ট্রেন চলে ব্যাটারিতে

জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমানোর লক্ষ্য সামনে রেখে ইউরোপের আঞ্চলিক পরিবহন ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ কেমন হতে পারে তার একটি উদাহরণ হাজির করেছে হিটাচি কোম্পানি। বিশেষ প্রযুক্তিতে তৈরি কোম্পানিটির কয়েকটি হাইব্রিড ট্রেন ইতিমধ্যে চলাচল করছে ইতালির টাস্কানি অঞ্চলে। ‘ব্লুস’ ট্রেন নামে পরিচিত এই চলছে ব্যাটারিতে!

জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলে বলছে, ডিজেলের পাশাপাশি ব্যাটারি চালু করে জ্বালানির ব্যবহার কমানোই হিটাচির মূল উদ্দেশ্য। ব্যাটারি ও ডিজেলের মেলবন্ধন ঘটাতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়লেও ‘ডিসরাপটিভ’ প্রযুক্তির মাধ্যমে সেটি নিশ্চিত করেছেন প্রকৌশলীরা। 

সংবাদমাধ্যটি বলছে, কোম্পানির ইতালি প্রতিনিধি ও প্রকৌশলী মার্কো সাকি ও তার টিম করোনা মহামারীর সময়ে পরিকল্পনার কাজ শুরু করেছিলেন। সেই পরিকল্পনা মতো হিটাচির সদর দপ্তরের (জাপান) সহায়তায় ইতালির উত্তরের পিস্টোরিয়ার কারখানায় ব্লুস ট্রেন তৈরি করা হয়। এখন পর্যন্ত প্রায় ৪০টি ট্রেন লাইনে নামানো হয়েছে। ট্রেনের প্রতিটি কামরায় দুটি করে ব্যাটারি বসানো আছে। ফলে প্রচলিত ডিজেল ট্রেনের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ কম জ্বালানি ব্যবহার করা হয়। ট্রেন চলার সময়েই ব্যাটারি চার্জ করা যায়। এমনকি ইলেকট্রিক গাড়ির মতো ব্রেক থেকে পাওয়া শক্তিও সেই কাজে লাগানো হয়। লাইনের যে সব অংশে বিদ্যুৎ সংযোগ রয়েছে,সেখানে ওভারহেড তার থেকে শক্তি আসে।

ইঞ্জিনিয়ার মার্কো সাকি বলেন, এখনো ডিজেল ইঞ্জিনের প্রয়োজন থাকলেও অদূর ভবিষ্যতে ট্রেন পুরোপুরি সেই জ¦ালানি ছাড়াই চলবে। হিটাচি রেলের কর্মকর্তা লুকা দাকিলা বলেন, ২০৩০ সালে হয় পুরোপুরি ব্যাটারিচালিত অথবা হাইব্রিড প্রযুক্তির প্রায় তিন হাজার নতুন ট্রেন বাজারে আসবে। আমাদের কাছে হাইব্রিড সমাধানসূত্র রয়েছে। এবার আমরা বছরখানেকের মধ্যেই পুরোপুরি ব্যাটারিচালিত ট্রেন বাজারে আনব। যেসব এলাকায় ইলেকট্রিক লাইন নেই, সেখানকার চাহিদা মেটাতে এটা এক ‘স্মার্ট’ জবাব হবে বলে আমাদের বিশ্বাস।

লুকা দাকিলা বলেন, ‘আমাদের মতে, দূষণ ও কার্বন-ডাইঅক্সাইড নির্গমন কমাতে মাঝারি মেয়াদে ব্যাটারিই সেরা উপায়। আমরা জানি, আমাদের প্রতিযোগীরা অন্যান্য সমাধানসূত্রের প্রতি মনোযোগ দিচ্ছে। আমরা খুশিমনে পাল্লা দিতে প্রস্তুত। হাইড্রোজেনের মতো কিছু সমাধানসূত্র নিয়ে আমরা জাপানে পরীক্ষার পর্যায়ে রয়েছি। তবে ব্যাটারির সুবিধা হলো, প্রচলিত ট্রেনেই সেগুলো বসানো যায়। ইন্টারসিটি ট্রেনগুলো অদূর ভবিষ্যতেই ব্যাটারি ব্যবহার করতে চলেছে। 

ডয়চে ভেলে বলছে, শুধু হিটাচি কোম্পানিই নয়, জার্মানির সিমেন্স এবং ফ্রান্সের আলস্তোম এই নতুন প্রযুক্তি কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে। গোটা ইউরোপে এমন ধরনের ট্রেন দেখতে বেশিকাল অপেক্ষা করতে হবে না।