতা

ঢাকা শহরে গতকাল সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৫ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আগের দিন ছিল ২৩ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কয়েক ফোঁটা বৃষ্টিতেই সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি বেড়ে গেছে। দুই ডিগ্রি বাড়ায় সর্বোচ্চ (২৫ দশমিক ২) ও সর্বনিম্ন (১৫) তাপমাত্রার ব্যবধান গতকাল ছিল ১০ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত ১৪ জানুয়ারি ব্যবধান ছিল ৩ দশমিক ৯ ডিগ্রি। সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার ব্যবধান কমে যাওয়ায় ঢাকা শহরসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় শৈত্যপ্রবাহ না থাকলেও শীতের তীব্রতা বেশি ছিল।

সর্বোচ্চ তাপমাত্রা শুধু ঢাকা শহরেই নয়, সারা দেশেই বেড়েছে। হঠাৎ সর্বোচ্চ তাপমাত্রা বাড়ার কারণ কী? এর জবাবে ঢাকা আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার রাতে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষিপ্তভাবে সামান্য বৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির কারণে আকাশের ওপর থাকা মেঘ কেটে গেছে, কুয়াশার আস্তরণ আর নেই। ফলে গতকাল শুক্রবার সূর্যের আলো বেশি সময় ধরে দেখা গেছে। এ কারণে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা বেড়েছে।’

সর্বোচ্চ তাপমাত্রা বাড়লে শীতের তীব্রতা কমবে কি? জবাবে তিনি বলেন, ‘সর্বোচ্চ তাপমাত্রা বাড়লেও রাতের তাপমাত্রা কমবে। তবে রাতের তাপমাত্রা কমলেও শীতের তীব্রতা বাড়বে না।’

আকাশের ওপরের কুয়াশার আস্তরণও কি কেটে গেছে? জবাবে বজলুর রশিদ বলেন, ‘কুয়াশার আস্তরণ কমে এসেছে। ফলে সূর্যের আলো আসতে সমস্যা হচ্ছে না।’

আবহাওয়া অফিসের উপাত্ত অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে চুয়াডাঙ্গায়, ২০ মিলিমিটার। যশোরে ১৯ মিলিমিটার, সাতক্ষীরায় ১৪, গোপালগঞ্জে ১২, বরিশালে ৫, পটুয়াখালীতে ৪ ভোলা ও খেপুপাড়ায় ৩, মাদারীপুর, নোয়াখালী ও সন্দ্বীপে ২, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, ফেনী, হাতিয়া, কুতুবদিয়া ও কুমারখালীতে ১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকা, ফরিদপুর, রাজশাহী ও চাঁদপুরে বৃষ্টির ফোঁটা পড়েছে, বৃষ্টিপাতের পরিমাণ এক মিলিমিটারের কম।

গতকাল সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত হাতিয়ায় ও মোংলায় সর্বোচ্চ ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। কুমিল্লা, সন্দ্বীপ, রাঙ্গামাটি, খুলনা, সাতক্ষীরা, পটুয়াখালী, যশোর, খেপুপাড়া ও ভোলায় এক থেকে তিন মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।

গতকাল দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে তেঁতুলিয়ায়, ৯ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে সন্দ্বীপ, সীতাকুন্ড, ফেনী ও কক্সবাজারে, ২৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

বৃষ্টির ফলে আকাশ পরিষ্কার হয়ে সূর্যের আলো প্রবেশ করলে শীতের তীব্রতা কমে আসবে। কিন্তু শৈত্যপ্রবাহ কি আর আসবে? জবাবে ঢাকা আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস কর্মকর্তা আবহাওয়াবিদ নাজমুল হক বলেন, ‘শৈত্যপ্রবাহ রংপুর বা উত্তরাঞ্চলের এলাকাগুলোতে কালও থাকতে পারে। তবে তা মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। শৈত্যপ্রবাহ থাকলেও সর্বোচ্চ তাপমাত্রা বাড়ার কারণে শীতের তীব্রতা কমবে।’

তাহলে কি এ মৌসুমে তীব্র শীত আর থাকছে না? জবাবে আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ বলেন, ‘২৩ বা ২৪ জানুয়ারি দেশের কয়েকটি এলাকায় কিছু বৃষ্টিপাত হতে পারে। বৃষ্টির পর তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে।’

গত সপ্তাহে শীতের তীব্রতায় সারা দেশ জবুথবু হয়েছিল। শীতের তীব্রতা বাড়লেও তাপমাত্রার পারদ বেশি নিচে নামেনি। এবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রার পারদ নামলেও সর্বোচ্চ তাপমাত্রা বেড়ে গেছে বলে আর তীব্র শীত অনুভূত হবে না বলে জানান আবহাওয়াবিদরা।

জানুয়ারি মাস বছরের সবচেয়ে শীতল মাস। এ সময় তাপমাত্রা কমবে এটাই স্বাভাবিক। সাধারণত কোনো অঞ্চলের তাপমাত্রা ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকলে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ, ৬ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকলে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ এবং ৪ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যায়।