মেট্রোলাইন নির্মাণের জন্য অধিগ্রহণকৃত জমির ক্ষতিপূরণ নিয়ে প্রতারণার ঘটনা ঘটেছে। দ্রুত ও বেশি টাকা ক্ষতিপূরণ পাওয়ার আশায় একজন হারিয়েছেন ১ কোটিরও বেশি টাকা। সাভারের হেমায়েতপুর এলাকার সাড়ে ৬ শতাংশ জমির ক্ষতিপূরণ ছাড়াও মালিককে দেওয়া হয়েছিল তার আত্মীয়ের কর্মসংস্থানের আশ্বাস।
এ ঘটনার তদন্ত করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। নথিপত্র পর্যালোচনা করে সাড়ে ৩১ লাখ টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত সংস্থাটি।
পিবিআই বলছে, ভুক্তভোগী পরিবারটির সঙ্গে আত্মীয়ের মতো সম্পর্ক গড়ে তুলেছিল বিবাদী। খুব সহজেই পরিবারটির সঙ্গে মিশে গিয়ে ধারাবাহিকভাবে ক্ষতিপূরণের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে অভিযুক্ত ব্যক্তি। প্রশাসন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে সখ্য আছে জানিয়ে অধিক ক্ষতিপূরণ পাওয়ার ফাঁদে ফেলা হয় তাদের। লেনদেনের যাবতীয় তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনার পর ৩১ লাখ ৬৬ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
হেমায়েতপুরের ওই সাড়ে ৬ শতাংশ জমির মালিক মো. ছাবেদ আলী। মামলার বাদী সাইদা সুলতানা আশা তার মেয়ে। স্বামীর পরিচয়ের সূত্র ধরেই আশার সঙ্গে পরিচয় হয় অভিযুক্ত মো. রেজাউল ইসলামের। আশার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রতারণার বিষয়ে বিস্তারিত বলতে রাজি হননি। তবে দেশ রূপান্তরকে বলেছেন, ‘আমি ও আমার বাবা ওই ব্যক্তিকে এক কোটিরও বেশি টাকা দিয়েছি। পিবিআই তদন্ত করে বলেছে, সাড়ে ৩১ লাখ টাকা মেরে দেওয়ার কথা তারা জেনেছে। তবে আমরা কাগজপত্র সঠিকভাবে দেখাতে পারিনি। আইনজীবীর পরামর্শ ছাড়া এ বিষয়ে আমি মন্তব্য করতে চাই না।’
রেজাউল ইসলামকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছে পিবিআই। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ‘রেজাউলের সঙ্গে বাদী আশার স্বামী শেখ মো. শাহীন হোসেনের পরিচয়ের সূত্র ধরে ভুক্তভোগী পরিবারটির বাসায় তার যাতায়াত ছিল। আশার সঙ্গে রেজাউলের ভাই-বোনের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তার মা-বাবার সঙ্গে ছেলের সম্পর্ক গড়ে তুলে তাদের বিশ্বাস অর্জন করে সে। আশার চাচাত ভাইয়ের মেয়ে জোহরা বেগম জ্যোতি দীর্ঘদিন ধরে চাকরির চেষ্টা করছিল। রেজাউল আশাকে জ্যোতির চাকরির ব্যবস্থা করে দিতে পারবে বলে জানায়।’
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, ‘মেট্রোরেলের জন্য আশার বাবার হেমায়েতপুরের জমি সরকারের অধিগ্রহণ করার বিষয়টিও রেজাউল জানতে পারে। এ বাবদ সে দ্রুত এবং বেশি টাকা ক্ষতিপূরণ আদায় করে দিতে পারবে বলে আশ্বাস দেয়। আশার কাছে কৌশলে সে টাকা চেয়েছে বিভিন্ন সময়ে। মোবাইল ব্যাংকিং ও একাধিক ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে মোট ৩১ লাখ ৬৬ হাজার টাকা দিয়ে প্রতারিত হয়েছে পরিবারটি।’
পিবিআই জানিয়েছে, জমির ক্ষতিপূরণ ও জোহরা বেগম জ্যোতিকে চাকরি দেওয়ার নাম করে ধারাবাহিকভাবে টাকা নিয়েছে রেজাউল। কিন্তু আশার ভাইয়ের মেয়েকে চাকরি দিতে পারেনি। মেট্রোরেলের জন্য অধিগ্রহণ করা জমি বাবদ সরকারের কাছ থেকে বেশি ক্ষতিপূরণ আদায় করে দিতেও ব্যর্থ হয়েছে। আশা ও তার পরিবার রেজাউলের কাছে দেওয়া টাকা ফেরত চাইলে সে টাকা দেবে না বলে জানায়। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত এ ঘটনা ঘটেছে। গত বছরের মার্চে অভিযুক্তের কাছে টাকা ফেরত চেয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে লিগ্যাল নোটিস পাঠায় তারা। এতেও টাকা ফেরত না দিলে তারা মামলা করে। পরে আদালত মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পিবিআইকে দেয়।
পিবিআই সদর দপ্তরের পুলিশ সুপার আবু ইউসুফ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ভুক্তভোগী পরিবার অভিযুক্তকে বিভিন্ন মাধ্যমে টাকা দিয়েছে। তদন্তে আমরা ৩১ লাখ ৬৬ হাজার টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পেয়েছি।’