সেতু আছে। নেই সংযোগ সড়ক। সেতুতে চলাচলের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে বাঁশের সাঁকো। কেরানীগঞ্জের কলাতিয়া ইউনিয়নে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের সেতু-কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় সিংহ নদীর খালের ওপর নীলটেক পাকা রাস্তা থেকে পূর্ব আকছাইলে পাশাপাশি দুটি সেতু নির্মাণ করা হয়। যার একটি গত অর্থবছরে, আরেকটি ২০১৫-১৬ অর্থবছরে। নতুন সেতুতে উঠতে হয় বাশের সাঁকো চড়ে। আর পুরনোটি স্থানীয়রা মাটি ফেলে চলাচলের পথ করেছেন। কিন্তু কর্তৃপক্ষ এর দায় নিচ্ছে না।
স্থানীয় বাসিন্দা কামাল হোসেন বলেন, পুরনো সেতু নির্মাণের সাত বছর পেরিয়ে গেলেও তৈরি হয়নি সেতুতে ওঠানামার দুদিকের সংযোগ সড়ক। পরে এলাকাবাসী নিজস্ব অর্থায়নে পুরনো সেতুর দুই প্রান্তে মাটি ফেলে সংযোগ সড়ক তৈরি করে হেঁটে চলার ব্যবহারের যোগ্য করে তোলে। নতুন সেতুটি প্রায় দেড় বছরের মতো হয়েছে। এই ব্রিজটা দেওয়া হয় মূলত স্কুল-মাদ্রাসার জন্য। গত বছর কাজ শেষ হওয়ার পরও এভাবেই ফেলে রাখছে। তিনি আরও বলেন, ‘এলাকার চেয়ারম্যানের কাছেও আমরা বলেছি। খালের ওই পারে স্কুলের সঙ্গে একটা সরকারি হাসপাতাল আছে। কবরস্থান আছে। কিন্তু আমরা লাশ নিয়া যেতে পারি না। একটা মানুষ মারা গেলে ভ্যান দিয়ে অনেক দূর ঘুরে এরপর যেতে হয়।’
পুরনো সেতুর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স সানজীব এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী সানজীব ইসলাম বলেন, ‘আমাদের কাজ শুধু ব্রিজ করা। আট বছর আগে এর সংযোগ সড়ক ছিল, সবই ছিল। এরপরের কাজ তো ইউনিয়ন পরিষদের।’
কলাতিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তাহের আলী বলেন, ‘নতুন ব্রিজটা গত অর্থবছরের। এর কাজ অল্প কিছুদিনের ভেতরেই শেষ করা হবে। গতকাল জেনেছি কিছুদিনের ভেতরে ঠিকাদার সংযোগ সড়ক তৈরি করে দেবেন।’ ২০১৫-১৬ অর্থবছরের সেতুটির ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা অনেকবার মাটি ফেলেছি। মাটি নেমে চলে যায়। মাটি ধরে রাখতে হলে বিশাল দেয়াল নির্মাণ করতে হবে, যা আমার পক্ষে সম্ভব না।’
কেরানীগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের ইস্টিমেটে ধরা নাই, আমরা আবার নতুন ইস্টিমেট করে হেড অফিসে পাঠিয়েছি। আশা করি আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এই নতুন সেতুটির কাজ শেষ হয়ে যাবে।’
২০১৫-১৬ অর্থবছরের প্রকল্পে নির্মাণ হওয়া পাশের পুরনো সেতুটির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ওটা আমি দেখিনি, দেখলে বুঝতে পারব।’