ময়মনসিংহের প্রাচীনতম দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

জামিয়া ইসলামিয়ার প্রাক্তন ছাত্রদের পুনর্মিলনী

বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রাচীনতম দ্বীনি বিদ্যাপীঠ জামিয়া ইসলামিয়া, সেহড়া, মোমেনশাহী। ১৯৪২ খিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠার পর থেকে অদ্যাবধি জাতির সেবায় নানাবিধ খেদমত আঞ্জাম দিয়ে আসছে। ৮০ বছরের পথ পরিক্রমায় এই প্রতিষ্ঠান তৈরি করেছে হাজারো নায়েবে নবী, হাফেজ, মাওলানা, মুফতি, মুহাদ্দিস ও দ্বীনের দাই। যারা দেশের সীমানা পেরিয়ে ছড়িয়ে আছেন বিশ্বের নানাপ্রান্তে। নিয়োজিত আছেন উম্মাহর কল্যাণ সাধনে। জামিয়ার সেই সব প্রাক্তন কৃতী শিক্ষার্থীদের একসূত্রে জড়িয়ে রাখতে প্রাক্তন ছাত্রদের সমন্বয় ও সহযোগিতায় গঠিত হয়েছে, ‘আবনায়ে জামিয়া ইসলামিয়া।’ প্রাক্তন ছাত্রদের এই পরিষদের উদ্যোগে শনিবার অনুষ্ঠিত হবে ‘আবনায়ে জামিয়ার’ দ্বিতীয় সম্মেলন।

সকাল ৯টায় শুরু হওয়া দিনব্যাপী এ আয়োজনে  এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যারা শিক্ষাজীবন কাটিয়েছেন কয়েক যুগ আগে, তাদের রয়েছে অনেক সুমধুর স্মৃতি। সেসব স্মৃতি ভাগাভাগি করতে মিলনমেলায় অংশ নেবেন প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। এ ছাড়া দেশবরেণ্য অনেক আলেম, লেখক, পীর-মাশায়েখ ও ইমাম-খতিবরাও সম্মেলনের অংশগ্রহণ করবেন। আয়োজকদের প্রত্যাশা, জামিয়ার এ আনন্দময় মিলনমেলা প্রাক্তন ছাত্রদের আনাগোনায় মুখরিত হয়ে উঠবে। প্রাক্তন ছাত্রদের মিলনমেলা বাস্তবায়নে বেশ কয়েকটি উপকমিটি প্রায় এক মাস ধরে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এ উপলক্ষে ‘আবনায়ে জামিয়া পুনর্মিলনী স্মারক-২০২৪’ নামে একটি সমৃদ্ধ স্মারকগ্রন্থ প্রকাশ করা হয়েছে।

যেখানে জামিয়ার ইতিহাস-ঐতিহ্য, স্মৃতিকথা, জামিয়ার শিক্ষা ও শিক্ষকদের আদর্শিক প্রভাবসহ নানা বিষয়ের প্রয়োজনীয় অনেকগুলো লেখা রয়েছে। রয়েছে জামিয়ার বহুমুখী খেদমতের নানা দিক নিয়ে পর্যালোচনা ও প্রস্তাবনা, জামিয়ার সোনালি অতীত ও সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ আশার কথা।

জামিয়া ইসলামিয়ার মুহতামিম মাওলানা আনওয়ারুল হক, শিক্ষা সচিব মাওলানা আবদুল কাইয়ূম, স্মারক প্রকাশনা উপ-কমিটির আহ্বায়ক মাওলানা মুখলেছুর রহমান ও সদস্য সচিব আমীর ইবনে আহমদসহ সংশ্লিষ্টরা এ প্রতিষ্ঠানের একজন প্রাক্তন ছাত্র, শুভাকাক্সক্ষী ও কল্যাণকামী হিসেবে স্মৃতিময় এই সম্মেলনে অংশগ্রহণের জন্য বিশেষভাবে আহ্বান জানিয়েছেন।

আয়োজকদের সূত্রে জানা গেছে, অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের দুপুরের আপ্যায়নসহ রয়েছে নানা উপহার। নিবন্ধন ফি মাত্র ৫০০ টাকা। অনুষ্ঠান চলাকালেও নিবন্ধন করা যাবে।

উল্লেখ্য, হাকিমুল উম্মত মাওলানা আশরাফ আলী থানভি (রহ.)-এর স্নেহধন্য শাগরেদ মাওলানা মনযুরুল হক (রহ.) ১৯৪২ সালে মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠা করেন। ময়মনসিংহ শহরের প্রাণকেন্দ্র চরপাড়া মোড়ে ডাক্তার নেওয়াজ আলী (রহ.)-এর দেওয়া প্রায় ৮০ শতাংশ জমির ওপর দারুল উলুম নামে যাত্রা শুরু করে। পরে ১৯৫৬ সালে প্রতিষ্ঠানটির নামকরণ করা হয় জামিয়া ইসলামিয়া সেহড়া, মোমেনশাহী, যা আজও সগৌরবে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে।

বর্তমানে মাদ্রাসায় ১২ শতাধিক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন। শিক্ষক ও কর্মচারীর সংখ্যা অর্ধশতাধিক। নূরানি থেকে দাওরা ও ইফতা পর্যন্ত এখানে পড়ানো হয়। মাদ্রাসার রয়েছে একটি বিশাল গ্রন্থাগার। আছে সাহিত্য ও প্রকাশনা বিভাগসহ বক্তৃতা প্রশিক্ষণ, ইসলামি সাংস্কৃতিক বিভাগ এবং দাওয়াতি কার্যক্রম। দেশের প্রতিষ্ঠিত বহু আলেম, লেখক ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব এখান থেকে ইলমে দ্বীন হাসিল করেছেন।