ইজতেমা হোক হেদায়েতের আলোকবর্তিকা

প্রতিবছর টঙ্গীর তুরাগ নদের তীরে তাবলিগ জামাতের বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়। এবারও আগামী ২ ফেব্রুয়ারি, শুক্রবার শুরু হচ্ছে এই গণজমায়েত। বিশ্ব ইজতেমা আজ আমাদের দেশের জন্য একটি গর্বের ধন। আমরা এই ইজতেমার কারণে বিশ্বে পরিচিত। বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে বাছাই করা আল্লাহর প্রিয় বান্দারা এখানে সমবেত হন। তাদের জানমাল উৎসর্গ করেন। দ্বীনের প্রচার-প্রসারের ব্যাপারে ফিকির করেন। এখানে শরিক হতে পারাটা নিঃসন্দেহে যেকোনো মানুষের জন্য হেদায়েতের একটা বড় উপলক্ষ হতে পারে।

লাখো মানুষের এই জমায়েতে অনেক বড় আউলিয়া গাউস কুতুবরাও থাকবেন। যাদের সিনার ভেতরে আল্লাহ পাকের মহব্বত, তার ভয়ভীতির নুর ঝলমল করে। এজন্য যাদের সুযোগ আছে সবারই এখানে উপস্থিত হওয়াটা দরকার। কারণ আল্লাহওয়ালাদের সান্নিধ্য অনেক বড় নেয়ামত। আল্লাহকে পেতে চাইলে তার প্রিয় বান্দাদের সান্নিধ্য জরুরি। বিশেষ করে বর্তমান প্রেক্ষাপটে যখন সব দিকে ফেতনা চলছে, তাবলিগের মতো একটি স্বচ্ছ ও ইখলাসপূর্ণ কাজকেও বিতর্কিত করার চক্রান্ত অব্যাহত আছে। মহৎ এই কাজকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র করছে কোনো কোনো মহল। এজন্য বর্তমানে এই কাজের সঙ্গে যুক্ত হওয়া আরও বেশি প্রয়োজন।

উলামায়ে কেরাম জাতির অভিভাবক, উম্মতের রাহবার। আল্লাহর রাসুল (সা.) উলামায়ে কেরামকে এই মর্যাদায় ভূষিত করে দিয়ে গেছেন। নবীজি (সা.) বলেছেন, উলামায়ে কেরামের নবী-রাসুলদের উত্তরাধিকারী। নবী করিম (সা.) খাতামুন নাবিয়্যিন বা শেষ নবী। তার পরে আর কোনো নবী আসবেন না। বর্তমান যুগে আলেমরাই নবী-রাসুলদের স্থলাভিষিক্ত। এই যুগে নবীওয়ালা কাজ আলেমদের মাধ্যমেই হচ্ছে। সুতরাং মুসলিম জাতি তাদের অভিভাবকদের ছেড়ে যদি এদিক-সেদিক চলা শুরু করে তাদের পদস্খলন হবে, দুর্ঘটনা ঘটবে। যে দ্বীনি কাজে আলেমদের অভিভাবকত্বের ছায়া নেই, সেই কাজ কখনো কামিয়াব হয় না, এটা পরীক্ষিত সত্য। এজন্য যেকোনো মূল্যে আলেমদের সঙ্গে থাকতে হবে, তাদের ছায়ায় থেকেই দ্বীনের কাজ করতে হবে।

ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের প্রতি আমার আহ্বান থাকবে, উলামায়ে কেরামের নেতৃত্ব ও তত্ত্বাবধানে যে ইজতেমা হতে যাচ্ছে, সেখানে যেন সবাই অংশগ্রহণ করে। স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই কাজকে যেন সবাই মিলে এগিয়ে নিয়ে যায়। সঙ্গে সঙ্গে এই আহ্বানও জানাব, যারা মহৎ এই কাজে ফেতনা সৃষ্টি করতে চায়, তাদের ব্যাপারে সবাই সতর্ক থাকবেন। হেকমত ও কৌশলের সঙ্গে চলবেন। এমন কিছু করা যাবে না যাতে সাধারণ মানুষের কাছে ভুল বার্তা যায়। সাধারণ মানুষের মধ্যে যেন আলেমদের সম্পর্কে কোনো কুধারণা সৃষ্টি না হয়।

তাবলিগ জামাত আজ বিশ্বব্যাপী সমাদৃত কাফেলা। এর সূচনা করেছেন হজরত মাওলানা ইলিয়াস (রহ.), যিনি একজন বিখ্যাত দেওবন্দি আলেম ছিলেন। শুরু থেকেই এই কাজের পৃষ্ঠপোষকতা করে এসেছেন উলামায়ে দেওবন্দ। যত দিন এই কাজ উলামায়ে কেরামের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে, তত দিনই এটি নিরাপদ। তত দিনই এর দ্বারা উম্মতের হেদায়েত নসিব হবে। আল্লাহপাক মকবুল এই কাজকে সব ধরনের ফেতনা থেকে নিরাপদ রাখুন। সবাইকে খালেস দ্বীনের জন্য কাজ করার তাওফিক দিন। আগত ইজতেমাকে গোটা উম্মতের হেদায়েতের অসিলা করুন।