উপজেলায় দলীয় প্রতীক ছাড়া নির্বাচন হলে বাংলাদেশের জন্য ভালো হবে বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। তিনি বলেছেন, ‘শিক্ষণীয় প্রসেসের মধ্যেই এবার দলীয় প্রতীক ছাড়া উপজেলা নির্বাচন হবে। জনগণের চাহিদা বলেই জনগণের সরকার ও জনগণের সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’
গতকাল শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা পৌর সদরে অবস্থিত জাহানারা হক পাবলিক লাইব্রেরির উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
‘নৌকা প্রতীক ছাড়া উপজেলা নির্বাচন আওয়ামী লীগের নৈতিক পরাজয়’ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মঈন খানের এমন মন্তব্যের জবাবে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, ‘উপজেলা নির্বাচন যখন আগে হতো, তখন বিএনপি উপজেলা নির্বাচনে দলীয় প্রতীক দেয়নি। তখন কি তাদের নৈতিক পরাজয় হয়েছিল? এ রকম উদ্ভট কথা বললে তো আমার মনে হয়, উত্তর দেওয়ার প্রয়োজন হয় না।’ মন্ত্রী আরও বলেন, ‘তবু আমি একটা কথা বলতে চাই, জনগণ যেভাবে অভ্যস্ত সে অবস্থায় নির্বাচন করাটা আমার মনে হয় সঠিক। এর আগে নৌকা প্রতীকে নির্বাচন হয়েছে এবং আমার মনে হয় ভবিষ্যতে এই প্রতীক নিয়েই স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে।’
এর আগে কসবা পৌর সদরে অবস্থিত জাহানারা হক পাবলিক লাইব্রেরি উদ্বোধন শেষে সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমি সব অবকাঠামো তৈরি করে দিতে পারব, কিন্তু জ্ঞান দিতে পারব না। এই লাইব্রেরিতে আপনারা আসবেন এবং জ্ঞানচর্চা করবেন। আপনাদের দেখেই ছাত্রছাত্রীরা, এখানে আসবে এবং জ্ঞানচর্চা করবে।’
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী এম এম মাহমুদুর রহমানের সভাপতিত্বে ও জেলা পরিষদের সদস্য এম এ আজিজের সঞ্চালনায় লাইব্রেরি উদ্বোধন অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন আইন সচিব মো. গোলাম সারওয়ার, কসবা উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রাশেদুল কাওসার ভূঁইয়া, কসবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মদ শাহরিয়ার মুক্তার প্রমুখ।
বিএনপি-জামায়াত ছোটখাটো বিষয়ে অসন্তোষ করার চেষ্টা করে : আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, ‘যেকোনো ছোটখাটো ব্যাপার নিয়ে বিএনপি-জামায়াত সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করে দেশে এক অসন্তোষ সৃষ্টি করার চেষ্টা করে। আপনারা এ ব্যাপারে সতর্ক থাকবেন।’ গতকাল শনিবার বিকেলে আখাউড়া উপজেলা পরিষদ মাঠে উপজেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে গণসংবর্ধনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী আরও বলেন, ‘জননেত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আওয়ামী লীগের হাল ধরে, দেশের হাল ধরে প্রথমবারের মতো ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দেন। প্রত্যেকবার যখন আমরা জনগণের ভোটে নির্বাচন দিই তখন বিএনপি-জামায়াত ষড়যন্ত্র শুরু করে। যাতে তারা পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় আসতে পারে। নির্বাচন যাতে বাংলাদেশে না হয়। গণতন্ত্র যেন বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠা না পায়। জনগণের সমর্থনে প্রত্যেকবার শেখ হাসিনা তাদের ষড়যন্ত্র ধ্বংস করেছেন।’
উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন আশুগঞ্জ-সরাইল আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ড. শাহজাহান আলম সাজু। এ সময় আওয়ামী লীগের পক্ষে বক্তব্য রাখেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র তাকজিল খলিফা কাজল।
এর আগে বিকেলে সংবর্ধনাস্থলে এসে পৌঁছলে মন্ত্রীকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেয় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।