মাতৃগর্ভে শিশুর লিঙ্গ পরিচয় প্রকাশ করা যাবে না এমন নীতিমালা তৈরি করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। নীতিমালা অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি, সংগঠন, হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ল্যাবরেটরি, নার্সিং হোম কোনো লেখা, চিহ্ন বা অন্য কোনো উপায়ে মাতৃগর্ভে থাকা শিশুর লিঙ্গ পরিচয় প্রকাশ করতে পারবে না।
মাতৃগর্ভে থাকা শিশুর লিঙ্গ পরিচয় প্রকাশ বন্ধে ২০২০ সালে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করেছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও শিশু অধিকারকর্মী অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান। ওই বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট সরকারকে এ বিষয়ে নীতিমালা প্রণয়ন করার প্রশ্নে রুল দেয়। একই সঙ্গে গর্ভজাত শিশুর লিঙ্গ নির্ধারণ বন্ধ করতে নীতিমালা না করার ব্যর্থতা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না রুলে তা জানতে চাওয়া হয়। স্বাস্থ্য সচিব ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে রুলের জবাব দিতে বলা হয়।
গতকাল রবিবার ইশরাত হাসান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এ নীতিমালাটি আমাদের হাতে এসেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, তারা আদালতের রুলের পরিপ্রেক্ষিতে এটি করেছে। আমরা রুলের শুনানি করব। এ বিষয়ে শুনানিতে বিস্তারিত বক্তব্য তুলে ধরা হবে।’
ওই সময় রিট আবেদনের যুক্তিতে আইনজীবীরা বলেছিলেন, বাংলাদেশে কোনো গর্ভবতী মায়ের কন্যাসন্তান হওয়ার খবর শুনে এক শ্রেণির পরিবার বিষয়টি নেতিবাচকভাবে দেখে। কোনো কারণে দ্বিতীয় বা তৃতীয়বার কন্যাসন্তানের খবর শোনার পর ওই গর্ভবতী মায়ের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের ঘটনাও ঘটে। এতে করে গর্ভবতীর যেমন সমস্যা হয় তেমনি অনাগত কন্যাসন্তানের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ব্যাহত হয়। শুধু তাই নয়, কন্যাশিশু জন্মের পর তার প্রতি কিছু পরিবার উদাসীন থাকে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিচর্যা) ডা. তাহমিনা সুলতানা স্বাক্ষরিত নীতিমালাটি গত ২০ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টে জমা দেওয়া হয়। ‘ন্যাশনাল গাইডলাইন ফর দি প্রিভেনশন অব সন পিরেফারেন্স অ্যান্ড রিস্ক অব জেন্ডার বায়াজড সেক্স সিলেকশন, ২০২২’ শীর্ষক গর্ভে থাকতে সন্তানের পরিচয় প্রকাশকে গর্ভবতী নারীর জন্য ভীষণ ঝুঁকিপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়। সেখানে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের ২০১৯ সালের একটি গবেষণার তথ্য উল্লেখ করে বলা হয়, ২৮ শতাংশ মা ও বাবা তাদের প্রথম সন্তান হিসেবে ছেলের প্রত্যাশা করে। এমন অবস্থায় ওই নারীর গর্ভে যদি কন্যাসন্তানের পরিচয় প্রকাশ পেয়ে যায়, তাহলে ওই নারীসহ পরিবারের ওপর নানা ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
এই নীতিমালা বাস্তবায়নের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর ও নার্সিং অ্যান্ড মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের নাম সুপারিশ করা হয়। বাস্তবায়নের অংশীজন হিসেবে মহিলা ও শিশু মন্ত্রণালয়, তথ্য মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, আইন বিচার মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নাম সুপারিশ করা হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ওপর নানা ধরনের নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে এই নীতিমালায়।