‘চীনপন্থি’ মুইজ্জুকে সরাতে অভিশংসনের উদ্যোগ

এবার অভিশংসনের মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জু যিনি ‘চীনপন্থি’ হিসেবে পরিচিতি। ভারত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্রটির প্রধান বিরোধী দল ‘মালডিভিয়ান ডেমোক্রেটিক পার্টি (এমডিপি)’ এবং আরেক দল ‘দ্য ডেমোক্র্যাটস’ এই উদ্যোগ আনতে যাচ্ছে। দলটি এরই মধ্যে অভিশংসনের পক্ষে সই সংগ্রহের কাজ শুরু করেছে।  

গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জু গত বছর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়লাভ করলেও আইনসভায় বিরোধী দল এমডিপি সংখ্যাগরিষ্ঠ।

সম্প্রতি মুইজ্জুর প্রশাসন চীনের একটি জরিপ জাহাজকে মালে বন্দরে ভিড়তে অনুমতি দিয়েছে। এর পরই বিরোধীরা প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরুর সিদ্ধান্ত নেয়। এ নিয়ে দেশের আইনসভায় গত রবিবার বেশ হইচই হয়। দেশের প্রধান বিরোধী শিবির ‘ভারতপন্থি’ বলে পরিচিত। সর্বশেষ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ‘ভারতপন্থি’ নেতা বলে পরিচিত মোহাম্মদ সোলিহ পরাজিত হন।

মালদ্বীপের সাবেক প্রেসিডেন্ট আব্দুল্লাহ ইয়ামিনের নেতৃত্বাধীন ‘প্রগ্রেসিভ ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেসের (পিএনসি)’  সঙ্গে মতবিরোধের জেরে ‘প্রগ্রেসিভ পিপলস পার্টি (পিপিএম)’ গঠন করে সোলিহর বিরুদ্ধে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ হন ম্ইুজ্জু। তবে চীনের জাহাজকে ভিড়তে দেওয়া নিয়ে গত রবিবার আইনসভায় বিরোধী দলের আইনপ্রণেতারা  পিএনসি এবং পিপিএম যৌথ বিরোধিতার মুখে পড়ে।

ক্ষমতায় আসার পর থেকে মুইজ্জু নানা নীতি গ্রহণ করেন যা মালদ্বীপের রাজনীতি ও অর্থনীতিতে ভারতের দীর্ঘদিনের প্রভাবকে চ্যালেঞ্জে  করছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিয়ে মন্ত্রীদের কটূক্তি করা নিয়ে সম্পর্ক তলানিতে। ভারতীয় সেনা ঘাঁটি সরিয়ে নিতেও সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন মুইজ্জু। কিন্তু বিরোধীরা ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে গুরুত্ব দিতে চান।   

অভিশংসনের প্রস্তাবের কথা জানিয়ে বিরোধী দল এমডিপি এবং দ্য ডেমোক্র্যাটসের তরফ থেকে বলা হয়েছে, ‘মুইজ্জুর প্রশাসন যেসব নীতি নিয়ে ভারতবিরোধী অবস্থান গ্রহণ করছে তা দেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের জন্য ব্যাপকভাবে ক্ষতিকর।’