অনলাইনে সরকারবিরোধী প্রচারণার অভিযোগে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থী খাদিজাতুল কুবরার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে রাজধানীর কলাবাগান থানায় করা মামলা আমলে নেয়নি আদালত। ফলে এ মামলা থেকে খাদিজা অব্যাহতি পেয়েছেন বলে জানান সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।
একই অভিযোগে রাজধানীর নিউমার্কেট থানায় করা মামলার বিষয়ে অধিকতর শুনানির জন্য আগামী ২৯ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেছে আদালত।
গতকাল রবিবার ঢাকার সাইবার ট্রাব্যুনালের বিচারক এএম জুলফিকার হায়াত এ আদেশ দেন। আদালতে খাদিজার পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন নজরুল ইসলাম শামীম।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী দেশ রূপান্তরকে বলেন, কলাবাগান থানার মামলা আমলে নেয়নি ট্রাইব্যুনাল। এ মামলা থেকে অব্যাহতি পেলেও নিউমার্কেট থানার মামলার ওপর অধিকতর শুনানি হবে।
তিন বছরের বেশি সময় আগের পৃথক দুই মামলায় খাদিজাকে কারাগারে নেওয়া হয় ২০২২ সালের ২৭ আগস্ট। দুই মামলায় অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেনকেও আসামি করা হলেও তিনি এখনো পলাতক।
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে নানা বিতর্কের মধ্যে খাদিজার বিরুদ্ধে মামলা ও তাকে গ্রেপ্তারের ঘটনা ব্যাপক আলোচিত হয়। বিচারিক আদালতে একাধিকবার জামিন নাকচ হওয়ার পর হাইকোর্টে জামিনের আবেদন করা হলে গত বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট খাদিজাকে জামিনের আদেশ দেয়। তবে রাষ্ট্রপক্ষ জামিন স্থগিতের আবেদন করলে ১৯ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত জামিন স্থগিত করে বিষয়টি শুনানির জন্য আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠায়।
গত বছরের ১০ জুলাই আপিল বিভাগ এক আদেশে খাদিজার জামিন শুনানি চার মাস মুলতবি (স্ট্যান্ডওভার) করে। ফলে এ সময় পর্যন্ত তার জামিন স্থগিত থাকে। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষ হাইকোর্টের দেওয়া জামিনের আদেশের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতির আবেদন) করে। গত ১৬ নভেম্বর আপিল বিভাগ রাষ্ট্রপক্ষের আপিল খারিজ করে রায় দিলে খাদিজার মুক্তির পথ খোলে। জামিনের পর ২০ নভেম্বর গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে ওই দিন তিনি জগন্নাথ বিশ^বিদ্যালয়ে একটি পরীক্ষায় অংশ নেন।