শৈত্যপ্রবাহ আরও দুই-তিন দিন

গত দুই সপ্তাহ ধরে দেশের বেশ কয়েকটি জেলায় চলছে মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ। ঘন কুয়াশার কারণে অনেক এলাকায় সূর্যের মুখ পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে না। এর মধ্যেই উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় তাপমাত্রা ৬ ডিগ্রির নিচে নেমে গেছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, দেশে যে শৈত্যপ্রবাহ চলছে সেটি আরও দু-তিন দিন স্থায়ী হতে পারে এবং তা বিস্তার লাভ করতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, পঞ্চগড়সহ দেশের ১২ জেলায় বইছে শৈত্যপ্রবাহ। এর মধ্যে গতকাল শুক্রবার পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৫ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়, যা এর আগের দিনের সর্বনিম্ন তাপমাত্রার চেয়েও ২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস কম।

পাঁচ বছর আগেও এখানে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। ২০১৮ সালের ৮ জানুয়ারি পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় তাপমাত্রা নেমেছিল ২.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বনিম্ন তাপমাত্রার রেকর্ড।

তাপমাত্রা ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়। ৬ থেকে ৮ ডিগ্রি হলে মাঝারি এবং ৪ থেকে ৬ ডিগ্রিতে নামলে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ ধরা হয়।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক দেশ রূপান্তরকে বলেন, তেঁতুলিয়ায় মাঝেমধ্যে এরকম কমবেশি হয়। তাছাড়া হিমালয়ের বাতাস সরাসরি তেঁতুলিয়া হয়ে প্রবেশ করে। এতে এই এলাকায় তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে। আগামী কয়েক দিন আবহাওয়া একইরকম থাকতে পারে।

তিনি বলেন, এ সময়টা এরকম শীত অনুভূত হওয়াটাই স্বাভাবিক। তবে কয়েক দিনের মধ্যে বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করবে। তবে দ্রুতই শীতের অনুভূতি কমবে না। ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত শীতের অনুভূতি থাকবে।

এ আবহাওয়াবিদ বলেন, চুয়াডাঙ্গা জেলাসহ রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।

গতকাল আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারা দেশে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা বিস্তার লাভ করবে। এ ছাড়া কোথাও কোথাও দুপুর পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকতে পারে। কুয়াশার কারণে বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন এবং সড়ক যোগাযোগ বিঘিœত হতে পারে। এজন্য যাত্রী এবং ভ্রমণকারীদের জন্য সতর্কতা অবলম্বন করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরে তথ্যমতে, আজ শনিবার এবং আগামীকাল রবিবার তাপমাত্রা তেমন একটা বাড়বে না। তবে এরপর থেকে বাড়তে পারে। আর রাজধানীর তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে।

শৈত্যপ্রবাহের বিষয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, রংপুর বিভাগের ওপর দিয়ে শৈত্যপ্রবাহ বইছে। এ ছাড়া রাজশাহী, পাবনা, চুয়াডাঙ্গা ও নওগাঁ জেলাতেও শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।

উত্তরের জনপদে শীতের প্রকোপ বাড়লেও ঢাকার তাপমাত্রা খানিকটা বেড়েছে। গতকাল রাজধানীর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৫ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগের দিন সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৪ দশমিক ২ ডিগ্রি।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, কোথাও কোথাও আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলেও আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। এ ছাড়া রাতের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস হ্রাস পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে ঠাণ্ডা পরিস্থিতি বিরাজ করতে পারে। তবে সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

তীব্র শৈত্যপ্রবাহে কাঁপছে পঞ্চগড় : তাপমাত্রার পারদ ৫ ডিগ্রিতে নামায় তীব্র শীতে কাঁপছে উত্তরের হিমাঞ্চলের জেলাখ্যাত পঞ্চগড়। টানা শৈত্যপ্রবাহ ও ঘন কুয়াশার কারণে বিপর্যস্ত পরিস্থিতিতে জনজীবনে নেমে এসেছে স্থবিররতা। শীতের তীব্রতায় জর্জরিত শিশু ও বৃদ্ধরা। লাগাতার শীতের কারণে দুর্ভোগ বেড়েছে খেটেখাওয়া মানুষদের।

এ ছাড়া পাল্লা দিয়ে বেড়েছে নিউমোনিয়া, অ্যাজমা, হাঁপানি, শ্বাসকষ্ট ও ডায়রিয়াসহ শীতজনিত বিভিন্ন রোগ। এসব রোগে আক্রান্ত হয়ে জেলা ও উপজেলার হাসপাতালগুলোর আউটডোরে চিকিৎসা নিচ্ছেন লোকজন।

সিভিল সার্জন ডা. মোস্তফা জামান চৌধুরী জানান, শীতে হাসপাতালগুলোতে শীতজনিত রোগ নিয়ে প্রচুর রোগী আসছে। বিশেষ করে সর্দি-কাশি, শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হচ্ছে অনেক শিশু। অনেকে চর্মরোগ ও ডায়রিয়ার মতো রোগেও আক্রান্ত হচ্ছে। শীত বাড়লে এ রোগ আরও বাড়বে।

জেলা প্রশাসক মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, শীতপ্রবণ জেলা হিসেবে প্রতি বছর পঞ্চগড়ে সরকারি-বেসরকারিভাবে পর্যাপ্ত কম্বল বিতরণ করা হয়। এবারও প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল এবং ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয় থেকে এখন পর্যন্ত ৩০ হাজার শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। শীতবস্ত্রের চাহিদা জানিয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে জরুরি চিঠি পাঠানো হয়েছে। শিগগিরই শীতবস্ত্র পাওয়া যাবে।

মাঘের শীতে কাবু কুড়িগ্রামের মানুষ : কনকনে ঠা-া আর ঘন কুয়াশায় স্থবির হয়ে পড়েছে উত্তরের জেলা কুড়িগ্রাম। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া লোকজন ঘরের বাইরে যাচ্ছে না। গতকাল জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

শীতের তীব্রতায় জেলার হাসপাতালগুলোতে বেড়েছে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট, সর্দি-কাশিসহ শীতজনিত রোগী। তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে থাকায় জেলার মাধ্যমিক ও প্রাথমিক পর্যায়ের দুই হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে।

কুড়িগ্রামের রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার বলেন, জানুয়ারি মাস জুড়েই তাপমাত্রা এরকম থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ মাসের ২৮ তারিখের পর তাপমাত্রা কিছুটা বৃদ্ধি পেতে পারে।