নিতিশকে শিক্ষা দিতে মাঠে লালু

সারা ভারতের চোখ যেন বিহার রাজ্যে গিয়ে পড়েছে। গত বছর ভারতের ২৮টি বিরোধী দল মিলে কেন্দ্রে ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে যে জোট গঠন করেছিল, তার বাঁচা-মরার মঞ্চ হয়ে উঠেছে বিহার। কারণ বিরোধীজোট ছেড়ে বিহারের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী নিতিশ কুমার ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সঙ্গে হাত মেলাতে যাচ্ছেন। নিতিশের সম্ভাব্য ডিগবাজি ঠেকাতে মাঠে নেমেছে বিরোধীজোটের অন্যতম শরিক রাষ্ট্রীয় জনতা দলের (আরজেডি) বর্ষীয়ান নেতা লালু প্রসাদ যাদব। 

ভারতের গণমাধ্যমের খবর, আগামীকাল রবিবার সংযুক্ত জনতা (জেডিইউ) দলের নেতা নিতিশ কুমার আরও একবার বিজেপির সমর্থনে মুখ্যমন্ত্রিত্বের শপথ নিচ্ছেন। বিজেপির দুজনকে উপমুখ্যমন্ত্রীর পদ দেওয়ার কথাও চূড়ান্ত। এমনকি বিহারে কংগ্রেস ভেঙে দলটির কয়েকজন নেতাকেও সরকারের সমর্থকে পরিণত করছেন নিতিশ। অথচ কয়েক মাস আগে ২৮টি দলের সমন্বয়ে বিজেপিবিরোধী ‘ইনডিয়া’ জোট গঠন করার প্রক্রিয়াতে সামনের সারিতে দেখা গিয়েছিল তাকে।

তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, বিজেপির সমর্থন নিয়েই প্রথমে মুখ্যমন্ত্রী হন নিতিশ। কিন্তু ২০২২ সালে তিনি বিজেপির সঙ্গ ত্যাগ করে আরজেডি, কংগ্রেস ও বামপন্থিদের সমর্থনে সরকার গঠন করেন। এ সময় লালুর ছেলে তেজস্বী যাদব উপমুখ্যমন্ত্রী হন। এবার এই সরকার ভেঙে নতুন সরকার গঠন করতে চান নিতিশ।  কিন্তু বিহারের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী লালু প্রসাদ যাদব হাল ছাড়ছেন না। বিহারের আরেক সাবেক মুখ্যমন্ত্রী জিতনরাম মাঝিঁর ‘হিন্দুস্তানি আওয়াম মোর্চার (হাম)’ দিকে হাত বাড়িয়েছেন লালু। হামের চার বিধায়কের সমর্থনের বিনিময়ে জিতনের ছেলে সুমনকে উপমুখ্যমন্ত্রিত্বের প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। বলা যায়, বিহারে বর্তমান সরকারকে টিকিয়ে রেখে নিতিশকে শিক্ষা দিতে চান লালু।

২৪৩ আসনের বিহার বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ১২২ বিধায়কের সমর্থন। আরজেডির বিধায়ক ৭৯, কংগ্রেসের ১৯, সিপিআইএমএল লিবারেশনের ১২, সিপিআইএমের ২ এবং সিপিআইয়ের ২ এবং আরও এক স্বতন্ত্র বিধায়কও তাদের সঙ্গে। হায়দরাবাদের এমপি আসাদউদ্দিন ওয়াইসির দলের এক বিধায়কও লালুর জোটকে সমর্থন করতে পারেন। সব মিলিয়ে ১২০ জনের মতো বিধায়কের সমর্থন রয়েছে লালুর। অর্থাৎ আর দুজন হলেই আরজেডি ও কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন জোট সরকার হতে পারে বিহারে। লালু জোরদার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।